টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সবার জন্য উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রাম, ১৯ নভেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস): শিক্ষার্থীদের নিজ জেলায় উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার (১৯ নভেম্বর) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে গেলে এখনো কে যেন পিছু ডাকে, সে সুর বুকে রিন রিন করে বাজে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়। আমি খুব খুশি হতাম যদি অনুষ্ঠানে আসতে পারতাম। আফসোস লাগছে কেন আসলাম না। আশাকরি, ভবিষ্যতে আসবো। উচ্চশিক্ষিত জাতিই ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়তে পারবে। কারও কাছে হাত পেতে নয়, নিজেদের পায়ে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনা করতে হবে। কোন শিক্ষার্থী যেন উচ্চশিক্ষায় বঞ্চিত না হয় সে জন্য শিক্ষার্থীদের নিজ জেলায় উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

আজ (শনিবার) বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে চলছে সুবর্ণজয়ন্তীর মূল আয়োজন। সকাল ১০টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দ্বিতীয় দিনের আয়োজন। সকাল সাড়ে ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। সুবর্ণজয়ন্তী বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন অধ্যাপক ইমিরেটস ড. আনিসুজ্জামান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর, সাবেক সিটি মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল মান্নানসহ চট্টগ্রামের বরেণ্য রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।

শহীদদের সম্মাননা জানানোর পরই শুরু হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। চলবে রাত ৭টা পর্যন্ত। অনুষ্ঠানে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ গান পরিবেশন করবে দেশিয় ব্যান্ড দল ওয়ারফেজ, আর্টসেল ও লালন। থাকছেন সঙ্গীতশিল্পী তপন চৌধুরী ও দিনাত জাহান মুন্নী।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সুবর্ণ জয়ন্তীতে যোগ দিতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিবন্ধন করেছেন ৯ হাজার ৫৫৮ জন। অন্যদিকে বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিবন্ধন করেছেন ২০ হাজার ২৯২ জন। এছাড়া শিক্ষক-কর্মচারীসহ প্রায় ৩৫ হাজারের বিশাল উপস্থিতি থাকবে এ মিলনমেলায়। অনিবন্ধিত অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থীও আয়োজনে অংশ নেবেন।

উল্লেখ্য, ১৯৬৬ সালের ১৯ নভেম্বর চট্টগ্রামের হাটহাজারীর জোবরা গ্রামে প্রায় ১৭০০ একর জায়গা নিয়ে যাত্রা শুরু করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। তখন মাত্র ৪টি বিভাগ, ৮ জন শিক্ষক ও ২২০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু হয়। যেখানে বর্তমানে ৪৩টি বিভাগ ও ৭টি ইনস্টিটিউটে ২৩ হাজার ৬৮৭ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত