টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চরম বিশৃঙ্খলা!

এস.এম. ইসমাইল হাসান
বান্দরবান প্রতিনিধি 

alikadamচট্টগ্রাম, ০৯ নভেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস): আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও কর্মচারী সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। একই সাথে রয়েছে অকেজু হয়ে পড়েছে এ হাসপালের একমাত্র এ্যাম্বুলেন্সটি। নষ্ট এক্সরে মিশিন ও প্যাথলজির সরঞ্জাম। এর মধ্যে যে ক‘জন চিকিৎসক রয়েছে, তারা প্রাইভেট প্র্যাক্টিসে ব্যস্ত। কর্মচারীরা হানা-হানিতে। এই নিয়ে জেলা সিভিল সার্জন বরাবরে প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছেন স্থানীয় জনসাধারন।

এই বিষয়ে বান্দরবান জেলা সিভিল সার্জন উদয় শংকর চাকমা বলেন, আমি গত একদিন আগে একটি অভিযোগ পেয়েছি। কাজের ব্যস্ততার কারণে অভিযোগটি পুরোপুরি পড়া সম্ভব হয়নি। আমি বিস্তারিত দেখে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারী সংকটের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি মন্ত্রণালয়ে লিখেছি। বারবার লিখছি, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টিই আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সমস্যা সমাধান সম্ভব।

আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানাগেছে, এ-স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯জন চিকিৎসক থাকার নিয়ম থাকলেও রয়েছেন মাত্র ৪জন। তার মধ্যে হাসপাতালের চিকিৎসক মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী ছাড়া বাকীরা অনিয়মিত। কালে-ভাদ্রে এসে হাজিরা বইতে স্বাক্ষর করেন এবং বেতন নিয়ে কেটে পড়েন। ৩১ শয্যা হাসপাতালের নিয়মানুসারে এই হাসপাতালে ৯ সেবিকা (নার্স) থাকার নিয়ম থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ৪জন। অপর একজন দীর্ঘদিন কোন এক প্রশিক্ষণে। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রশিক্ষণের নামে এলাকাতেই অবস্থান করছেন ওই সেবিকা। একই ভাবে চারজন উপসহকারী মেডিকেল অফিসার এর স্থলে রয়েছেন চারজন। অযত্ন অবহেলায় নষ্ট হয়েগেছে অস্ত্রপাচারযোগ্য চিকিৎসা সরঞ্জামাদি। এক্স-রে মেশিনটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে প্রায় ৯ বছর। আল্ট্রাসোনো ও ইসিজি মেশিন কার্যকর থাকলেও সনোলজিষ্ট‘র অভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয় আজও। এম্বুলেন্সটিও বেশ কিছুদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। আই,পি,এস ও জেনারেটর অব্যবস্থাপনায় অকেজো। এমন তথ্য জানাগেছে হাসপাতালর চিকিৎসক ও কর্মচারীদের আলাপ করে।

জেলা সিভিল সার্জন বরাবরে এলাকাবাসীর দায়েরকৃত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সেবিকা ফাতেমা জান্নাত হান্না ও তার স্বামী ওয়াড বয় আবুল কালামকে রোয়াংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলী করা হয় ২০০০ সালে। এরপর থেকে ফাতেমা জান্নাত হান্না বিধি বর্হিভুত ভাবে একাধিক সিনিয়র থাকা সত্বেও একাধারে ওয়ার্ড ইনচার্জ এর দায়িত্ব পালন করেন নিজের দাফট দেখিয়ে। দীর্ঘদিন একই দায়িত্বে থাকিয়া নানা ধরনের অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন ফাতেমা ও তার স্বামী আবুল কালাম। হাসপাতালে প্রসুতি রোগি এলে প্রথমেই চুক্তি করার চেষ্টা করেন তিনি। তবে রোগির স্বনরা তার সাথে চুক্তিতে না গেলে রোগির অবস্থা জটিল বলে রেফার্ড করে দেন প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরত্বের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপালে। এতে অনেক গরীব রোগি নিয়ে যেমর চরম দূর্ভোগে পড়েন রোগির স্বজনরা। তেমনি জীবন নাশের উপক্রম হয় ওই প্রসুতি মায়ের। তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ আনা হয়, কোন রোগিকে হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসব করানোর পর চাহিদা মত টাকা পরিশোধ করতে না পারলে হাসপাতালে আটকিয়ে রোগির স্বজনদের নাজেহাল করেন সেবিকা ফাতেমা জান্নাত হান্না। এছাড়া ফামেতা জান্নাত হান্না প্রায় একনাগারে ১৫ বৎসর শুধুমাত্র সকালেই দায়িত্বপালন করছেন। তবে বিকেল বা নৈশকালীন দায়িত্ব এড়িয়ে গেছেন ক্ষমতার দাফটে। একইভাবে তার স্বামী ওয়ার্ড বয় কালামও ১৫বছর দায়িত্ব পালন করছেন জরুরী বিভাগে। আর এতে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে কর্মচারীদের মধ্যে।

সম্প্রতি দায়িত্ব বন্টনে অনিয়মের সূত্রে ধরে হাসপাতালের কুক মশালচি ইয়ারিং ¤্রাে ও একই হাসপাতালের সিনিয়র সেবিকা সুমা দে‘র ছেলে সুকান্তের কথা কাটাকাটি হয়। এর এক পর্যায়ে হাসপাতালের প্রধান ফটকে সুকান্ত ইয়াংরিং ¤্রােকে মারধর করে। পওে এই ঘটনায় থানায় মামলা পর্যন্ত গড়ায়। বর্তমানে সুকান্ত জেল হাজতে আটক আছেন। চরম অবহলোয় আছেন কোন ধরনের প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক না থাকায় আলীকদমের প্রায় ১লাখ নারী, পুরুষ ও শিশু।

এই বিষয়ে জানাতে চাইলে সেবিকা ফামেতা জান্নাত হান্না বলেন, কিছু লোক ইচ্ছাকৃত ভাবেই আমার বিরুদ্ধে এসব ষড়যন্ত্র করছে। আমি স্বইচ্ছায় একান থেকে চলে যেতে চাচ্ছি। এই জন্য জেলা সিভিল সার্জন বরাবরে লিখিত আবেদন করেছি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সবই মিথ্যা। একই কথা বলেন তার স্বামী হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় আবুল কালাম।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত