টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাইয়ে স্কুল ছাত্রীর গালে বখাটের থাপ্পড়

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

চট্টগ্রাম, ১৭ নভেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):  মিরসরাইয়ে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর গালে থাপ্পড় মেরেছে মো. মামুন নামের এক বখাটে। মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) ওই ছাত্রী বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে উপজেলার ওচমানপুর ইউনিয়নের মুহুরী প্রজেক্ট এলাকায় এঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) ছাত্রীর ভাই বাদী হয়ে এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা (ইউএনও) ও জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযুক্ত মো.মামুন স্থানীয় ওচমানপুর ইউনিয়নের পাতাকোর্ট গ্রামের আবুল বশরের ছেলে। সে এলাকার চিহ্নিত বখাটে ও বিত্তশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে সাহস পাচ্ছে না স্কুল কর্তৃপক্ষ। তবে স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়েছেন বলে জানান।

বখাটের থাপ্পড়ের শিকার ওই ছাত্রীর চাচা জহুরুল হক জানান, তার ভাতিজি স্থানীয় যাত্রামোহন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়েল নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) স্কুল থেকে বাড়ি যাওয়ার সময় স্থানীয় মুহুরী প্রজেক্ট রোডে মোটর বাইকে চড়ে এসে তাঁর পথ আগলে দাঁড়ায় মামুন। এসময় সে অশ্লীল ভাষা এবং বাজে অঙ্গভঙ্গি করে আমার ভাতিজিকে ইভটিজিং করছিল। ওই ছাত্রী এসবের প্রতিবাদ করলে মামুন তার গালে কয়েকটি থাপ্পড় মারে। স্কুল থেকে বাড়ি ফিরেই সে তার মাকে বিষয়টি জানায়। রাতেই ছাত্রীর স্বজনেরা বিষয়টি প্রধান শিক্ষকের কাছে নালিশ করে। জহুরুল হক অভিযোগ করেন, ‘অষ্টম শ্রেণি থেকে মামুন আমার ভাতিজিকে উত্যক্ত করে আসছিল। এতদিন লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি পরিবারের কাছে সে জানায়নি। মঙ্গলবার রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাপ্পড় মারায় সে তার মাকে বিষয়টি জানায়। মামুন এলাকার চিহ্নিত একজন বখাটে। অর্থ ও প্রভাব খাটিয়ে সে এলাকায় এ ধরণের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে কেউই ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

যাত্রামোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার সূত্রধর ইভটিজিং এর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার রাতে বিষয়টি আমাকে ওই ছাত্রীর অভিভাবকেরা জানিয়েছেন। স্থানীয়ভাবে এর সত্যতাও আমরা পেয়েছি। অভিযোগ পাওয়ার রাতেই আমি বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়েছি।

এ বিষয়ে ওচমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজুল হক মাষ্টার জানান, ইভটিজিং এর বিষয়টি স্কুল প্রধান শিক্ষক আমাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। আমি ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্যে কয়েকজন শিক্ষককে দায়িত্ব দিয়েছি।

জোরারগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার বিপুল দেব নাথ বলেন, ইভটিজিংয়ের ঘটনায়র অভিযোগ পাওয়ার পর সরেজমিনে গিয়ে ঘটনাস্থল পরির্দশন করে ও এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়া আহম্মদ সুমন অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে সবার সাথে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। লিখিত অভিযোগ পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত