টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাঙ্গুনিয়ায় কৃষি জমি নষ্ট করে বসতঘর ও প্লট নির্মাণের হিড়িক

আব্বাস হোসাইন আফতাব
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি 

ranguniaচট্টগ্রাম, ১৭ নভেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস): কৃষি জমি নষ্ট করে রাঙ্গুনিয়ায় দেদারসে চলছে প্লট নির্মানের হিড়িক চলছে। জমি, খাল-জলাশয় ভরাট করে বাড়িঘর, ইটভাটা, প্লট, শিল্প-কারখানাসহ নানা স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে আশঙ্কাজনক হারে কমতে শুরু করেছে ফসলি জমি। উদ্বেগজনক হারে ধানি জমি কমে আসায় খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে রয়েছে। বছর বছর কৃষি জমির হার কমলেও তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কারো মাথাব্যথা নেই।

জানা যায়, অসচেতনতা ও ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে উপজেলায় গত ১৫ বছরে বিশেষ করে বিভিন্ন সড়কের দুই পাশে আবাদযোগ্য জমি আশঙ্কাজনক ভাবে কমছে। অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে জমি, খাল-জলাশয় ভরাট করে বাড়িঘর, ইটভাটা, প্লট, শিল্প-কারখানাসহ নানা স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয় ভূমি দস্যুরা সংরক্ষিত ভূমি, সরকারি খাস ভূমি, জলাধার জোর পূর্বক দখলে নিচ্ছে। বনাঞ্চল রক্ষায় আইন ও নীতিমালা অমান্য করে বেদখল হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন বনাঞ্চল। উপজেলার কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। চট্টগ্রামের শস্য ভান্ডার খ্যাত রাঙ্গুনিয়ার গুমাই বিলের জমি বিত্তশালীদের পেটে। দিন দিন দেশের বৃহৎত্তম এই বিলের জমির প্রতি এলাকার বিত্তশালীদের লোলুপ দৃষ্টিতে শস্য ভান্ডারের আয়তন ছোট হয়ে আসছে। বিত্তশালীরা অর্থের জোরে ধানি জমি কেনার প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছে । সরকারী আইনের তোয়াক্কা না করে ধানি জমি কিনে সীমানা প্রাচীর করে আবাসিক প্লট তৈরী করছে। জমি বেচাকেনার জন্য এলাকায় বিত্তশালীরা সিন্ডিকেট করে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ধানি জমির মাঝখানে জমি কেনার মালিকরা তাদের নাম দিয়ে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দেয়। এর কিছুদিন পর ইট দিয়ে জমির চারিদিকে দখলের প্রাচীর তৈরি করে। ধানি জমির পাশাপাশি নানা স্থাপনা গড়ে উঠায় পাশের জমি অনাবাদি থেকে যাচ্ছে। গত এক যুগে গুমাই বিলের প্রায় ১০/১২ একর জমি বিত্তশালীদের পেটে চলে গেছে। শত শত কৃষক লোভে পড়ে ধানি জমি বিক্রি করে তাদের বাপ দাদার পৈত্তিক পেশা ছেড়ে অন্য পেশার দিকে ঝুঁকছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের মতে, বছরে ধানি জমি কমলেও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ ও উন্নতজাতের বীজ ব্যবহারে কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে আবাদযোগ্য জমি কমলেও সেই তুলনায় ফসল উৎপাদন কমেনি।

স্থানীয়রা জানান, যে হারে ধানি জমি কমছে এ অবস্থা চলতে থাকলে উপজেলায় খাদ্য উৎপাদন হুমকির মুখে পড়বে।

কৃষিবিদরা বলেন, কৃষি জমি সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়নের কাজ অনেক এগিয়েছে। সহসাই তা আইন বা বিধিমালা আকারে প্রকাশিত হবে। এতে কৃষি জমি সংরক্ষণ করা যাবে। কেউ ইচ্ছে করলেই কৃষি জমি আর অকৃষি খাতে ব্যবহার করতে পারবেন না। ইউরোপের দেশগুলোতে পরিকল্পিতভাবে জমির ব্যবহার করা হয়। পাশের দেশ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে কৃষক ছাড়া অন্য কেউ কৃষিজমি কিনতে পারে না। কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, গুজরাট ও হিমাচলে কৃষকরাই কেবল কৃষিকাজের জন্য কৃষিজমি কিনতে পারে। হরিয়ানায় কৃষিজমির এলাকাকে নিয়ন্ত্রিত এলাকা হিসেবে নির্ধারণ করা আছে। সেখানে জমি কিনে কৃষিকাজের বাইরে অন্য কোনো কাজ করতে গেলে সরকারের অনুমতি লাগে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কারিমা আক্তার জানান, ফসলি জমিতে ঘর বাড়ি কিংবা প্লট করার জন্য সরকারী কোন নিয়ম আগে না থাকলেও বর্তমানে সরকার চাষাবাদ যোগ্য জমিতে প্লট বাণিজ্য অথবা ঘর বাড়ি তৈরী করতে না পারার আইন পাশ করেছে।

এ ব্যাপারে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কমকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, সরকারি পর্যায়ে সম্প্রতি চাষাবাদ যোগ্য জমির উপর প্ল¬ট নির্মানের নিষেধাজ্ঞার বিধান রয়েছে। আইন অমান্যকারীর বিরুদ্ধেও বড় ধরনের শাস্তির বিধান করা হয়েছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত