টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

‘ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে মানুষ আত্মহত্যা করছে’

চট্টগ্রাম,  ০৫  নভেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে মানুষের আসলে কোনো লাভ হয় না মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই ধরনের ঋণের চক্র থেকে দেশবাসীকে বের করে আনতে কাজ করছে সরকার। তিনি বলেন, ক্ষুদ্রঋণ যেন নিতে না হয়, সেজন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। এসব প্রকল্পেও ঋণ দেয়া হবে এবং ঋণগ্রহীতাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে উৎসাহী করা হচ্ছে।

জাতীয় সমবায় দিবসে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। দারিদ্র্য বিমোচনে সমবায় আন্দোলনকে আরও গতিশীল করতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে এজন্য নতুন আইন করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সমবায়ের মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। যেমন আমরা কয়েকটি প্রকল্প নিয়েছে। এর একটি আশ্রয়ণ। এই প্রকল্পে যাদেরকে ঘরবাড়ি দিচ্ছি, তাদেরকে সমবায় করে দিচ্ছি, যাতে করে যৌথভাবে বসবাস ও যৌথভাবে চলাটা তারা শেখে।’

সমবায় সম্প্রসারণে বিভিন্ন কার্যক্রম নেয়া হয়েছে জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, নতুন আইন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দেশে সমবায়ভিত্তিক একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্রঋণ কোনো ভূমিকা রাখে না- উল্টো ক্ষতির কারণ হয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাইক্রোক্রেডিট নিয়ে ঋণের বোঝা নিয়ে মানুষকে আত্মহত্যা করতে হচ্ছে অথবা পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে অথবা ঘরবাড়ি, জমিজমা সব বিক্রি করে নিঃস্ব হতে হচ্ছে। এভাবে যাতে নিঃস্ব না হয় সেজন্য মাইক্রোক্রেডিটের বদলে মাইক্রোসেভিংসের দিকে যাচ্ছি আমরা।’

শেখ হাসিনা বলেন, একটি বাড়ি একটি প্রকল্পেও সমিতি করা হচ্ছে। সেখানে যারা থাকবেন, তাদেরকেও সরকার ঋণ দেবে। আর ঋণ নিয়ে উৎপাদন করে তারা যত সঞ্চয় করবে, ‍দুই বছর পর্যন্ত সরকারও তাদেরকে তত টাকা দেবে। এই টাকা থাকবে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে। পরে এই টাকা দিয়েই সে নিজের ব্যবসাটা চালিয়ে যাবে। এতে করে তাকে কারও কাছে হাত পাততে হবে না।

সরকার দেশে কৃষি জমি রক্ষা করেই শিল্পায়নের ওপর জোর দিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যত্রতত্র কৃষিজমি নষ্ট করে শিল্প গড়া যাবে না। এজন্য দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে ‍তোলা হবে। যেসব অঞ্চলে কোনো শিল্পের কাঁচামাল বেশি হয়, সেসব অঞ্চলে এসব উপাদান ব্যবহার করে গড়া যায় এমন শিল্প করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, এতে উৎপাদিন পণ্য বাজারজাত করা যেমন সহজ হবে, প্রক্রিয়াজাত করাও তেমন সহজ হবে।

উৎপাদক যেন তার পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায়, সেজন্য অনলাইনে কেনাকাটা বাড়ানোর তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, এখন ইউনিয়ন পর্যায়েও এটা ছড়িয়েছে। কোরবানির গরুও এখন অনলাইনে মানুষ কিনতে পারে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত