টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বিয়েতে রাজি না হওয়ায় মুন্নির মেরুদণ্ড কেটে দিলো বখাটে!

মেয়েকে বাঁচানোর অসহায় পিতার প্রাণান্ত চেষ্টা, সহযোগিতা কামনা

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

mirsarai-munni-photoচট্টগ্রাম, ১৪ নভেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: বদরুল-স্টাইলে বখাটেপনার আরেক নির্মম প্রদর্শনী হয়েছে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে। খাদিজার মতোই কুপিয়ে রক্তাক্ত-জর্জরিত করা হলো মুন্নি নামে এক তরুণীর শরীর। বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এই নৃশংসতা ঘটিয়েছে ওই এলাকার মোজাম্মেল নামে এক বখাটে।

উপর্যুপুরি কোপের আঘাতে ক্ষত শরীর নিয়ে জীবনের অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন এই তরুণী। সুচিকিৎসার অভাবে তিনি উঠে বসতেও পারেন না। উপজেলার ৯ নম্বর মিরসরাই সদর ইউনিয়নের উত্তর গড়িয়াইশ এলাকার জাফর আহম্মদের মেয়ে মুন্নি। অভাবের সংসারে মেয়ের এমন করুণ পরিণতিতে ভেঙে পড়েছেন সকলেই।

সরেজমিনে ওই বাড়িতে গেলে এই প্রতিবেদককে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকেন জাফর। অসহায় কণ্ঠে বলেন, ‘মেয়েটা উঠে বসতে পারে না। জানি না কখনো পারবে কি না। নাওয়া-খাওয়া নেই।’ মুন্নি তখন পাশের বিছানায় শুয়ে। সবার চোখের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। আর নীরবেই চোখের জল ফেলে।

জাফর বলেন, ‘জমানো টাকা ছিলো যা, সবই খরচ করেছি। বিভিন্ন জায়গা থেকে ধারদেনা করে প্রায় ছয় লাখ টাকা খরচ করেও ফেলেছি। কোনো উন্নতি দেখছি না। জানি না মেয়েটিকে বাঁচাতে পারব কি না।’

মুন্নিসহ তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে অভাবের সংসার দরিদ্র দিনমজুর জাফরের। ছোট্ট একটি কুঁড়েঘরে কোনমতে জীবন চলে তাদের। অভাবের তাড়নায় মেয়েকে সপ্তম শ্রেণির বেশি পড়াতে পারেননি।

জাফর জানান, বেশকিছু দিন আগে মুন্নিকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলো ওই গ্রামের শাহ আলমের ছেলে মোজাম্মেল হোসেন (২৪)। কিন্তু এলাকায় বখাটে ও মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত ছেলেটির কাছে বিয়েতে তারা কেউই রাজি ছিলেন না। এমনকি মুন্নিও না। ওই ঘটনার জের ধরে মোজাম্মেল বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল।

mirsaraiতিনি আরো জানান, গত ২৯ জুন সকালে বাড়ির পাশে ছোটবোন তানিয়াকে নিয়ে কাজ করছিলেন মুন্নি। আকস্মিক পেছন থেকে এসে মুন্নির ওপর হামলে পড়ে মোজাম্মেল। সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে উপর্যুপুরি কোপাতে থাকে। রক্তাক্ত মুন্নি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তানিয়ার আর্তনাদ শুনে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে দৌঁড়ে পালিয়ে যায় মোজাম্মেল।

একাধিক হাসপাতাল ঘুরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় মুন্নিকে। সেখানেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে স্থানান্তর করা হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক)। সেখান থেকে আবার গত ৯ নভেম্বর সিআরপিতে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার পর মুন্নি আক্তারের চাচা খাইরুল আলম বাদি হয়ে বখাটে মোজাম্মেল সহ চারজনকে আসামি করে মিরসরাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এখন পর্যন্ত মোজাম্মেলকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

মুন্নি আক্তারের আত্মীয় জয়নাল আবেদীন বলেন, ছুরির কোপে মুন্নির মেরুদÐের হাড় দুই ভাগ হয়ে গেছে। চিকিৎসকরা বলেছেন সে আর কখনো হাঁটতে পারবে না। সবোর্চ্চ হুইল চেয়ারে বসে চলাফেরা করতে পারবেন।

মুন্নির পিতা জাফর আহম্মদ বলেন, ‘এই ঘটনায় মামলা করার পরও এখনো গ্রেপ্তার হয়নি মোজাম্মেল। ফোন করে উল্টো মামলা তুলে নিতে আমাকে হুমকি দিচ্ছে এবং আমার আরেক মেয়ে রাজিয়া আক্তারকে তুলে নেয়ারও হুমকি দিচ্ছে মোজাম্মেল। ভয়ে মেয়েটি স্কুলে যাচ্ছে না। সে মিঠাছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। আমি প্রশাসনের কাছে জোর দাবি করছি বখাটে মোজাম্মেলকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসে।’

চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারবেন কি-না শংকা প্রকাশ করে জাফর বলেন, ‘ধারদেনায় ছয় লাখ টাকা ব্যয় করে ফেলেছি। কোনো উন্নতি দেখছি না। কয়েকদিন পরে একটা অপারেশন। অথচ আমার কাছে এখন আর চিকিৎসার টাকা নেই।’ তিনি মুন্নির চিকিৎসায় মানবতাপ্রেমী বিত্তবানদের প্রতি অনুরোধ জানান। মুন্নির চিকিৎসার জন্য অনুদান পেতে একটি বিকাশ নাম্বারও (০১৮৮২৫৬৮৬৮৬) দিয়েছেন জাফর আহম্মেদ।

এ প্রসঙ্গে মিরসরাই থানার জ্যৈষ্ঠ উপ-পরিদর্শক সফিকুল ইসলাম পিপিএম বলেন, ঘটনার পর থেকে মোজাম্মেল পলাতক রয়েছে। আমরা তাকে গ্রেপ্তার করতে চেষ্টা করে যাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, মুন্নির চিকিৎসার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে অনেক সহযোগিতা করেছি। আগামীতেও সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত