টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

`সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে’

চট্টগ্রাম, ০৩ নভেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: টানা দুই দফা ক্ষমতায় থাকায় বর্তমান সরকার দেশে ব্যাপক উন্নয়ন করতে পেরেছে মন্তব্য করে সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। সব খাতেই এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে আরও উন্নয়ন হবে। জাতীয় চার নেতার স্মরণে বৃহস্পতিবার বিকালে আওয়ামী লীগের এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত হয় আলোচনা সভাটি। এই আলোচনায় বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান হত্যায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, জিয়াউর রহমান খুনিদের বাঁচাতে চেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার রক্তের স্বপ্নের দেশ হওয়ার পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করার অঙ্গীকার করেন।  ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর ২০১৪ সালের নির্বাচনেও ক্ষমতায় যায় আওয়ামী লীগ। তবে সর্বশেষ নির্বাচনে বিএনপি ও তার মিত্ররা অংশ না নেয়ায় এ নির্বাচনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই জয় পায় ক্ষমতাসীন দল। তবে দল পর পর দুই দফা ক্ষমতায় আসায় দেশ উপকৃত হয়েছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  প্রধানমন্ত্রী বেলন, ‘যেহেতু সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় আছে তাই আমাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় থাকছে। আজকে আমরা অর্থনৈতিকভাবে যথেষ্ট স্বাবলম্বী। অন্যের কাছে হাত না পেতে আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারি, যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার মতো ক্ষমতা আজকে বাংলাদেশ রাখে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘অপবাদ দিলেই আমরা এখন সেটা মাথা পেতে নেই না। কোনো অপবাদ দিলে আমরা সেটা চ্যালেঞ্জ করে আমরা দেখিয়ে দিয়েছি, হ্যাঁ, বাংলাদেশ পারে।’ তিনি পদ্মা সেতুর উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে অপবাদ দেয়ার চেষ্টা হয়েছিল, আমরা প্রতিবাদ করে দাঁড়ালাম। আজকে আমরা নিজেদের অর্থায়নেই পদ্মা সেতু নির্মাণ করছি।’ গত ২২ ও ২৩ অক্টোবরের জাতীয় সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যেও প্রধানমন্ত্রী আগামী জাতীয় নির্বাচনে জিততে ভোটারদের মন জয় করতে নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সেই থেকে তার প্রতিটি বক্তব্যেই আগামী জাতীয় নির্বাচনের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। চার জাতীয় নেতার স্মরণসভাতেও প্রধানমন্ত্রী একই ধরনের কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। যেহেতু সরাকরের ধারাবাহিকতা ছিল বলেই উন্নয়নগুলো আমরা করতে পেরেছি। উন্নয়নগুলো করতে পারবো ভবিষ্যতেও।’ তিনি বলেন, ‘আজকে প্রত্যেকটা সেক্টরে উন্নয়ন করেছি। একটা স্বাধীন দেশ হিসেবে মর্যাদা নিয়ে চলার মতো মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান আমাদের হয়েছে। বিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের একটা রোল মডেল।’ বিএনপিতে আয়নায় নিজের চেহারা দেখার পরামর্শ বর্তমান সরকারের সমালোচনা না করে বিএনপিকে তারা ক্ষমতায় থাকতে কী করেছে-তা খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, কেবল খালেদা জিয়া, না দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে অনেক সময় খুব বক্তৃতা্ দিয়ে বলেন, জিয়াউর রহমান নাকি দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছিল।কী গণতন্ত্র দিয়েছিল? ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতি রাতে বাংলাদেশে কারফিউ ছিল। রাত ১০টা ১১টার পর থেকে কোনো মানুষ বের হতে পারতো না। সকাল ছয়টা পর্যন্ত কারফিউ চলতো। তাহলে জিয়াউর রহমান কি কারফিউ গণতন্ত্র দিয়েছিল?’। শেখ হাসিনা বলেন, ‘একই সঙ্গে সে (জিয়াউর) ছিল সেনাপ্রধান আবার রাষ্ট্রপ্রধান। অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসে সে দল গঠন করে।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকে কলুষিত করা এ দেশে শুরু করে কে? সেটাও জিয়াউর রহমান। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে দল গঠন করে প্রথমে হ্যাঁ- না ভোট দিয়েছিল। না’র বাক্স আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। সব ভোট দিয়ে পড়েছিল হ্যাঁর বাক্সে। এরপর এলো রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। একজন সেনা কর্মকর্তা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে না। আর্মি রুল-অ্যাক্টে সেটা ছিল না। সেখানে সে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে। এরপর দল গঠন। কীভাবে সে দল গঠন করে?’। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় বসে থেকে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে যে দলটা গঠন করে, সেটা আর যাই হোক জনগণের দল হয় না। জনগণের কল্যাণ তারা করতে পারে না।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত