টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বেসরকারি ১৮ বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ অবৈধ ঘোষণা

চট্টগ্রাম, ১৭ নভেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস): দেশের বেসরকারি ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত ভিসিদের স্বাক্ষর করা সনদ অবৈধ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

বৃহস্পতিবার ইউজিসি এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত ভিসি নিয়োগ আইন পরিপন্থী। তাই ভিসিহীন দেশের ১৮ বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ গ্রহণযোগ্য হবে না। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্টদের জেনে ও বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

তবে এসব ‘অবৈধ সনদে’ রাষ্ট্রপতি নিয়োজিত কোনো উপাচার্য স্বাক্ষর করলে সেগুলো বৈধ হিসেবে গণ্য হবে বলে জানিয়েছেন কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান।

বৃহস্পতিবার কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ইউজিসির বিজ্ঞাপনে বলা হয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অর্জিত ডিগ্রির মূল সনদ ভাইস চ্যান্সেলর এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক স্বাক্ষরিত হতে হবে।

আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি চার বছর মেয়াদে প্রত্যেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি, প্রো-ভিসি, এবং কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেবেন। কাজেই উক্ত পদে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভারপ্রাপ্ত হিসেবে কাউকে নিয়োগ দেয়া আইনের পরিপন্থি। রাষ্ট্রপতির নিয়োগকৃত উপাচার্যের স্বাক্ষর ছাড়া সার্টিফিকেট গ্রহণযোগ্য হবে না। মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসি কর্তৃক স্বাক্ষরিত সার্টিফিকেট অবৈধ হবে।

১৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে রাষ্ট্রপতি নিয়োগকৃত উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ না থাকার কথা জানিয়ে ওইসব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সনদ অবৈধ ঘোষণা করেছে ইউজিসি।

পাশাপাশি এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্টদের জেনে-শুনে সিদ্ধান্ত নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছে কমিশন।

ইউজিসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী এবং একাডেমিক কর্মকর্তা। ইউজিসির একাধিক নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি, প্রো-ভিসি এবং কোষাধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এর ফলে শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।

মেয়াদোত্তীর্ণ উপাচার্যের অর্থ সংক্রান্ত চেক ও অন্য কোনো দলিলপত্রে স্বাক্ষর করাও বৈধ হবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে অধ্যাপক মান্নান বৃহস্পতিবার বলেন, উপাচার্য নিয়োগ করার জন্য ২৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছিলাম। এর মধ্যে অনেকে ব্যবস্থা নিয়েছে, ব্যবস্থা নেয়নি এমন ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এই আদেশ প্রযোজ্য।

যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি, প্রো-ভিসি এবং কোষাধ্যক্ষ নেই
এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে ২০০৯ সালের পর থেকে ভিসি নেই। দি পিপলস ইউনিভার্সিটিতে ২০১৪ সালের পর ভিসি নেই। ইবাইস ইউনিভার্সিটির ভিসি নেই ২০১২ সালের পর থেকে। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়ায় ২০১৬ সালের জানুয়ারির পর থেকে, রয়েল ইউনিভার্সিটিতে ২০০৯ সালের পর থেকে, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটিতে ২০১৩ সালের পর থেকে এবং জার্মান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এ ২০১৬ সালের মার্চের পর থেকে ভিসি, প্রো-ভিসি এবং কোষাধ্যক্ষ নেই।

এছাড়া, ঈশাখাঁ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, জেডএইচ শিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইউনিভার্সিটি-আরএসটিইউ, রণদা প্রসাদ সাহা বিশ্ববিদ্যালয়, সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি, কারিদাবাদ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি, সৈয়দপুর ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি এবং কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির শুরু থেকেই ভিসি, প্রোভিসি এবং কোষাধ্যক্ষ নেই।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত