টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাইয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌনহয়রানীর অভিযোগ

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

চট্টগ্রাম,  ০৪  নভেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস): মিরসরাই উপজেলায় এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২ নভেম্বর) বিকেলে ৫ম শ্রেনীর কন্যা শিশুদের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত ধূম ইউনিয়নের উত্তর নাহেরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিধান চক্রবর্তি মিরসরাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাৎক্ষনিক বদলী করেন। তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকেও অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

৫ কন্যা শিশু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রদান করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা যায় মিরসরাই উপজেলার ধূম ইউনিয়নের উত্তর নাহেরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিধান চক্রবর্তি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি করছিল। শিশু শিক্ষার্থীরা জানায় উক্ত শিক্ষক তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে হাত দিয়ে প্রায়ই যৌন হয়রানী করতো। আবার কাউকে বলে দিলে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেবার হুমকী দিতো। অবশেষের শিশুরা বিষয়টি তাদের মা বাবাকে জানালে অভিবাবকরা একত্রিত হয়ে বুধবার (২ নভেম্বর) বিকেলে মিরসরাই উপজেলা শিক্ষা অফিসার গোলাম রহমান চৌধুরীর কাছে এলে শিক্ষা অফিসার শিশু ও অভিবাবকদের বক্তব্য শুনে উক্ত শিক্ষককে তাৎক্ষনিক শিক্ষা অফিসে ডেকে আনেন। উপস্থিত শিশুদের উপস্থিতিতেই উক্ত শিক্ষককে কর্মরত বিদ্যালয় থেকে প্রত্যাহার করে উপজেলার ১১নং মঘাদিয়া ইউনিয়নের বদিউল্লাহ পাড়া বিদ্যালয়ে বদলীর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেন।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার গোলাম রহমান চৌধুরী জানান, ছাত্রীদের যৌন হয়রানির এই অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়েছে। এমন ন্যক্কারজনক ঘটনাকে কোন ভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। তিনি এই বিষয়ে এই উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেছেন। তাৎক্ষনিক ভাবে তাকে অন্যত্র বদলী করা হয়েছে।

এই বিষয়ে মিরসরাই প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মনজুর কাদের চৌধুরী বলেন ঘটনাটির তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেয়া হলে ও এই বিষয়ে আরো বিষদ তদন্ত করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি ।
অভিযোগকারী এক শিশু ছাত্রীর মা জোসনা আরা বেগম শিক্ষা অফিসে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর পূর্বে ও কয়েকবার একইরকম অভিযোগ উঠার পর স্থানীয় প্রভাবশালীদের সাহায্য নিয়ে উক্ত শিক্ষক বিষয়গুলো ধামাচাপা দেয়। তাই আমরা অতিষ্ট হয়ে এখন সরাসরি শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে মৌখিত ও লিখিত অভিযোগ প্রদান করতে নিজেরাই এসেছি।

অভিযুক্ত শিক্ষক বিধান চক্রবর্তী মুঠোফোনে এই প্রতিবেকদকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এলাকার কিছু কুচক্রী ছাত্রীদের দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে। যৌন হয়রানির সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই বলে তিনি দাবী করেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত