টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সমবায়ের নামে প্রতারণার শিকার ফটিকছড়ির লাখো গ্রাহক

চট্টগ্রাম, ০৫ নভেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: আজ জাতীয় সমবায় দিবস। নানা কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হবে এ দিবসটি। দিবসটি উদযাপনের জন্য যখন সমবায় অধিদফতরসহ বিভিন্ন সমবায় সংগঠন নানা প্রস্তুতি গ্রহণ করছে ঠিক তখনি ফটিকছড়ির লাখো গ্রাহক তাদের মূলধন ফিরিয়ে দেয়ার আকুতি জানাচ্ছে প্রশাসনের কাছে।

কতিপয় সমবায় সমিতির মাধ্যমে উন্নয়নের পরিবর্তে আজ লাখ লাখ মানুষ প্রতারণার শিকার হয়েছে। জনগণের রক্ষিত কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে ভূইফোড় এসব সমিতির কর্তারা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুর কাজিরহাট বাজারে আলফা “ডেভেলপমেন্ট মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি” নাম দিয়ে ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে স্থানীয় আলপনা সেনগুপ্ত এর নেতৃত্বে একটি সমবায় সমিতির আত্মপ্রকাশ ঘটে।

একই বাজারে “ট্রাস্ট ডেভেলপমেন্ট মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি” নামে স্থানীয় খোরশেদ এর নেতৃত্বে ২০১১ সালের মে মাসে আত্মপ্রকাশ ঘটে অপর একটি সমবায় সমিতির।

অপরদিকে নারায়ণহাট ইউনিয়নে “শাহ সুন্দর মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি” নাম দিয়ে ২০০৮ সালে সেপ্টেম্বর মাসে স্থানীয় হরিপদ দাশের নেতৃত্বে আরেকটি সমবায় সমিতি যাত্রা শুরু করে।

এগুলো প্রতিষ্ঠার একই বছর ফটিকছড়ি উপজেলা সমবায় অফিসের নিবন্ধন প্রাপ্ত হয়। নিবন্ধন পেয়ে বড় সড় কার্যালয় ভাড়া নিয়ে, বেশ আলোড়িত সাজসজ্জা করে দৈনিক সঞ্চয়, সাপ্তাহিক সঞ্চয়, মাসিক সঞ্চয়, মাসিক ডিপিএস, এককালীন বিনিয়োগ, মাসিক লাভের বিনিয়োগ, দ্বিগুন লাভ বিনিয়োগ ইত্যাদি মনভুলানো প্রকল্প শুরু করে।

এজন্য গ্রাহকদের স্ব স্ব কোম্পানির মনোগ্রাম, নাম সম্বলিত পাস বই, সঞ্চয় বই, ঋণের বই বিতরণ করে। এককালীন ও মাসিক লভ্যাংসের বড় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ননজ্যুডিশিয়াল স্টাম্পে চুক্তিপত্র এবং কোম্পানির বিভিন্ন কর্তার ব্যক্তিগত ব্যাংক একাউন্টের চেকও বিতরণ করে প্রমাণ স্বরুপ।

কিন্তু এসব সমবায় সমিতি গ্রাহকের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা রয়েছে বিগত ৬ মাস থেকে এক বছর যাবত। নেই সঞ্চয় জমা, লাভ দেওয়া, ঋণ দেওয়া নেওয়া।

এ নিয়ে ক্ষুদ্ধ ও প্রতারণার শিকার গ্রাহকরা ফটিকছড়ি উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ দিলে ঘটনার সত্যতা মিলে।

আলফা মাল্টি পারপাসের গ্রাহক আব্দুল মোনাফ জানান, ২০১৫ সালে নিজে এবং মেয়ের জামাই থেকে মাসিক ২২ হাজার টাকা লাভের উপর ২২ লাখ টাকা দিই। দুই মাস ঠিক মতো লভ্যাংশ দেয়। তারপর থেকে তারা লাপাত্তা।

বিদেশ ফেরত যুবক শাহজাহান জানান, প্রাইম ব্যাংকে জমা থাকা ১৫ লাখ টাকা আলফার তাপস সেনগুপ্তের হাতে দিই মাসে ৩০ হাজার টাকা লাভের উপর। এক মাস লাভ পাই। তারপর তারা লাপাত্তা।

এভাবে ভূজপুর, নারায়ণহাট, দাতমারা, হেয়াকো, হারুয়ালছড়ি, পাইন্দং, ফটিকছড়ি সদর এলাকার লাখ লাখ গ্রাহক প্রতারণার শিকার এই তিন সমবায় সমিাতর কাছে।

এ ব্যাপারে ফটিকছড়ি উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আয়ুবুর রহমান বলেন, আলফা, ট্রাস্ট, শাহ সুন্দর মাল্টিপারপাস কোঅপারেটিভ সোসাইটি নামক তিনটি প্রতিষ্ঠান অত্র অফিসের নিবন্ধন প্রাপ্ত। তাদের লাপাত্তা হওয়ার খবর জেনেছি। আমাদের অডিট মতে আলফার বিরুদ্ধে ১৩ লাখ ৮৩ হাজার ৪শ ৪৮ টাকা, ট্রাস্টের বিরুদ্ধে ৫৮ লাখ ৩১ হাজার ৩০৮ টাকা এবং শাহ সুন্দর এর বিরুদ্ধে ৮০ লাখ ৩১ হাজার ১১৫ টাকা আত্মসাত করার মামলা দায়ের করেছি ভূজপুর থানায়। অডিটের বাইরেও তারা গ্রাহকের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা রয়েছে।

তাদের বিরুদ্ধে সমবায় আইন ভঙ্গ বিধিমালায় আরো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুমতি চেয়ে জেলা সমবায় কর্মকর্তার কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত