টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সিইপিজেডের অধিকাংশ কারখানার বর্জ্যে দুষিত হচ্ছে কর্ণফুলী!

এস এম ইব্রাহিম,
প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি টাইমস ডটকম

cepz-picচট্টগ্রাম, ১৩ নভেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস): চট্টগ্রাম রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (সিইপিজেড) অধিকাংশ কারখানার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে কর্ণফুলী নদীতে। এতে কর্ণফুলীর মোহনাসহ বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকা দুষিত হচ্ছে।

দূষণ রোধে কেন্দ্রীয় তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) স্থাপনের দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও সিইপিজেডের অধিকাংশ কারখানা সংযোগ নেয়নি এখনো। অথচ পরিবেশ ছাড়পত্র নেওয়ার সময় এই ইপিজেডের ১৬৮টি কারখানার মধ্যে ১৬২টিই ইটিপি সংযোগের প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছিল।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্জ্য পরিশোধনে ইটিপি সংযোগে কারখানার মালিকদের উদাসিনতার কারনে সিইটিপি স্থাপনের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর ব্যাংকের সুদ গুনে কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছে সিইটিপি স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠান চিটাগং ওয়েস্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টস লিমিটেড।

চিটাগং ওয়েস্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হাসিবুল ইসলাম সিটিজি টাইমস ডটকমকে বলেন, ‘আমরা শতভাগ কারখানাকে টার্গেট করেই সিইটিপি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছিলাম। কিন্তু গত ৪ বছরে মাত্র ৮৫টি কারখানা সিইটিপির সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে। কিন্তু এত অল্প ক্লায়েন্ট দিয়ে আমাদের রাসায়নিক খরচও উঠছে না।

তিনি জানান, প্রতি মাসে শুধু ব্যাংক সুদ আসছে কোটি টাকার উপরে। তারপরও আমাদের কাউন্সিলররা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শন করে তাদের সিইটিপির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। এই প্রকল্পটি ব্যর্থ হলে এর দায়ভার সবাইকে নিতে হবে।’

জানা গেছে, কারখানা কর্তৃপক্ষের নেতিবাচক মানসিকতার কারণে সিইটিপি প্রকল্পটি লোকসানের মধ্যে রয়েছে। পক্ষান্তরে কারখানার বর্জ্য কর্ণফুলী নদীতে নিক্ষেপ করায় নদীর প্রায় ৮ কিলোমিটার মোহনাসহ বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকা ব্যাপকভাবে দুষিত হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম ইপিজেডকে বিশ্ব ব্যাংকের সহযোগী সংস্থা আইএফসি ও দক্ষিণ কোরিয়া সরকার ‘লো-কার্বন গ্রিন জোন’ এ রূপান্তরের যে পরিকল্পনা নিয়েছে সেখানেও সিইটিপির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বেপজা সূত্র জানায়, দাতা সংস্থা, বিদেশি ক্রেতা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ক্রমাগত চাপের কারণে বেপজাভুক্ত আটটি ইপিজেডে কেন্দ্রীয়ভাবে ইটিপি স্থাপনের অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম ইপিজেডে কেন্দ্রীয়ভাবে ইটিপি স্থাপন করা হয়।

শিল্প কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য থেকে কর্ণফুলী নদী ও বঙ্গোপসাগরকে রক্ষা করতে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চট্টগ্রাম ইপিজেডের কেন্দ্রীয় তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) চালু হয় ২০১২ সালের ৩০ আগস্ট।

এরপর থেকেই কারখানার রাসায়নিক বর্জ্য পরিশোধন করে সাগরে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। তবে পরবর্তী সময়ে এই পানি পুনরায় ব্যবহারের জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে সিইপিজেড সূত্রে জানা গেছে।

বর্তমানে প্রতিদিন কমপক্ষে ৪৫ হাজার ঘনমিটার তরল পরিশোধন ক্ষমতাসম্পন্ন হলেও পরবর্তী সময়ে তা প্রয়োজন অনুযায়ী আরো স¤প্রসারণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রতি ঘনমিটার দূষিত পানি পরিশোধন করতে ৩৮ টাকা ৭৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে বর্তমানে এই খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪ টাকা ৭৯ পয়সায়। প্রকল্পের বার্ষিক আয়ের ৬০ শতাংশ পাবে ইটিপি স্থাপনকারী কোম্পানি। বাকি ৪০ শতাংশ পাবে বেপজা।

সিইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক এস এম আবদুর রশিদ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘প্রত্যেকটি কারখানায় সিইটিপি ব্যবহারের জন্য আমরা সার্কুলার দিয়েছি। কেন্দ্রীয় ইটিপিতে শিল্প কারখানাগুলো নিজেদের স্বার্থেই এখানে সংযোগ নেবে। সিইপিজেডের ৩৩টি কারখানা এখনই নিজস্ব ইটিপি ব্যবহার করে।

কিন্তু ব্যক্তিগত পর্যায়ে ইটিপি পরিচালনা অনেক ব্যয়সাপেক্ষ। তাই খরচ কমাতে এই কারখানাগুলোর অনেকেই সিইটিপিতে সংযোগ নেবে। এ জন্য সিইটিপি বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানকেও একটু ধৈর্য ধরতে হবে।’

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত