টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কালো মেঘে ঢেকে আছে চট্টগ্রামের আকাশ, বেড়েছে দুর্ভোগ

প্রধান প্রতিবেদক
সিটিজি টাইমস ডটকম

চট্টগ্রাম,  ০৬  নভেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস)::  নিন্মচাপের প্রভাবে বৃহস্পতিবার থেকেই ঝরছে বৃষ্টি। আজ রোববার সকালে বৃষ্টি থামলেও আকাশ গুমট ধরে রয়েছে। নগরীর কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙা-চোরা সড়কে যান চলাচলে পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি।

ঘূর্ণিঝড় নাডার প্রভাবে দেশজুড়ে ঝরছে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি। এই বৃষ্টির মধ্যেই শনিবার ছুটির দিন হলেও নগরবাসী প্রয়োজনের তাগিদে রাস্তায় বের হয়। আজ রোববার কর্মদিবসেও গন্তব্যে পৌঁছতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় লেগেছে। যানজটের কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে তাদের।

নগরীর জিইসির মোড়ে ইয়ংওয়ানের কর্মকর্তা মনজুর আলম জানান, সকাল ৯টায় অফিস। ৮টায় বহদ্দারহাটের বাসা থেকে বেরিয়েও জিইসির মোড়ে আসতে বেজে যায় ৯টা। এখানেও গাড়িতে বসে আছি ৩০ মিনিটেরও বেশি। কখন যে অফিসে পৌছাব আল্লাই জানেন।

নগরীর জিইসির মোড়ে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ রতন দে বলেন, বৃষ্টির প্রভাবে গতকাল শনিবার ও আজ সকাল থেকে যানজট প্রকট আকার ধারণ করে। এর ফলে সাধ্যমত চেষ্টা করেও যানজট নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবুও আমরা যানজট নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে যাচ্ছি।

শনিবার বিভিন্ন সড়কে ঘুরে দেখা গেছে দীর্ঘ যানজট লেগে আছে। বিশেষ করে কালুরঘাট সড়কের কাপ্তাই রাস্তার মাথা ইপিজেড পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার, বহদ্দারহাট থেকে নিউমার্কেট মোড় পর্যন্ত ৪ কিলোমটার মুরাদপুর থেকে অক্সিজেন পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজট দেখা গেছে।

তবে এ যানজটের আরেক কারণ ভাঙা-চোরা সড়ক বলে দাবি করেছেন যানবাহনের অনেক চালক-হেলপার ও যাত্রীরা। আলাপাকালে একাধিক চালক বলেন, নগরীর কাপ্তাই রাস্তারমাথা থেকে ইপিজেড, মুরাদপুর থেকে অক্সিজেন পর্যন্ত সড়কে খানাখন্দে ভরা। যেখানে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচল কষ্ঠসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। এরমধ্যে আকাশ গুমট আকার ধারণ করায় অধিকাংশ যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে।

এছাড়া নগরীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্রেতার উপস্থিতি খুবই কম। প্রয়োজনের তাগিদে যারা বাইরে চলাফেরা করছে তাদের গায়ে মোটা কাপড়। যারা হালকা কাপড় পড়েছে তারা লু হাওয়ায় কাঁপছে। এতে শ্রমিজীবী মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এদিকে চট্টগ্রাম শাহআমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ম্যানেজার রিয়াজুল কবির বলেন, জেদ্দা ও আবুদাবি থেকে দুটি বিমান চট্টগ্রামে আসার কথা ছিল শনিবার দুপুরে। কিন্তু প্রতিকুল আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রামে না এসে দুটি বিমান ঢাকায় অবতরণ করে। আজকেও দুটি বিমান আসবে। কিন্তু আবহাওয়ার যা প্রতিকুল অবস্থা বিমান দুটি হয়তো অবতরণ করা সম্ভব হবে না।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ ফরিদ আলম বলেন, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নি¤œচাপটি উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় গভীর নি¤œচাপে পরিণত হয়েছে। এটি দূর্বল হয়ে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বরিশাল-চট্টগ্রাম উপক‚ল অতিক্রম করছে। আজ সকাল থেকে বৃষ্টিপাত থেমে থাকলেও যে কোন সময় আবারও মাঝারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হতে পারে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত