টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চুনতি পানত্রিশায় শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে বীর বিক্রম জয়নুল আবেদীন উচ্চ বিদ্যালদয়

রায়হান শিকদার
লোহাগাড়া প্রতিনিধি

ppmচট্টগ্রাম, ২০  নভেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):  লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের পানত্রিশা গ্রামে পাহাড় জঙ্গল বেষ্টিত বন্ধুর জনপথ। অধিকাংশ মানুষ পেশায় দিন মজুর।অতি অল্প সংখ্যক মানুষ কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল। তবে, মধ্যবিত্তরা বন জঙ্গলের বনজ সম্পদ নিয়ে ব্যাতি ব্যস্ত থাকেন সর্বদাই। পাশের গ্রাম গুলোর নাম হল যথাক্রমে ফারাঙ্গা, কিল্লাওলা, মনদুলার চর,সড়াইয়া ও নারিশ্চা। এলাকার বিশাল জনগোষ্ঠি অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থান সংকটে দিশেহারা। তদুপরি জ্ঞানের আলো ছড়াতে ছিলনা কোন উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এলাকার শিক্ষার্থীদের কে আনুমানিক এই গ্রাম হতে ৮ কি.মি. অদূরে পুটিবিলা উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে লেখাপড়া করতে হতো। দুর্গম পাহাড়ী এলাকা অতিক্রম করে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা বহু ব্যবধানে পড়াশোনা করতে হতো। ফলে, এলাকায় হ্রাস পায় শিক্ষার হার এবং শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয় দরিদ্র পরিবারের খেটে খাওয়া মানুষের সন্তানেরা। এই এলাকায় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠুক তা ঐ এলাকায় কারো কারো দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারেননি। শিক্ষার এহেন শোচনীয় অবস্থায় জনগনের পাশে এসে দাড়ান লোহাগাড়ার সর্বস্তরের প্রিয় মানুষ ও লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহজাহান পি পি তম (বার)। তিনি স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বর্গের সহযোগিতায় এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেন চুনতির গর্বিত সন্তান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় সামরিক সচিব মেজর জয়নুল আবেদীন বীর বিক্রম পি,এস.সি নামকরণে বীর বিক্রম জয়নুল আবেদীন উচ্চ বিদ্যালয়টি ২০১৫ সালের ১৫্ ই ডিসেম্বর এর বিদ্যালয়টির গোড়াপত্তন হয়। শিক্ষার অগ্রযাত্রায় শোচিত হয় ঐ এলাকার নতুন প্রাণের সঞ্চার। খেটে খাওয়া মানুষের মনে আনন্দ উল্লাস বয়ে যেতে শুরু করে। দলে দলে ছুটে আসে তাদের সন্তানদের ভর্তি করে দেওয়ার জন্য। সূচনায় ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৩১০ জন। ৩১০ জন শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা শুরু করে। শিক্ষার পরিবেশ দেখে এলাকার মানুষ পরবর্তীতে আরো অনেক সন্তানদেরকে স্কুলে ভর্তি করান তাদের অভিভাবকরা । ফলে বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাড়িয়েছে ৫২০ জন। শিক্ষক শিক্ষিকার সংখ্যা ১০ জন । কর্মচারী ২জন। অতি অল্প সময়ের মধ্যে স¦ল্প সংখ্যাক লোকবল নিয়ে বিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রায় ঐ এলাকায় একটু নতুন চমক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সচেতন মহল মনে করেন, উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানত্রিশা এলাকায় শিক্ষাজ্ঞান প্রসারে অভূতপুর্ব অবদান রাখতে সক্ষম হবে। তবে এহেন দূর্গম পাহাড় এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ঝাকিয়ে তোলা একান্ত প্রয়োজন । সরকারের সুদৃষ্টি তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের আন্তরিকতা ও সুদৃষ্টি পড়লে উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আরো উন্নয়নের পথে এগিয়ে গিয়ে শিক্ষাক্ষেত্রে বিশাল অবদান রাখতে সক্ষম হবে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আককাছ আলী বলেন, বিদ্যালয়ের সৃষ্টিলগ্ন হতে তারা বিভিন্ন সময়ে এলাকার উঠান বৈঠকে মিলিত হন এবং বিভিন্ন বৈঠকে এলাকার শিক্ষানুরাগী ও অভিভাবক উপস্থিত থাকতেন। তাদের কাছে শিক্ষার আগ্রহ দেখে লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহজাহান পিপিএম (বার) বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে নিরলস পরিশ্রম করে এই বিদ্যালয় কে এই পর্যন্ত উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে আসেন। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত কার্যক্রম পুরোদমে চলছে। আগামীতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরো ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদী। বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী নূর মোহাম্মদ বলেন, তাদের বিদ্যালয়ে সকল শিক্ষক খুব বেশি আন্তরিকভাবে পাঠদান করান। এলাকার শিক্ষার্থীর বাবা আবুল কাসেম বলেন, তাদের সন্তানেরা দীর্ঘ ৮ মাইল হেটে ভোরে ঘুম থেকে পুটিবিলা উচ্চ বিদ্যালয়ে যেতে হত। কিন্তু তাদের এলাকায় বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল জয়নুল আবেদীন বীর বিক্রম পি.এস.সি এবং লোহাগাড়া থানার ওসি মোঃ শাহজাহান পি.পি.এম (বার) এর আন্তরিক প্রচেষ্টায় এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হওয়ায় তাদের সন্তানেরা সুন্দরভাবে লেখাপড়া করতে পারছে। তিনি বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিকে ধন্যবাদ জানান। এই ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, লোহাগাড়ার সর্বস্থরের প্রিয় মানুষ, থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহজাহান পিপিএম (বার) এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, অতীতের যে কোন এক সময় স্বীয় দায়িত্ব পালন কালে ঐ দূর্গম এলাকায় গিয়েছিলাম। কেটে খাওয়া মানুষদের সন্তানেরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হতে দেখে তিনি খুব বেশি বিচলিত হয়ে পড়েন। তিনি পরে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে জায়গা ক্রয় ও সংগ্রহ করেন। তিনি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য আরো বেশি অনুপ্রাণিত হয়ে পড়েন। নিজের অর্থায়নে তিনি দু’টি ভবন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি আরো বলেন, বিদ্যালয় ভবন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদান রেখেছেন তার সহধর্মীনি ফেরদৌস আরা (পাপড়ী)। তিনি একটি বিদ্যালয় ভবন তার নামে নামকরণ করে পাপড়ী ভবন রেখেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করছেন, স্থানীয়রা যদি আগামীতে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সহায়তা দানে এগিয়ে আসলে তাহলে তিনি উক্ত বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে পুরোদমে সাফল্য বয়ে আনতে সক্ষম হবেন। এছাড়াও পানত্রিশা এলাকার কৃতি সন্তান চুনতি ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সহযোগীতা করেন। এবং বিদ্যালয়ের জন্য ১০ শতক জায়গা দান করেন পুটিবিলা এমচর হাটের কৃতি সন্তান প্রবীন ব্যবসায়ী আবদুস ছামাদ সওদাগর। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ শাহাজাহান পি.পি.এম (বার) লোহাগাড়ার সর্বস্থরের জনসাধারণের কাছে দোয়া ও সহযোগীতা কামনা করেছেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত