টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

টনক নড়েছে শাহ আমানতের, বাড়তি সতর্কতা

এস এম ইব্রাহিম
প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি টাইমস

bimanচট্টগ্রাম, ০৭ নভেম্বর (সিটিজি টাইমস):: শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে দূর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত এক আনসার সদস্য নিহত আরও ৩ নিরাপত্তা রক্ষী আহতের ঘটনার পর টনক নড়েছে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেরও।

শাহজালালের মতো আজ সোমবার সকাল থেকে শাহ আমানতেও বাড়তি সতর্কতা জারী করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশের বাড়তি সদস্য। প্রবেশে কড়াকড়ির পাশাপাশি বন্ধ রাখা হয়েছে টিকেট কেটে সাধারণের পরিদর্শন বাণিজ্য। তল্লাশি চালানো হচ্ছে বিদেশগামী যাত্রীদের শরীর ও লাগেজ।

শাহ আমানত বিমান বন্দরের এমন কড়াকড়ি আরোপের কথা স্বীকার করে ইমিগ্রেশন বিভাগের উপপরিদর্শক মো. হাসান সিটিজি টাইমসকে বলেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ছুরকিাঘাতে আনসার সদস্য নিহত ও আহতের ঘটনার আগের দিন ডিবি পুলিশ পরিচয় এক কোটি ৪০ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে শাহ আমানতে।

ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে শাহ আমানতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এর আওতায় পুলিশের বাড়তি সদস্য মোতায়েন ও তল্লাশি অভিযান চলছে।

শাহ আমানতের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলআইন্সের সুপারভাইজার শওকত মাহমুদ জানান, এ বিমান বন্দরে নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত পুলিশ ও আনসার সদস্য থাকলেও তারা নিজেরাই নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতেন। ইমিগ্রেশনের আওতায় থাকা এসব পুলিশ ও আনসার সদস্যরা বন্দর কার্যালয়ের ভিতরে পরিদর্শনের নামে ১৫০ ও ২০০ টাকায় টিকেট কেটে সাধারণনের প্রবেশের সুযোগ করে দিত। তাদের এই রমরমা বাণিজ্য এখন বুমেরাং হয়ে দাড়িয়েছে। গত শনিবার বিমান বন্দরের কার্যালয়ের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে এক যাত্রীর আনা ২৭টি চোরাই স্বর্ণের বার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে বন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।

তিনি জানান, শনিবার সন্ধ্যায় ওমান থেকে রিজেন্ট এয়ারওয়েজে হাটহাজারীর এক ব্যক্তি ২৭টি স্বর্ণের বার নিয়ে আসেন। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে মাসুদ নামে এক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করেন ওই যাত্রী। মাসুদ পরিদর্শক সেজে বন্দরের ভেতর প্রবেশের পর রাত ৮টার দিকে স্বর্ণের বারগুলো নিয়ে নেভাল রোডে আসার পর ডিবির টিম পরিচয় দিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে জোর করে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেয়।

এরপর পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের দিকে আধা কিলোমিটার দূরে গিয়ে স্বর্ণের বারগুলো কেড়ে নিয়ে মাসুদকে মাইক্রোবাস থেকে নামিয়ে দেয় তারা। এসময় পুলিশ অপরাধীকে আটক করছে ভেবে নীরব থাকেন প্রত্যক্ষদর্শীরাও। ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত মাইক্রোবাসের নম্বর চট্টমেট্রো-১১-৬২৬৫। এটি ছিল কালো রঙের। ছিনতাই করা ২৭টি স্বর্ণের বারের মোট দাম এক কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

আর এ ঘটনার পর গতকাল রোববার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ঘটে দূর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে আনসার নিহত ও আহতের ঘটনা। এ ঘটনায় রেড এলার্ট জারী করেন শাহ আমানত বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষ। বাড়ানো হয় নিরাপত্তা।

বিমান বন্দরের নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত ইমিগ্রশেন পুলিশের এসআই সায়মন সিটিজি টাইমস ডটকমকেবলেন, শাহজালালে ছুিরকাঘাত ও শাহ আমানতে স্বর্ণেও বার নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুলিশের সতর্কতা বেড়েছে। বিমান বন্দরে প্রবেশে কড়াকড়ির পাশাপাশি ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বন্ধ রাখা হয়েছে টিকেটে কেটে বন্দর কার্যালয়ের অভ্যন্তরে প্রবেশের সুযোগও।

শাহ আমানত বিমান বন্দরের ব্যবস্থাপক রিয়াজ উদ্দিন এ প্রসঙ্গে বলেন, শাহজালালে দূর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে আনসার সদস্য নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনায় শাহ আমানতেও বাড়তি সতর্কতা জারী করা হয়েছে। বন্দরের নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জোরদার করা হয়েছে র‌্যাবের টহলও।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত