টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টিতে বাংলাদেশ বেতারের ভূমিকা অতুলনীয়

11চট্টগ্রাম, ১৯ নভেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):  বাংলাদেশ বেতার বাংলাদেশের গণমানুষের গণমাধ্যম। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশ বেতারের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা আমরা গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রোধ ও সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ সহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ, আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টিতে বাংলাদেশ বেতারের ভূমিকা অতুলনীয়। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় ইন্দোনেশিয়া ও চীন থেকে একাধিক আন্তর্জাতিক অভিজাত শ্রেণীর পুরস্কারপ্রাপ্ত বেতার শ্রোতা সংগঠন সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাব (সার্ক)-এর ৬টি নতুন শাখা গঠন উপলক্ষে শ্রোতা আনন্দমেলা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কথাগুলি বলেন বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মাহাবুবুল আলম।

১৬ নভেম্বর, বুধবার বিকেল সাড়ে তিনটায় চট্টগ্রাম বোয়ালখালী উপজেলার জৈষ্ঠ্যপুরা গুচ্ছগ্রাম মাঠে “শ্রোতা আনন্দমেলা” অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ বেতার, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের আঞ্চলিক পরিচালক এস.এম আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সালাহ উদ্দীন চৌধুরী, বোয়ালখালী ৮নং শ্রীপুর খরণদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোকারম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন, বাংলাদেশ বেতার, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের উপ-আঞ্চলিক পরিচালক শাহীন আক্তার এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন, সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাব (সার্ক)-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান দিদারুল ইকবাল ও বোয়ালখালী উপজেলা শাখার সভাপতি শাহ মো. ইউনুছ আনসারী।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মাহাবুবুল আলম আরো বলেন, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন প্রতিরোধ ও সুষ্ঠু সংস্কৃতির চর্চার মাধ্যমে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের লালন ও বিকাশে বাংলাদেশ বেতারের প্রয়াস অনবদ্য। এছাড়া দুর্যোগ বার্তা, আবহাওয়া বার্তা নিয়মিত প্রচারের মাধ্যমে বাংলাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সাফল্য অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বেতারের কোন বিকল্প নেই। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সরকারের গৃহীত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তৃনমূলের জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্য বাংলাদেশ বেতার প্রশংসার দাবীদার। বাংলাদেশ বেতারের বিভিন্ন অনুষ্ঠান শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে শ্রোতাক্লাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া বেতারের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের অনুষ্ঠান শ্রবণের মাধ্যমে আমরা নিজেদের আন্তর্জাতিক শ্রোতাতে উন্নীত করতে পারি। আমি বেতার শ্রোতা সংগঠন একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাব (সার্ক)-এর সার্বিক সাফল্য ও উত্তরোত্তর উন্নতি কামনা করছি।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্যে সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাব (সার্ক)-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান দিদারুল ইকবাল বলেন, বেতারের অনুষ্ঠান বা তথ্য আমাদের ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ তথা রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে তার ফলাফল বা মূল্য সাধারণত চোখে দেখা যায়না কিন্তু এর প্রভাব আমরা দেরিতে হলেও উপলব্ধি করতে পারি। আমরা বর্তমান ডিজিটাল সমাজে বসবাস করলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কাছে সকল আধুনিক মিডিয়া অসহায় কিন্তু সেখানে একমাত্র বেতার-ই মহানায়কের ভূমিকা পালন করে থাকে। বিপদের একমাত্র বন্ধু হিসেবে দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় মানুষের পাশে থাকে এই রেডিও বা বেতার। কাজেই বেতারের প্রয়োজনীয়তা আগেও যেমন ছিলো, এখনো আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে এবং এর প্রয়োজন কখনো ফুরাবেনা। ১৯৯১ সালের ২৯শে এপ্রিল স্মরণাতীতকালের ভয়াবহতম প্রলঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ¡াসের সময় বাংলাদেশ বেতার, চট্টগ্রাম থেকে প্রচারিত আবহাওয়া অধিদপ্তরের জরুরী সতর্ক বার্তাটি কিভাবে দিদারুল ইকবাল সহ তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে ছিলো এবং তাদের বাড়ীর অন্য পরিবারের ১৫ জন নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও যুবকের মৃত্যু হয়েছিলো, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ¡াসের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞে তাদের বাড়ীর প্রতিটি ঘর, গাছ-পালা লণ্ডভণ্ড করে মরুভূমি বানিয়ে দিয়েছে তার স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, ঐসময় ঘূর্ণিঝড়টি ঘন্টায় ১৮০ থেকে সর্বোচ্চ ২৫০ কিলোমিটার গতিতে কক্সবাজার, চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, আনোয়ারা, স›দ্বীপ সহ দেশের উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে। সাথে ২৫ থেকে ৩০ ফুট উঁচু জলোচ্ছ¡াসের পানি মানুষের স্বপ্ন নিমিষেই ভাসিয়ে নিয়ে যায়। সেই সাথে ভেসে যায় মানুষ, ঘরবাড়ী, সহায় সম্বল, গৃহপালিত পশুপাখি সবকিছু। লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় উপকূলীয় এলাকা। প্রাণহানি ঘটে প্রায় তিন থেকে চার লক্ষ মানুষের এবং ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিলো হাজার কোটি টাকার সম্পদ।

দিদারুল ইকবালের সেই ১৯৯১ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ¡াসের সাথে মুখমোখি হওয়ার বর্ণনা শুনে উপস্থিত সকলে নিস্তব্দ হয়ে যায়।

দিদারুল ইকবাল তরুণ ও যুব সমাজের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা বেতার শুনুন, বেতারে আপনার মূল্যবান পরামর্শ ও মতামত দিয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখুন। বেতারের যে কোন অনুষ্ঠান কোন না কোন ভাবেই আপনার শিক্ষা জীবন, কর্মজীবন, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে নিশ্চিত কাজে লাগবে।

স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ বেতার, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের উপ-আঞ্চলিক পরিচালক শাহীন আক্তার বলেন, বেতার জনগণের কথা বলে, সে জনগণ-ই হলেন আপনারা। আপনাদের জন্য আমরা নির্মাণ করি বিনোদন মূলক, শিক্ষা মূলক, তথ্য সমৃদ্ধ এবং উদ্বুদ্ধকরণ মূলক নানা অনুষ্ঠান। দেশের সর্বস্তরের জনগণকে জ্ঞানে, কর্মে, শিক্ষা, সংস্কৃতিতে উন্নত মানসিকতায় গড়ে তোলায় হলো আমাদের বেতার অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। আর বেতার শ্রোতা ক্লাব হলো বেতার এবং শ্রোতার মাঝে সেতুবন্ধন। অর্থাৎ আপনারাই হলেন আমাদের বেতারের প্রাণ। বেতার অনুষ্ঠানের ভালো লাগা, মন্দ লাগা, আনন্দ-বেদনার অনুভূতি এবং আপনাদের মূল্যবান পরামর্শের জন্য আমরা অধির অপেক্ষায় থাকি। তাই আমরা আশা করি আপনারা আমাদের কাছে চিঠি লিখে, এসএমএস পাঠিয়ে বা ই-মেইল করে অনুষ্ঠান সম্পর্কে মূল্যবান মতামত জানিয়ে নিজে সমৃদ্ধ হবেন, আমাদেরকে সমৃদ্ধ করবেন। নিজে জানবেন, অন্যকে জানাবেন এবং দেশের অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবেন।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে, সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাব (সার্ক)-এর বোয়ালখালী উপজেলা শাখার সভাপতি শাহ মো. ইউনুছ আনসারী বলেন, আমরা নিয়মিত বেতারের অনুষ্ঠান শুনে চিঠি লিখে যাচ্ছি, আমাদের মতামত জানাচ্ছি, আগামীতেও এটি অব্যাহত থাকবে। বেতার আমাদেরকে যেভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে, তেমনি আমরা স্থানীয় ভাবে সরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা পেলে আমাদের ক্লাবও সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে দেশের উন্নয়নের কিছুটা হলেও অংশীদার হতে পারবে। তাই আমি আশা করবো উপজেলা প্রশাসন সহ সরকারের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও আমাদের ক্লাবকে সহযোগিতা করবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বোয়ালখালী ৮নং শ্রীপুর খরণদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোকারম বলেন, বেতার বাংলাদেশের উন্নয়নে অনেক ভূমিকা রাখে। তিনি তার শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন এই বেতার-ই ছিলো মানুষের বিনোদন ও তথ্যের একমাত্র মাধ্যম। আমার এখনো মনে আছে, আমি যখন ক্লাস সিক্স-সেভেনে পড়তাম তখন সকাল ৮টায় শেপালী ঘোষ ও কল্যাণী ঘোষের ২টি করে গান বাজানো হতো চট্টগ্রাম বেতার থেকে, আমরা এগুলি শুনার জন্য রেডিও’র পাশে বসে থাকতাম। অথচ তখন পাড়ায় দশ-পনেরটি বাড়ী মিলে এক ব্যান্ডের একটি রেডিও ছিলো কিনা সন্দেহ, টেলিভিশনতো দূরের কথা। এর পর আমাদের এলাকা থেকে কিছু লোকজন যখন আস্তে আস্তে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়া শুরু করলো তখন তারা সেখান থেকে তিন ব্যান্ডের রেডিও আনতে শুরু করলেন। এর আগে কিন্তু আমরা এক ব্যান্ডের রেডিও’র উপর নির্ভর ছিলাম। আমরা খবর, খেলাধূলা, নাটক-নাটিকা, কৃষি বান্ধব, শিক্ষা বান্ধব, গ্রাম উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের খবর রেডিওর মাধ্যমে শুনতাম। আজকে মিডিয়ার উন্নতির কারণে বেতার অনেকাংশে পিছিয়ে গেছে। এই বেতারের কর্মকর্তারা বেতারকে সামনের দিকে তুলে আনার জন্য শ্রোতা ক্লাবগুলিকে নিয়ে যে প্রয়াস হাতে নিয়েছে তার জন্য ধন্যবাদ বাংলাদেশ বেতারকে। সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাবের যে কোন সাহায্য সহযোগিতায় আমার হাত প্রসারিত থাকবে সবসময়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সালাহ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, বর্তমান বহুমুখী আধুনিক মিডিয়ার ভিড়ে বেতার কিছুটা হলেও পিছিয়ে পড়েছে। আমরাও কোন না কোন ভাবে সেই আধুনিক মিডিয়া গুলির সাথে জড়িয়ে পড়েছি। তিনি বলেন, আমার শৈশবের কথা যদি বলি, আমার কৈশরের কথা যদি বলি, তখন একমাত্র সংবাদ মাধ্যম, বিনোদন মাধ্যম বুঝাতো বাংলাদেশ বেতার। আমার মনে আছে বিশেষ করে অগ্রাহায়ণ মাসে গ্রামের কৃষকরা জমি থেকে ধান কেটে এনে সন্ধ্যার সময় গরু দিয়ে ধান মাড়াই করতে করতে তারা কাজের পাশাপাশি রেডিও-তে কৃষি ভাইদের জন্য তৈরী বাংলাদেশ বেতারের কৃষি অনুষ্ঠান শুনতো। কৃষকরা সেই কৃষি ভাইদের অনুষ্ঠান শুনতে অধীর আগ্রহ নিয়ে বসে থাকতো। ছোট বেলার সেই স্মৃতি আজো আমার মনে আছে। এছাড়া সৈনিক ভাইদের জন্য দূর্বার অনুষ্ঠান। সে সময় সবাই অনুষ্ঠানগুলি শুনার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকতো। এই যে বেতারের প্রতি তখনকার মানুষের আকর্ষণ সেটি ফিরিয়ে আনতে হবে। তাই আমি মনে করি বাংলাদেশ বেতারের সেই হারানো গৌরব আবার ফিরিয়ে আনার জন্য আপনাদেরকে দক্ষতার সাথে এবং যুগের সাথে তাল মিলিয়ে গণমূখী তথা জনমূখী অনুষ্ঠান নির্মাণ করতে হবে। আমরা সকলে আধুনিক মিডিয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ বেতারেরও অনুষ্ঠান শুনতে চাই, বেতারের পাশে থাকতে চাই।

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বেতারের আঞ্চলিক পরিচালক এস.এম আবুল হোসেন বলেন, বেতার শ্রোতা ক্লাব গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশ বেতারের শিশু ও নারী উন্নয়নমূলক অনুষ্ঠান, সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান জনগণের নিকট পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ বেতার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ বেতার, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের উদ্যোগে আমরা আপনাদের বোয়ালখালীর জ্যৈষ্ঠপুরা গুচ্ছগ্রামে এ শ্রোতা আনন্দমেলা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি। আর এতে আমাদেরকে সামগ্রিক ভাবে সহযোগিতা করেছে আপনাদের এলাকার সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাব (সার্ক)-এর বোয়ালখালী উপজেলা শাখা। আমরা তাদের সহযোগিতায় আপনাদের সাথে সুন্দর একটি অনুষ্ঠানে একত্রিত হতে পেরেছি। আমরা চাই আজ এখানে যে ৬টি নতুন ক্লাব উদ্বোধন হয়েছে তাঁরা এখন থেকে নিয়মিত আমাদের অনুষ্ঠান শুনে আমাদের চিঠি লিখে তাঁদের মতামত জানাবে এবং অনুষ্ঠানের আরো কিভাবে মানউন্নয়ন বাড়ানো যায় সে বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে আমাদেরকে সহযোগিতা করবে। আমরা আগামীতেও সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাব (সার্ক), বোয়ালখালী উপজেলা শাখার সহযোগিতায় আপনাদের এলাকায় আরো নতুন নতুন অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে চাই।

আলোচনা সভা শেষে বোয়ালখালী উপজেলায় সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাব (সার্ক)-এর নব গঠিত ৬টি শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে বাংলাদেশ বেতার, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের রেজিষ্ট্রেশন সনদ সহ একটি করে এইচডিআর-১০৯ মডেলের এবং এফএম, ডাব্লিউবি, এএম ও শর্টওয়েব ১-৪ সহ মোট ৭ ব্যান্ডের কাইটু সোলার ডাইনামো রেডিও সেট তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মাহাবুবুল আলম, বিশেষ অতিথি বোয়ালখালী ৮নং শ্রীপুর খরণদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোকারম এবং বাংলাদেশ বেতার, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের আঞ্চলিক পরিচালক এস.এম আবুল হোসেন।

সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাব (সার্ক)-এর বোয়ালখালী উপজেলায় নব গঠিত ৬টি শাখা হচ্ছে, অনুশীলন বেতার শ্রোতা ক্লাব (সভাপতি: মো. নুরুল আমিন, সম্পাদক: ইমরান হোসেন), শতাব্দী বেতার শ্রোতা ক্লাব (সভাপতি: মো. আবদুল মোতালেব, সম্পাদক: শেখ আলী হায়দার), পাহাড়িকা বেতার শ্রোতা ক্লাব (সভাপতি: আবদুল করিম, সম্পাদক: আনোয়ার হোসেন), শ্র“তি বেতার শ্রোতা ক্লাব (সভাপতি: সফিউল ইসলাম, সম্পাদক: মো. ইব্রাহীম), ধ্বনি বেতার শ্রোতা ক্লাব (সভাপতি: মনজুরুল ইসলাম, সম্পাদক: মো. দিদারুল আলম) এবং গ্রীণ বেতার শ্রোতা ক্লাব (সভাপতি: আফিফা জান্নাত, সম্পাদক: আনজুমা আকতার)।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি এবং সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাব (সার্ক)-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান দিদারুল ইকবাল ও বোয়ালখালী উপজেলা শাখার সভাপতি শাহ মো. ইউনুছ আনছারী-কেও রেডিও সেট সৌজন্য উপহার দেন চট্টগ্রাম বেতারের আঞ্চলিক পরিচালক এস.এম আবুল হোসেন।

রেডিও সেট বিতরণ শেষে অনুষ্ঠানের অতিথি ও নব গঠিত ৬টি শ্রোতাক্লাবের নেতৃবৃন্দ গ্রুপ ফটো সেশনে যোগদেন। এরপর শুরু হয় বাংলাদেশ বেতার, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের বিশিষ্ট শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। এতে মনমুগ্ধকর সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতী, শিশু-কিশোর সহ প্রায় এক হাজার দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন, শিল্পী মানস পাল চৌধুরী, সাইফুদ্দিন মাহমুদ খান, শিরিন আক্তার, সুফিয়া বেগম সুমি এবং প্রেম সুন্দর বৈষ্ণব। যন্ত্রসঙ্গীতে ছিলেন, বাবুল ইসলাম, গোলাম সাফা মিঠু, রুবায়েত এবং ফারুক হোসেন, মিউজিশিয়ানে ত্রীদিপ কুমার বৈদ্য এবং সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন, আবু তাহের চিশতী। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক ইকবাল হোসেন সিদ্দিকী এবং নাসরিন ইসলামের মায়াবি উপস্থাপনা সবাইকে মোহিত করে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ বেতার, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের উপ-আঞ্চলিক পরিচালক মো. আমানুর রহমান খান, সহকারী পরিচালক মো. সুলতান আহমেদ, সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাব (সার্ক) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ, সদস্য গাজী এম.আল আমিনুর রশিদ আবীর, মোবারক হোসেন ভূঁইয়া, তৌসিফ চৌধুরী, ইমরান হোসেন, ইন্টারন্যাশনাল রেডিও ক্লাবের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অসিত কুমার দাস মিন্টু এবং সহ-সভাপতি মো. শরিয়ত উল্লাহ প্রমূখ।

শ্রোতা আনন্দমেলা অনুষ্ঠানটি ১৮ নভেম্বর শুক্রবার রাত ১০টায় বাংলাদেশ বেতার, চট্টগ্রাম থেকে মধ্যম তরঙ্গ ৩৪৩.৬৯ মিটারে ৮৭৩ কিলোহার্জে এবং এফএম ৮৮.৮ মেগাহার্জে স¤প্রচার করা হয়।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত