টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

৭ নভেম্বরের সমাবেশ: পিছিয়ে এলেন রিজভী

চট্টগ্রাম,  ০৩ নভেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: ৭ নভেম্বরের স্মরণে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যে কোনো মূল্যে সমাবেশ করার ঘোষণা থেকে পিছিয়ে এলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলছেন, বিএনপি যেদিন অনুমতি পাবে সেদিন এই সমাবেশ করবে।

বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির এই নেতা এ কথা বলেন। তিনি বলেন, `বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ৭ ও ৮ নভেম্বরের যেকোনো দিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার জন্য আবেদন করেছি। আশা করছি অনুমতি পাব। এ ব্যাপারে সরকার শুভবুদ্ধির পরিচয় দেবে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থানের এক পরিস্থিতিতে ৭ নভেম্বর রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান।

সেদিন আওয়ামী লীগের সে সময়ের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী জাসদ সেনাবাহিনীর জওয়ানদেরকে ব্যবহার করে সশস্ত্র বিপ্লবের চেষ্টা করেছিল। সেদিন সেনাবাহিনীর জওয়ানরা সেনাবাহিনীর শতাধিক কর্মকর্তাকে হত্যা করে। তবে জাসদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয় এবং এই কথিত বিপ্লবকে ব্যবহার করে সামরিক আইন প্রশাসক এবং পরে রাষ্ট্রপতি হন জিয়াউর রহমান। আর ক্ষমতায় এসে গঠন করেন তার দল বিএনপি।

৭ নভেম্বরের এই দিনটিতে আওয়ামী লীগ মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস হিসেবে পালন করে। আর বিএনপি পালন করে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে। এই দিনটির স্মরণে এবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের ডাক দেয়া বিএনপি এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, সেদিনের সমাবেশ হবে স্মরণকালের বৃহত্তম কর্মসূচি।

তবে ‘মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবসে’ কাউকে সমাবেশ করতে না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের দুই নেতা মাহবুবউল আলম হানিফ ও হাছান মাহমুদ।

ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের এই বক্তব্যের পর গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা রিজভী বলেন, হানিফ সাহেবরা ঠেকোনোর চেষ্টা করুক, বিএনপি সেদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাবেই। রিজভী বলেন, ‘৭ নভেম্বর গণতন্ত্র ফিরে পাবার ও স্বাধীনতা সুরক্ষার একটি মহান দিন। এই দিবস পালিত হবে। আমি বিএনপির পক্ষ থেকে বলছি, হানিফ সাহেবরা প্রতিহত করুন। আমরা জলপাইয়ের পাতা নিয়ে এগিয়ে যাব, দিবসটি পালন করবই।’

তবে দুই দিনের মাথায় রিজভী তার আগের অবস্থান থেকে পিছিয়ে এসে বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যেদিনের অনুমতি পাব, সেদিনই আমরা সমাবেশ করবো।’ তিনি বলেন, ‘আমরা ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসের দিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। আমাদের বিভিন্ন অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনগুলোও ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ’

রিজভী বলেন, ‘সমাবেশকে সামনে রেখে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তল্লাশি চালিয়ে হয়রানি করছে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুস সালাম আজাদ, বেলাল আহমেদসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত