টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মোরশেদ খানকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

চট্টগ্রাম, ০৯ নভেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: বিদেশে অর্থপাচার মামলায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোর্শেদ খান, তার স্ত্রী নাসরিন খান ও ছেলে ফয়সাল মোর্শেদ খানকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে তাদেরকে আত্মসমর্পণ করতে বলেছে আদালত।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বুধবার এ রায় দেন।

দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বলেন, আদালত রুল নিষ্পত্তি করে আগামী ৬ সপ্তাহের মধ্যে তাদেরকে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে। এ সময়ের মধ্যে তারা আত্মসমর্পণ করলে আদালতকে তাদের জামিন দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে বলেছে। আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ থাকবে। এছাড়া মামলাটি পুনরায় তদন্ত করতে অনুমতি দিয়েছে আদালত। এর আগে গত ৫ জুন হংকংয়ের স্ট্যান্ডার্ড চার্টাড ব্যাংকে এ তিনজনের নামে থাকা অ্যাকাউন্টে ১০ দিন জব্দ রাখার (ফ্রিজ) আদেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। একইসঙ্গে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণের আদেশ কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না এবং কেন এ মামলায় পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুলও দেয় আদালত। সেই রুলের ওপর গত ১ সেপ্টেম্বর শুনানি শেষ হয়। রায় ঘোষণার জন্য ৯ নভেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান। মোরশেদ খানের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ।

আদালত সূত্র জনায়, মানি লন্ডারিং নিয়ন্ত্রণ আইনে ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন মোরশেদ খান, তার স্ত্রী নাসরিন খান ও ছেলে ফয়সাল মোরশেদ খানের বিরুদ্ধে মামলা করে। ওই মামলায় ২০১৫ সালের জুলাই মাসে দুদক চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। প্রতিবেদনের বলা হয়, ওই ঘটনায় কোনো মানি লন্ডারিং ‘হয়নি’। ওই চূড়ান্ত প্রতিবেদন ১৫ এপ্রিল বিচারিক আদালত গ্রহণ করলে মোরশেদ খান, নাসরিন খান ও ফয়সাল মোরশেদ খান অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পান। জানা গেছে, হংকংয়ের স্ট্যান্ডার্ড চার্টাড ব্যাংকের ওই হিসাবটি ২০০৮ সাল থেকে এক প্রশাসনিক আদেশে জব্দ করে রাখে হংকংয়ের পুলিশ। এরপর তারা বাংলাদেশে চিঠি দিয়ে জানায়, নতুন কোনো পদক্ষেপ না থাকলে ওই অ্যাকাউন্ট তারা খুলে দেবে। এ অবস্থায় দুদক মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেয় এবং পুনঃতদন্তের জন্য বিচারিক আদালতের অনুমতি চাওয়া হয়। ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত ২ জুন দুটি আবেদনই খারিজ করে দেয়। নিম্ন আদালতের এ আদেশের বিরুদ্ধে দুদক হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, মোরশেদ খানের প্রতিষ্ঠান ফারইস্ট টেলিকম লিমিটেডের মাধ্যমে মোট ১১টি বিভিন্ন ধরনের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে ৩২১ কোটি সাত লাখ ৫৩ হাজার ৩৫৯ টাকা দেশের বাইরে পাচার করেছেন। মোরশেদ খান বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে এ অর্থ পাচার করেন।

দুদক বিভিন্ন ব্যাংকে ফারইস্ট টেলিকমের নামে চারটি এফডি হিসাব, একটি ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড হিসাব, একটি ইউএসডি কারেন্ট হিসাব ও একটি ইউএসডি সেভিংস হিসাব খুঁজে পায়। এ ছাড়া স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে মোরশেদ খানের নামে একটি ইউএসডি সেভিংস ও একটি হংকং ডলার সেভিংস হিসাব এবং ওই ব্যাংকে ছেলে ফয়সালের নামে একটি ইউএসডি সেভিংস ও একটি হংকং ডলার সেভিংস হিসাবে এসব অর্থ লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত