টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও বন্দরের জরুরি সভা আহ্বান

চট্টগ্রাম,  ০৫  নভেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিচ্ছে। এর ফলে সাগর উত্তাল রয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতরের শনিবার ঘোষিত সর্বশেষ বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে সাগর ও সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় ৪ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় ‘নাডা’র প্রভাবে কালো মেঘে ছেয়ে গেছে চট্টগ্রামের আকাশ। ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে পড়ছে বৃষ্টি। প্রধান সড়কগুলোতে গাড়ির সংখ্যা ক্রমে কমে যাচ্ছে। হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে বেশিরভাগ গাড়ি।

ঘূর্ণিঝড় ‘নাডা’র ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রাণহানি রোধে করণীয় নির্ধারণে শনিবার (০৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাতটায় সভা করবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, চট্টগ্রাম।

জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় দুর্যোগকালীন সেবার সঙ্গে সম্পর্কিত সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের ডাকা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুস সামাদ সিকদার।

এ ছাড়া দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের চ্যানেল, জেটি, হ্যান্ডলিং ইক্যুইপমেন্ট ইত্যাদি নিরাপদ রাখার স্বার্থে শনিবার সন্ধ্যা সাতটায় জরুরি সভা আহ্বান করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বন্দরের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলম বলেন, বন্দর ভবনে সন্ধ্যা সাতটায় জরুরি সভায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদিও আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংকেত ভেদে বন্দরের করণীয় সম্পর্কিত গাইডলাইন রয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি সামান্য উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। তবে এটি নিম্নচাপ থেকে দ্রুত গভীর নিম্নচাপে পরিণত হচ্ছে। এটি আজ শনিবার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৬৫ কি.মি. পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৩৫ কি.মি. পশ্চিম-দক্ষিণ পশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮০০ কি. মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮২০ কি. মি. দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে। নিম্নচাপটির প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালার সৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়া অফিসের আগের বুলেটিনে জানানো হয়েছে, নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কি. মি. এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কি.মি. যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কি. মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর সমূহকে চার নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

শনিবার আবহাওয়ার ওই বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠী, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং এর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ২ থেকে ৩ ফুট বেশি উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

এতে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাগরে না নামতে বলা হয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছধরা নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদেরকে গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘নাডা’র প্রভাবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও কলকাতা এলাকাতেও গত বৃহস্পতিবার থেকে প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে। কলকাতার সংবাদমাধ্যমগুলো ভারতের দিল্লির মৌসম ভবনের সাইক্লোন সতর্কতা বিভাগের অধিকর্তা এম মহাপাত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ‘নাডার গতিপথের গাণিতিক সমীকরণ বলছে, শনিবার-রবিবার সামুদ্রিক ঝড় নাডা বাংলাদেশ উপকূলে আছড়ে পড়বে। নাডার কারণে আগামী শুক্র থেকে রবিবার অন্ধ্র প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, ওডিশার উপকূলবর্তী অঞ্চলে ভারি বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।’

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত