টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

পৃথিবীর আলো দেখলেও মায়ের মুখ আর দেখবে না নবজাতক

হাটহাজারী প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ১৯ নভেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):   পৃথিবীর আলো দেখলেও মায়ের মুখ আর দেখবে না হাসপাতালে জন্ম নেওয়া এক নবজাতক। মাতৃ দুগ্ধের প্রকৃত স্বাদ থেকে সে বঞ্চিত হল চিরতরে। এতে করে অনিশ্চিত হয়ে পড়ল তার ভবিষ্যৎ জীবন। গত শুক্রবার ১৮ নভেম্বর হাটহাজারী পৌরসভার আলিফ হাসপাতালে দুপুরে এ হৃদয় বিদারক ঘটনার অবতারণা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত শুক্রবার সকাল ৯টায় হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা অফিসের অফিস সহকারী গাজী কামরুল হাসানের স্ত্রী পরিবার পরিকল্পনা সহকারী আকলিমা নামে এক প্রসূতিকে হাটহাজারীর আলিফ হসপিটালে ভর্তি করানো হয়। ভর্তির পর ডা: হাসিনা আক্তার অস্ত্রোপাচারের পর দুপুর ১টার দিকে আকলিমা এক ফুটফুটে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। মিনিট বিশেক পরে অপারেশন থিয়েটার থেকে আকলিমাকে বের করা হয়। এরপর হঠাৎ তার বমি শুরু হয় এবং হাত ও পা ছেড়ে দিয়ে আকলিমা ছটফটানি ও চিৎকার করতে থাকে । এ সময় অস্থির স্বামী বারবার কর্তব্যরত ডাক্তারকে বারংবার অবহিত করেও কোন সুরাহা পায়নি বলে অভিযোগ করেন।

এ সময় হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার আকলিমার স্বামীকে বলেন, এরকম হয়েই থাকে। কোন চিন্তা করবেন না। রোগী অনেক সময় এরকম চিৎকার করে পাগলামীও করে থাকে। মেডিসিন দিচ্ছি সব ঠিক হয়ে যাবে।

এমন অবস্থা চলাকালে একপর্যায়ে দুপুর আড়াইটায় নবজাতকের মায়ের অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে রেফার করা হলো নগরীর একটি বেসরকারী হাসপাতালে। কিন্তু না, তাঁকে আর বাঁচানো গেল না। পথিমধ্যেই নবজাতকের মায়ের দেহ নিথর হয়ে পড়ে। পাড়ি জমায় পরপারে। রেফার করা হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে। অতপর স্ত্রীকে নিয়ে রাত সাড়ে ১০টায় জানাযার নামাজ শেষে চট্টগ্রাম বন্দর রেলওয়ে কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানান হতভাগ্য নবজাতক ও স্ত্রী হারা হতভাগ্য স্বামী হাটহাজারী পরিবার পরিকল্পনা অফিসের অফিস সহকারী গাজী কামরুল হাসান। মৃত্যুবরণ করা স্ত্রীও একই অফিসে চাকুরী করতেন। তাদের আড়াই বছর বয়সী আরো একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী গাজী কামরুল হাসান থানায় অভিযোগ দায়ের করবেন বলে গণমাধ্যমকর্মীদের জানান।

এদিকে অস্ত্রোপচারকারী হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা: হাসিনা জানান, আকলিমা আমার কাছেই চিকিৎসা সেবা নিতো। আমার হাতেই অস্ত্রোপাচারে তার প্রথম সন্তান হয়েছিল। এবারও অপারেশন করা পর্যন্ত সবকিছু ঠিকই ছিল। কিন্তু আমি চলে যাবার পর কেনো এরকম হলো বুঝতে পারছি না।

আলিফ হসপিটালের চেয়ারম্যান মো. বাবুল জানান, ঘটনার সময় আমি ছিলাম না। চিকিৎসার কোন ত্রুটি থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ নিয়ে তাদের উভয় পরিবারে চলছে মোকের মাতম ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত