টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

আফ্রিকা থেকে এক জোড়া বাঘ আসছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায়

এস এম ইব্রাহিম
প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি ডটকম 

chittagong-zooচট্টগ্রাম, ৩১  অক্টোবর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দেশ। তবুও চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় বর্তমানে কোন বাঘ নেই। ফলে তেমন দর্শনার্থী টানতে পারছে না চিড়িয়াখানাটি। দর্শনার্থীর কথা চিন্তা করে এবার সুদুর আফ্রিকা থেকে একজোড়া বাঘ আনার উদ্যোগ নিয়েছেন চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

এর আগে চিড়িয়াখানাটির একমাত্র শোভা বর্ধনকারী সিংহীর জন্য গত সেপ্টেম্বর মাসে রংপুর চিড়িয়াখানা থেকে আনা হয় এক পুরুষ সিংহকে। যাকে ঘিরে কিছুটা হলেও চাঙ্গা হয়ে উঠে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা। যা থেকে বাঘ আনার অনুপ্রেরণা জন্মেছে বলে জানান চিড়িয়াখানার সহকারী তত্ত¡াবধায়ক ড. মো. মঞ্জুর মোর্শেদ ।

তিনি জানান, ২০১২ সালের ৩০ অক্টোবর চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় সর্বশেষ বাঘিনী পূর্ণিমা রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যায়। আর পুরুষ বাঘ চন্দ্র মারা যায় ২০০৯ সালে। ২০০৪ সালে ঢাকা চিড়িয়াখানা থেকে বাঘ দুটি চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় আনা হয়। এরপর থেকে বাঘশূন্য হয়ে পড়ে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা।

সরেজমিনে দেখা যায়, চিড়িয়াখানায় আগত দর্শনার্থী বাঘের খাঁচার সামনে ভিড় জমায়। কিন্তু খাঁচায় বাঘ না থাকায় হতাশ হন। গতকাল রবিবার নগরীর আগ্রাবাদ থেকে এক ছেলে ও েেময়কে নিয়ে চিড়িয়াখানা দেখতে আসেন নুসরাত জাহান।

হতাশ মনে তিনি বলেন, চিড়িয়াখানায় একটি বাঘও নেই। বাঘ ছাড়া চিড়িয়াখানা চিন্তাও করা যায় না। ছেলে-মেয়েরাও চিড়িয়াখানায় এসেছে বাঘ দেখার জন্যই। কিন্তু বাঘ যে নেই সেটা জানা ছিল না বলে জানান তিনি।

বাঘ আনা সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার এক্সিকিউটিভ সদস্য সচিব রুহুল আমিন বলেন, চিড়িয়াখানায় ঘুরতে এসে বাঘ দেখতে না পেয়ে শিশুরা মর্মাহত হয়। তাছাড়া বাঘ থাকলে চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীও বেশি আসে। তাই আমরা বাঘ আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনি বলেন, দর্শনার্থী বাড়ানোর কথা চিন্তা করে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বাঘ আমদানি করতে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহŸান করেছে। স্যালকন ট্রেডার নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের চুক্তি সই হয়েছে। সাত মাস বয়সী দুটো বাঘ আফ্রিকা থেকে আমদানিতে খরচ পড়বে ৩৩ লাখ টাকা। বাঘ আমদানির সব খরচ চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বহন করবে।

তিনি বলেন, বাঘ আমদানির জন্য বনবিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র লাগবে। যা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ছাড়পত্র পেলে এক সপ্তাহের মধ্যে বাঘ দেশে এসে পৌছাতে পারে। সবমিলিয়ে আগামি ১৬ ডিসেম্বরের আগে বাঘ দুটি চিড়িয়াখানায় পৌঁছাবে বলে আশা করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, চিড়িয়াখানায় বিভিন্ন জাতের প্রাণি আনতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। স¤প্রতি রংপুর চিড়িয়াখানা থেকে আমরা সিংহীর জন্য একটি সিংহ এনেছি। এছাড়াও খুব অল্প সময়ের মধ্যে চিড়িয়াখানায় আরও কিছু ভিন্ন প্রজাতির প্রাণি আনা হবে।

রয়েল বেঙল টাইগারের দেশে বিদেশ থেকে বাঘ আমদানি কেন জানতে চাইলে রুহুল আমিন বলেন, ২০১২ সালের পর থেকে বাঘের খাঁচাটি শূন্য পড়ে আছে। বাঘ আনার জন্য আমরা ঢাকা চিড়িয়াখানা ও ডুলাহাজরা সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষকে কমপক্ষে চার দফায় চিঠি দিয়েছি। কিন্তু তারা কোনও সাড়া দেয়নি।

তাই বিকল্প কোন উপায় না থাকায় আমরা একজোড়া বাঘ আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যদি দেশের চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় থাকতো তবে আমাদের বাঘ আমদানি করা লাগতো না।

দর্শনার্থীদের মতে, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার কয়েক প্রজাতির পশু, পাখি আছে। কিন্তু বাঘ, জিরাফ, হাতি, গন্ডার এবং জলহস্তির মতো বড় প্রাণি নেই। এসব রাখা হলে দর্শনার্থীদের ভীড় সামলাতে পারবে না চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালের ২৮ ফেবব্রæয়ারি চট্টগ্রাম ফয়েস লেক এলাকায় মাত্র ৬ একর জমির ওপর চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে এখানে ৬৭ প্রজাতির মোট ৩৬০টি প্রাণি আছে। যাদের মধ্যে ৩৪ প্রজাতির পাখি রয়েছে। বাকিগুলো সরীসৃপ ও অন্যান্য প্রজাতির প্রাণি।

বর্তমানে এ চিড়িয়াখানায় লেক্সগুর, হনুমান, বানর, মেছো বিড়াল, বুনো বিড়াল, হরিণ, ময়ূর, ধনেশ, বড় গন্ধগোকুল, চিতা বিড়াল, শকুন, কুমির, সারস, কচ্ছপ, অজগর ও শিয়ালসহ অন্যান্য প্রজাতির প্রাণি রয়েছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত