টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সাম্প্রদায়িক হামলার জন্য বিএনপি ও জামায়াত দায়ী: সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের বিশিষ্টজনেরা

untitled-1চট্টগ্রাম, ১২ নভেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস): চট্টগ্রামের পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসী হামলার জন্য বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করে জানান; তাদের আশংকা, আগামী নির্বাচনে বর্তমান সরকারি দলের ভোট কমানোর কৌশল হিসেবে সংখ্যালঘুদের দেশছাড়া করার অপতৎপরতা চলছে।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘জেগে ওঠো বাংলাদেশ’ সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত শনিবার (১২ নভেম্বর) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিশিষ্টজনরা এসব সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসকে মানবতাবিরোধী অপরাধ আখ্যায়িত করে সন্ত্রাসীদের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া ভারতের সঙ্গে গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ঝুঁকিতে ফেলার জন্যও সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর আক্রমণ চালানো হতে পারে বলে তাদের আশংকা। বিশিষ্টজনেরা ক্ষমতাসীন দলে জামায়াত-শিবিরের অনুপ্রবেশের বিষয়েও সরকারকে সতর্ক করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে চার বিশিষ্ট নাগরিক উপস্থিত ছিলেন। এরা হলেন, বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড.অনুপম সেন, শহীদ জায়া বেগম মুশতারি শফি, অর্থনীতিবিদ ড.মঈনুল ইসলাম এবং কবি আবুল মোমেন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বর্তমান সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসহ জঙ্গিবাদি, মৌলবাদি, সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করছে। দেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী সরকারের এই অবস্থান ও ভূমিকাকে সমর্থন দিচ্ছে। এই আশংকা উড়িয়ে দেওয়া যাবে না যে আগামী নির্বাচনে সরকারের ভোট কমানোর কৌশল হিসেবে সংখ্যালঘুদের দেশছাড়া করার এ এক অপতৎপরতা হতে পারে। পাশাপাশি জঙ্গিবাদি সাম্প্রদায়িক শক্তিও দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ঘোলাজলে তাদের এজেন্ডা পূরণে পূর্ণশক্তিতে আঘাত হানার পরিকল্পনায় এই কাজ করতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত ১০ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে জঙ্গিবাদের মতো সাম্প্রদায়িকতার ক্ষেত্রেও জিরো টলারেন্স নীতি নেয়া, ধর্মনিরপেক্ষ বিজ্ঞানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা, প্রকাশ্যে সভা-সমিতিতে ধর্মীয় কটাক্ষমূলক বক্তব্য নিষিদ্ধ করা, বাংলাদেশ ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করা এবং জঙ্গিবাদের মতো সাম্প্রদায়িক হামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন নারীনেত্রী নূরজাহান খান, উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সহ-সভাপতি ডা.চন্দন দাশ ও সুনীল ধর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হোসাইন কবির, গণজাগরণ মঞ্চের সমন্বয়কারী শরীফ চৌহান।জেগে উঠো বাংলাদেশ সংগঠনের পক্ষে আবৃত্তিশিল্পী রাশেদ হাসান সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

পাঁচ বিশিষ্টজনের মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড.রণজিৎ দে ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে উপস্থিত থাকতে পারেননি বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত