টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে শতাধিক পরিত্যক্ত সরকারি বাড়ি অবৈধ দখলে

প্রধান প্রতিবেদক
সিটিজি টাইমস ডটকম 

gov-houseচট্টগ্রাম,  ০১ নভেম্বর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: চট্টগ্রামে হালিশহরের সর্দার বাহাদুর নগরে ২৩৩ নম্বর সরকারি পরিত্যক্ত বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রেখেছে মৃত নবী হোসেনের পরিবার। ১০ শতক জায়গার ওপর নির্মিত বাড়িটির বর্তমান মূল্য কয়েক কোটি টাকা। আদালতে স্বত্বের মামলা করে বছরের পর বছর বাড়িটিতে বসবাস করে আসছেন তারা।

এভাবে হালিশহর, ফিরোজ শাহ কলোনি, শেরশাহ কলোনিসহ নগরীর বিভিন্ন জায়গায় বেদখল আছে আরো ১১৯টি সরকারি বাড়ি। স্থানীয় প্রভাবশালীরা ভুয়া কাগজপত্র তৈরি ও আদালতে স্বত্বের মামলা দায়েরসহ নানা কৌশলে এসব বাড়ি দখলে রাখা হয়েছে।

গত বছর জামাল খান এলাকায় আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে দখলমুক্ত করা হয় একটি সরকারি বাড়ি। সরকারি কলেজের সাবেক এক শিক্ষক প্রায় ৩০ বছর ধরে দখল করে রেখেছিলেন বাড়িটি। কিন্তু দখলদাররা প্রভাবশালী হওয়ায় ও আইনি জটিলতার কারণে এসব বাড়ির অধিকাংশই উদ্ধার সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা।

হালিশহরের ২৩৩ নম্বর বাড়িতে বসবাসকারী মৃত নবী হোসেনের ছেলে এ প্রসঙ্গে বলেন, প্রায় দুই যুগ ধরে আমরা এ জমিতে বসবাস করছি। বিভিন্ন সময় গণপূর্তের পক্ষ থেকে বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, খরিদ সূত্রে এ বাড়ির মালিক আমার বাবা (নবী হোসেন)। বর্তমানে এ জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। তাই আমরা এখনো বসবাস করছি।

গণপূর্ত বিভাগ চট্টগ্রাম কার্যালয়ের তথ্যমতে, বিভাগের আওতায় চট্টগ্রামে বর্তমানে ৩৩০টি সরকারি বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে ১৬১টি সংরক্ষিত। আর পরিত্যক্ত রয়েছে ১৬৯টি। সংরক্ষিত বাড়িগুলোর মধ্যে ২৪টি এরই মধ্যে বেহাত হয়ে গেছে। বাকি ১৩৭টি বাড়ি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসস্থান ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।

অন্যদিকে পরিত্যক্ত ১৬৯টি বাড়ির মধ্যে বেহাত হয়েছে ৯৫টি। বেশির ভাগ দখলদারই নানা কৌশলে মালিকানা দাবি করে বাড়িগুলো ছাড়ছে না। বেদখলে চলে যাওয়া বেশির ভাগ বাড়ির অবস্থান নগরীর হালিশহর, ফিরোজ শাহ কলোনি ও শেরশাহ কলোনিতে। এছাড়া চট্টগ্রামে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ও গণপূর্ত বিভাগের আওতায় দুই হাজারের বেশি সরকারি বাড়ি ছিল। এর মধ্যে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের হাতে ছিল ১ হাজার ৭৬৫টি বাড়ি। বিভিন্ন সময় তারা এসব বাড়ি বিক্রি করে দেয়ায় এখন তাদের আওতায় রয়েছে ৩৫-৪০টি বাড়ি। এসব বাড়ির অধিকাংশই দখল করে রেখেছে প্রভাবশালীরা।

জানা গেছে, বেহাত হওয়া সরকারি বাড়িগুলো গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের আওতাধীন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বাড়িগুলো তাদেরই রক্ষণাবেক্ষণ করার কথা। তবে দখলে না থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে এসব বাড়ি সংস্কার-মেরামতও করা যাচ্ছে না। এতে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে শতাধিক বাড়ি। দখল ধরে রাখতে ঝুঁকি নিয়েই বাড়িগুলোয় বসবাস করছে দখলদাররা। অনেকেই স্বত্ব ঘোষণার মামলা ঠুকে বাড়ি দখল রেখেছে। অনেকে এমনকি মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের নামে বাড়ি দখল করেছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বাড়ি উদ্ধারে অনাগ্রহকে দায়ী করেছেন অনেকে।

পদাধিকারবলে চট্টগ্রামের পরিত্যক্ত সরকারি স¤পত্তি বোর্ডের চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার। চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার শংকর রঞ্জন সাহা এ প্রসঙ্গে বলেন, সরকারি স¤পত্তি দখলের সঙ্গে অনেক রাঘববোয়াল জড়িত। অনেকেই ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সরকারি বাড়িগুলো দখল করে রেখেছে। অস্তিত্বহীন মানুষের নামে পর্যন্ত বাড়ি দখলে রাখা হয়েছে। মামলা থাকায় এসব বাড়ি সহজে উদ্ধার করা যাচ্ছে না। উচ্ছেদ করতে গেলেই আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়।

গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রামে অর্ধশত বাড়ি নিয়ে দখলদারদের দায়ের করা মামলার রায় গণপূর্ত বিভাগের পক্ষে গেছে। তবে উচ্চ আদালতে দখলদারদের করা আপিলের চ‚ড়ান্ত নি®পত্তি না হওয়ায় এসব বাড়ির দখল ফিরে পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে গণপূর্তের ১০৭টি বাড়ি নিয়ে মামলা চলছে। এর মধ্যে নিন্ম আদালতে চলছে ৫৬টি। আর উচ্চ আদালতে নি®পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে আরো ৫১টি মামলা।

চট্টগ্রামের গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুল আলম এ প্রসঙ্গে সিটিজি টাইমস ডটকমকে বলেন, অবৈধ দখলদাররা অনেক আগেই কৌশলে সরকারি বাড়িগুলো দখলে নিয়েছে। এরপর তারা দখল ও মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা করেছে। এভাবে সংরক্ষিত ও পরিত্যক্ত শতাধিক বাড়ি বেদখল হয়ে গেছে। আমরাও আদালতের মাধ্যমে এগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছি। এরই মধ্যে অনেক মামলার রায় আমাদের পক্ষে এসেছে। এর পর দখলদাররা উচ্চ আদালতে আপিল করেছে। তাই দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরও এসব বাড়ি দখলমুক্ত করা যাচ্ছে না। তাছাড়া মামলাগুলো মোকাবেলা করার মতো পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বিভাগের আরেক নির্বাহী প্রকৌশলী ওম প্রকাশ সিটিজি টাইমস ডটকমকে বলেন, দীর্ঘদিন বেদখল থাকায় সরকারি বাড়িগুলো উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বহু চেষ্টার পর গত বছর জামাল খান এলাকায় একটি বাড়ি উদ্ধার সম্ভব হয়েছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত