টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ইসি গঠনে খালেদার একাধিক প্রস্তাব

চট্টগ্রাম, ১৮ নভেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: ঐক্যমতের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে সরকারে প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য ৭ দফা প্রস্তাব এবং আরপিও সংশোধনসহ নির্বাচন কর্মকর্তা নিয়োগ এবং তাদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং তাদের যোগ্যতাসহ নির্বাচনের নানা বিষয়ের উপর প্রস্তাব তুলে ধরেছেন তিনি।

রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া এই প্রস্তাব পেশ করেন।

আগামী ফেব্রয়ারিতে নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। নতুন নির্বাচন কমিশনের গঠনের ব্যাপারে বিএনপির পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব পেশ করা হয়।

সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন‌্য গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধনেরও প্রস্তাব করেছেন খালেদা।

রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে কমিশন গঠনের রূপরেখা বর্ণনায় বেগম খালেদা জিয়া প্রস্তাবগুলো তুলে ধরা হলো:

সকল নিবন্ধিত দল এবং/অথবা প্রথম জাতীয় সংসদে নির্বচান করেছে বা বিভন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে এমন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাদা আলাদা আলোচনা করতে হবে।

এসব আলোচনায় বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দল এবং ১৪ দলের জোটের আরো দুজন রাজনীতিবিদ উপস্থিত থাকতে পারবেন।

নিবন্ধতিক দল এবং/ অথবা জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছে এমন দলগুলো থেকে সদস্য নিয়ে রাজনৈতিক দলের কনসেনসাসে কমিটি গঠন করতে হবে। এই কমিটি নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের নাম চূড়ান্ত করে রাষ্ট্রপতির কাছে নাম সুপারিশ করবে।

নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের যোগ্যতা বা অযোগ্যতা বিষয়ে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠা পর্ন্ত আলোচনা অব্যাহত রাখতে হবে।

নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এবং/অথবা ঐকমত্যের ভিত্তিতে বিশিষ্টজনদের নিয়ে বাছাই কমিটি গঠন করতে হবে।

অবসরপ্রাপ্ত, দল নিরপেক্ষ, কর্মক্ষম সাবেক প্রধান বিচারপতিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করতে হবে।

আপিল বিভাগের বিচারপতি, যিনি বিতর্কিত নন তিনি কমিটির সদস্য হবেন।দলনিরপেক্ষ সাবেক সচিব সদস্য হবেন তবে অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব বা প্রধানমন্ত্রীর কার্ালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি সদস্য হতে পারবেন না।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসরপ্রাপ্ত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বা বিশিষ্ট নাগরিক সদস্য হতে পারবেন।

দলনিরপেক্ষ দক্ষ, বিশিষ্ট নারী সদস্য হতে পারবেন।

বাছাই কমিটি রাষ্ট্রপতির কাছে লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনের নাম প্রস্তাব লিখিতভাভে রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করবেন।

একজন নারীসহ দক্ষ দলনিরপেক্ষ এমন ব্যক্তিদের মধ্যে থেকে ৪ জন নির্বচান কমিশনার হতে পারবেন।

চাকরি থেকে অবসরের তিন বছর হয়নি তিনি নির্বাচন কমিশনের সদস্য হওয়ার যোগ্য হবেন না।

নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দল এবং অথবা বিভিন্ন সময়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছে এমন দল প্রতি পদের বিপরীতে ২ জন করে নাম প্রস্তাব করতে পারবে।

সিইসি এবং কমিশনার নির্বাচনে প্রস্তাবিত নাম রাষ্ট্রপতি বাছাই কমিটির কাছে পাঠাবেন। সেসব নাম থেক উভয় পক্ষ থেকে পাওয়া অভিন্ন নাম চূড়ান্ত করতে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবে। অভিন্ন নাম না পাওয়া গেলে, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বার বার আলোচনা করবে। অভিন্ন নাম পাওয়ার লক্ষ্যে নতুন নাম গ্রহণ করতে পারবে। এ প্রক্রিয়ায় নাম বাছাই করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবে।

এ প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করলে অবশিষ্ট মনোনিতদের মধ্যে থেকে রাষ্ট্রপতি নাম চূড়ান্ত করবেন।

খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, লে জে (অব) মাহবুবুর রহমান, ড. আবদুল মঈন খান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ড. এ জেম এম জাহিদ হোসেন, আহমদ আজম খান।

এছাড়াও প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক উল হক, সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. মোস্তাহিদুর রহমান, ২০ দলীয় জোটের মধ্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব) অলি আহমদ, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান টিআইএম ফজলে রাব্বী চৌধুরী, বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জে (অব) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানী, এনডিপির চেয়ারম্যার খোন্দকার গোলম মোর্ত্তজা, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মহিউদ্দিন ইকরাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত