টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কক্সবাজারে মিটার রিডার ও ম্যাসেঞ্জারদের কর্মবিরতি ও অবস্থান ধর্মঘট

ইমাম খাইর
কক্সবাজার ব্যুরো

unnamedচট্টগ্রাম, ১২ নভেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):  বিনা কারণে চাকরী থেকে ছাঁটাই বন্ধ ও স্থায়ী নিয়োগের দাবীতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করছে কক্সবাজার পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির অধীনে কর্মরত মিটার রিডার ও ম্যাসেঞ্জাররা।

এ দাবীতে শনিবার (১২ নভেম্বর) সকাল থেকে তারা সমিতির কক্সবাজার সদর কাার্যালয়ের অভ্যন্তরে অবস্থান ধর্মঘট ও বিক্ষোভ করছে।

মিটার রিডার ও ম্যাসেঞ্জার লীগের ব্যানারে প্রায় একশ কর্মি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা গত মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) সকাল থেকে পল্লী বিদ্যুতের কক্সবাজার অফিস প্রাঙ্গনে জড়ো হতে থাকেন। প্রতিদিন তারা অফিসে গেলেও কর্মস্থলে যোগদান করে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময় তারা চুক্তি নবায়ন, চাকুরি স্থায়ীকরণ ও ২-৩ গুণ কাজের বোঝা না চাপানোর দাবি তুলে।

শনিবারও আন্দোলনকারীরা ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে সহকারে কক্সবাজার পল্লিবিদ্যুত সমিতির কার্যালয়ের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। এরপর তারা সেখানে চাকুরী থেকে ছাঁটাই বন্ধ, চুক্তি নবায়ন, চাকুর স্থায়ী করণসহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে ¯ে¬াগান দেন। পরে তারা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সেখানে অবস্থান নেন।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী চুক্তি অনুযায়ী মিটার রিডার ও ম্যাসেঞ্জাররা সর্বোচ্চ ৯ বছর চুক্তি স¤পাদন করতে পারে। সন্তোষজনকভাবে চাকুরি স¤পাদন করলে অন্য সমিতিতে নিয়োগ পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগ এবং এভাবে ৫৫ বছর পর্যন্ত একজন মিটার রিডার ও ম্যাসেঞ্জার চাকুরি করতে পারার বিধান রয়েছে। তাছাড়া বর্তমান সরকারের আমলে ২০১৩ সালে শ্রম সংশোধনী আইনের ৪নং ধারার ১১নং উপধারায় কোন স্থায়ী প্রতিষ্ঠানের জন্য অস্থায়ী কর্মচারী, দৈনিক ভিত্তিক ও চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক নিয়োগ দেয়া যাবেনা।

এ অবস্থায় গণছাটাইয়ের খবরে কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধীনে কর্মরত ৮৩ জন মিটার রিডার ও ম্যাসেঞ্জার আতঙ্কে ভোগছে।

এদের অনেকের তিনবছর চাকুরির মেয়াদ শেষে কর্তৃপক্ষ চুক্তি নবায়ন এবং চাকুরী নিয়মিত করছেনা। বরং কাজের চাপ ২-৩ গুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে এই ৫ অফিস থেকে প্রায় ৩০ জন মিটার রিডার ও ম্যাসেঞ্জারের চাকুরি নবায়ন করা হয়নি। তাদেরও মা, বাবা, স্ত্রী, বাচ্চাসহ পরিবার পরিজন আছে। তারা এখন কোথায় যাবে। তারা এখন পথে পথে ঘুরছে।

আন্দোলনকারীরা আরো জানান, সারা দেশে প্রায় ১৯ হাজার মিটার রিডার ও ম্যাসেঞ্জার রয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেককে প্রতি মাসে দুই হাজার করে মিটার রিডিং নেওয়ার কথা। এভাবেই তাঁদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অথচ ডিসেম্বরের পর থেকে তাঁদের প্রত্যেককে চার হাজার মিটার রিডিং করতে হবে। এ জন্য একটি অফিস আদেশ জারি করতে যাচ্ছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড। এর মাধ্যমে তাঁদের ছাঁটাই করার পাঁয়তারা চলছে। আগের চুক্তি রেখে তাদের ছাঁটাই না করার দাবিতে তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানান।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত