টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে অসন্তষ, গণহারে পদত্যাগ

কক্সবাজার ব্যুরো
সিটিজি টাইমস ডটকম 

চট্টগ্রাম, ২০  নভেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):  কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের ঘোষিত নতুন কমিটি নিয়ে বিতর্ক ও অসন্তুষ ছড়িয়ে পড়ছে। শুরু হয়েছে গণহারে পদত্যাগ। কয়েকজন সহ-সভাপতি, যুগ্ম-সম্পাদকসহ এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক নেতা পদত্যাগ করেছেন। ২০১৪ সালের ১ জুলাই ঘোষিত জেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটির ‘টপ সেভেন’র ৪ জনই বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে। তাছাড়া ৪২৫ সদস্যবিশিষ্ট জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ীকেও অন্তুর্ভুক্ত করার অভিযোগ রয়েছে।

দলের সিনিয়র নেতাদের মতামত উপেক্ষা করে বিতর্কিতদের কমিটিতে রাখায় প্রশ্নবিদ্ধ করেছে দীর্ঘ একযুগ পরে ঘোষিত জেলা ছাত্রদলের নতুন এই কমিটি। অনেকে এই কমিটিকে ‘খুশি কমিটি’, ‘জাম্বু কমিটি’, বিকাশ কমিটি’ ইত্যাদি আখ্যায়িত করেছে।

গত ২৪ অক্টোবর ৪২৫ সদস্যবিশিষ্ট জেলা ছাত্রদলের কমিটি অনুমোদন হয়। যা জেলা ছাত্রদলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বিতর্কের রেকর্ড বলে জানা গেছে।

অভিযোগ করা হয়- টাকার বিনিময়ে অনেককে কমিটিতে স্থান দেওয়ার। ঘোষিত কমিটিতে মাদক ব্যবসায়ী, মাছ ব্যবসায়ী, পানের দোকানদারদের রাখা হয়েছে। এমনকি দলীয় কর্মকান্ডে একদিনও যুক্ত ছিলনা এমন লোকদেরও পদবী দিয়ে ‘সম্মানিত’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ আনেন পদবঞ্চিত ও অপমানিত নেতারা।

জেলা ছাত্রদলের ঘোষিত এই কমিটি থেকে পদত্যাগকারীদের মধ্যে কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হচ্ছেন- জেলা কমিটির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াছ, গিয়াস উদ্দিন, যুগ্ম-সম্পাদক মিনহাজ উদ্দিন, সহ-সাধারণ স¤পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন রিয়াদ, নুরুল আনছার, সহ-সাংগঠনিক স¤পাদক মোঃ শাহজাহান, কায়সার ফারুক, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মো. ওবাইদুল্লাহ নূর সিদ্দিকী, সহ সাহিত্য ও প্রকাশনা স¤পাদক আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ বাবু, শামীম সরওয়ার, সহ-মানবাধিকার বিষয়ক স¤পাদক জিয়াউল হক বাবু, সহ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক স¤পাদক মোঃ হোসাইন, সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক স¤পাদক শাহাব উদ্দিন, সহ-পরিবেশ ও জলবায়ূ বিষয়ক স¤পাদক কুতুব উদ্দিন, সদস্য আকিক মামুন, সাজ্জাদুল ইসলাম, মো. এনাম উদ্দিন, রেজাউল করিম, সাইফুল ইসলাম বিন্দু, আব্দুল্লাহ আল নোমান সুমন, ফয়সাল শিপন, হাসান মুরাদ, ওসমান সরওয়ার, ইরফান খান, মাহবুবুর রহমান, রেজাউল হক, তাইশাদ সাব্বির, মো. আবদুল্লাহ মেহেদী হাসান মানিক।

অভিযোগ হলো- ৪২৫ জনের জেলা কমিটিতে বিভিন্ন উপজেলা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। বরং জেলা সভাপতি-সম্পাদকের পছন্দের লোকদের নেতৃত্বে আনা হয়েছে।

মহেশখালী ছাত্রদলের কমিটির মেয়াদ পূর্ণ না হলেও ওই কমিটি ভেঙে দিয়ে পছন্দের লোকজন দিয়ে নতুন কমিটি মাঠে দাঁড় করানো হয়েছে।

পূর্বের কমিটির সভাপতি আজিুল করিম জয় ও সাধারণ সম্পাদক মোরশেদুল আলমকে জেলা কমিটির সদস্য পদেও রাখা হয়নি।

বিশেষ করে, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃত্ব তৈরীর কারখানা হলেও জেলা কমিটিতে তাদের কদর করা হয়নি। জেলার ৫টি বিশ্ববিদ্যালয় মানের কলেজ যেমন- রামু কলেজ, উখিয়া কলেজ, ঈদগাহ কলেজ, টেকনাফ কলেজ, মহেশখালী কলেজ এর কোন প্রতিনিধি জেলার সম্পাদকীয় পদে রাখা হয়নি।

জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ কক্সবাজার সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমানকে রাখা হয়েছে জেলা কমিটির ৬ নং যুগ্ম-সম্পাদকীয় পদে। এরকম আরো অসংখ্য নেতাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। অন্যদিকে সভাপতির ছোট ভাই জাহেদুল হককে রাখা হয়েছে তারও ওপরে। জাহেদ, পেশাগত একজন শিক্ষক। দলীয় কর্মকান্ডে তার তেমন সম্পৃক্ততা ছিলনা।

জেলা ছাত্রদলের কেন্দ্র ঘোষিত ‘টপ সেভেন’ এর যুগ্ম-সম্পাদক-২ জাহেদুল ইসলাম রিটনকে পূর্ণাঙ্গ কমিটির সহ-সভাপতি করা হয়েছে। অথচ এ বিষয়ে কেন্দ্রের কোন নেতাকে অবহিত কিংবা পদ পরিবর্তন সংক্রান্ত কোন নোটিশ করা হয়নি। এটিকে সাংবিধানিক বিধি পরিপন্থি মনে করছেন দলীয় নেতারা।

২০১৪ সালের ১ জুলাই জেলা ছাত্রদলের সাত সদস্যের (আংশিক) কমিটি অনুমোদন দেন দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব।
ঘোষিত কমিটিতে রাশেদুল হক রাসেল সভাপতি, সরওয়ার রোমন সিনিয়র সহ-সভাপতি, সহ-সভাপতি আবদুর রউফ, মনির উদ্দিন মনির সাধারণ সম্পাদক, আলাউদ্দিন রবিন, জাহেদুল ইসলাম লিটন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং শাহীনুল ইসলাম শাহীন সাংগঠনিক সম্পাদক হন।

কেন্দ্র ঘোষিত এই ‘টপ সেভেন’ থেকে দুইনজন ছাড়া বাকীরা বিরোধী অবস্থানে রয়েছে।

এরা হলেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি সরওয়ার রোমন, সহ-সভাপতি আবদুর রউফ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন রবিন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীনুল ইসলাম শাহীন।

তবে, পূর্ণাঙ্গ কমিটির সাথে তারা একমত না হলেও দলীয় কর্মকান্ড থেকে সরে দাঁড়ায়নি। পৃথকভাবে বিভিন্ন দলীয় কর্মসুচিও পালন করছে তারা।

শহর ছাত্রদলের আহবায়ক মোহাম্মদ ইলিয়াছকে নতুন জেলা কমিটির সহ-সভাপতি পদ দেয়া হয়। কিন্তু তিনিও সেই পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

তার পদত্যাগের কারণ জানতে চাইলে বলেন, কমিটি গঠনের বিষয়ে জেলা বিএনপির সিনিয়র একজন ছাড়া বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের আর কারো মতামত নেয়া হয়নি। আন্দোলন-সংগ্রামের অনেক ত্যাগী কর্মী এই কমিটিতে মূল্যায়িত হয়নি। দলের জন্য কারা নির্যাতিতরাও উপেক্ষিত হয়েছে।

জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন রিয়াদের কাছে মুঠোফোনে বিরোধের কারণ জানতে চাইলে বলেন, ৪২৫ জনের জেলা কমিটি গঠনের ব্যাপারে আমাদের মতামত নেয়া হয়নি। সেটি পছন্দের কমিটি। কমিটি থেকে ত্যাগীদের বাদ দেয়া হয়েছে।

জেলা কমিটি থেকে পদত্যাগকারী আরেক সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দিন। তিনি টেকনাফ উপজেলা ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি। নতুন কমিটিতে অবমূল্যায়ন, স্বেচ্ছাচারিতা ও কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগে জেলা ছাত্রদলের ‘সহ-সভাপতি’র পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে গিয়াস উদ্দিন জানান। ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি দুঃখভরে লিখেছেন, প্রজাপতির পিছনে ছুটে সময় নষ্ট করো না। ফুলের চাষ করো- দেখবে প্রজাপতিই তোমার পিছনে ছুটবে।

এ প্রসঙ্গে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল হক রাসেল বলেন, নতুন কমিটিতে যথাসম্ভব যোগ্য ছাত্রনেতাদের স্থান দেয়া হয়েছে। তার মতে, যে কোন বড় সংগঠনের সকল নেতা-কর্মীই চায় কমিটিতে স্থান পেতে। কিন্তু সবাইকে স্থান দেয়া কখনোই সম্ভব হয় না। তাই কখনো কখনো বিরোধ তৈরি হয়।

রাসেল আরো বলেন, আমরা শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিক, বিরোধীয় সংগঠনের নেতা-কর্মী নই। আমরা সবসময় একসাথে একই মায়ের পেটের ভাইয়ের মতোই রাজনীতি করি। যারা কমিটিতে স্থান পাননি তাদের আগামি দিনের নেতৃত্বের জন্য অপেক্ষা থাকার আহবান জানান জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাসেল।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত