টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বারইয়ারহাটে বেড়েছে চুরি-ডাকাতি ছিনতাই

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

চট্টগ্রাম, ১৫ নভেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: উত্তর চট্টগ্রামের বানিজ্যকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বারইয়ারহাট পৌরসভা এলাকায় বেড়েছে চুরি ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা। এতে করে আতংকে রয়েছেন এখানকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চিনকী আস্তানা মাঈন উদ্দিন ফিলিং ষ্টেশন থেকে কমপোর্ট হাসপাতাল পর্যন্ত গাড়ি থেকে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। গত ৪ মাসে প্রায় ২৫টি গাড়ি থেকে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এসময় ছিনতাইকারীদের হামলায় ট্রাক চালক ও হেলপার আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।

জানা গেছে, গত ৮ নভেম্বর পৌর বাজারের রুজিনা হোটেলের উত্তর পাশে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন রূপ নগর ফিলিং ষ্টেশনের ব্যবস্থাপক মোঃ কেফায়েত উল্লাহ। তিনি কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে একদল ছিনতাইকারী অস্ত্রের মুখে নগদ ১০ হাজার ২শ টাকা, একটি মোবাইল সেট নিয়ে যায়।
১৬ অক্টোবর দুপুরে বারইয়ারহাট কাশবন হোটেলের সামনে থেকে উপজেলার হাজ্বীশ্বরাই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাইনুল হাছান তার ব্যবহৃত মোটর সাইকেল ( ১০০ সিসি বাজাজ প্লাটিনা যাহার রেজিঃ নং চট্ট মেট্টো হ ১২-০৩২৬) একটি মোটর সাইকেল চুরি হয়। ২ নভেম্বর বারইয়ারহাট উত্তর বাজার থেকে এক কাপড় ব্যবসায়ীর মোটর সাইকেল চুরি করে নিয়ে যায়। ব্যবসায়ীরা জানান, বারইয়ারহাটে আশংকাজনক ভাবে বেড়েছে মোটর সাইকেল চুরি। একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই চুরির কাজে জড়িত রয়েছে। সম্প্রতি বারইয়ারহাট কমপোর্ট প্রাইভেট হাসপাতালের একটি মাইক্রো গাড়ি চুরি হয়েছে।

চলতি বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় প্রকাশ্যে ফিল্ম ষ্টাইলে বারইয়ারহাট বাজারের শামীম জুয়েলার্সে ডাকাতি করে তিন শ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায়। ডাকাতদলের ককটেলের আঘাতে ৭ জন আহত হন।

সুত্র জানায়, বারইয়ারহাট পৌরসভা এলাকার চিনকী আস্তানা বাজারের দক্ষিন পাশে, শেফা ইনসান হাসপাতালের সামনে, দক্ষিণ বাজারে পুরাতন সড়কে, উত্তর বাজারের গাছ মার্কেটে, কমপোর্ট হাসপাতালের উত্তর পাশে গাড়ি থেকে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে প্রায়শ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চিনকী আস্তানা বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, ট্রাক চালকরা এখানে দাঁড়িয়ে নাস্তা করতেন। এসময় একাধিক ট্রাক চালক থেকে জোর পূর্বক টাকা নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। টাকা না দেয়ার কারণে কয়েকজন চালককে কুপিয়ে আহত করার ঘটনাও ঘটে। ছিনতাইয়ের ভয়ে এখন কোন ট্রাক এখানে থামেনা। আমাদের ব্যবসাও আগের থেকে কমে গেছে।

এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার বিপুল দেবনাথ বলেন, ভূক্তভোগীরা যদি থানায় লিখিত অভিযোগ দেয় তাহলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ ফরিদ উদ্দিন বলেন, মহাসড়কের ছিনতাইয়ের ঘটনা আমার জানা নেই। কেউ অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখবো।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত