টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চবিতে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতিতে ভাই-বোনসহ আটক ৪

চবি প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ২৯ অক্টোবর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) “ই” ইউনিটের অধীন আইন অনুষদদের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির দায়ে ৪ জনকে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ। পরে তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। শনিবার পরীক্ষাচলাকীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ৫০৫ নং কক্ষ থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, মো. আলির মেয়ে উম্মে হাবিবা ও তার ছেলে রমজানুল আলম। হাবিবা বাড়ো আওলিয়া ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী। আটককৃত আরেক পরীক্ষার্থী মোস্তফা মাইনউদ্দিন মাহরূফ। সে পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেছিল অন্য একটি কেন্দ্রে।

এছাড়াও সোহেল রানা নামে মূল পরীকল্পনাকারীকে আটক করা হয়। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ থেকে পাস করে ৩৫ বিসিএস (প্রশাসনিক) ১৩৯ তম হিসাবে চান্স পায় বলে দাবি করেছে। অন্যদিকে সোহেল ৯ম তম জুডিশিয়াল সম্ভাব্য মেজিস্ট্রেট বলে জানায়।
জানা যায়, আইন অনুষদের পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষন পরেই উম্মে হাবিবা ও তার ভাই রমজানুল আলম তারা ওএমআর সিট পরিবর্তন করে। এ সময় পরীক্ষারপর্যবেক্ষক জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক লুলু ওয়াল মরজানের নজরে আসে।

তিনি জানান, তারা দুইজন পাশাপাশি বসে পরীক্ষা দিচ্ছিল। ২০ থেকে ২৫ টা বৃত্ত ভরাটের পর তারা ওএমআর সিট (উত্তরপত্র) ছেলেটার উত্তরপত্রটা মেয়ে এবং মেয়েটার উত্তরপত্রটা ছেলেটা পরিবর্তন করে নেয়। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করার পর তারা স্বীকার করলে তাদেরকে প্রক্টররের কাছে সোপর্দ করি।

এদিকে বিকালে তাদেরকে প্রক্টর অফিসে এনে জিজ্ঞাসাবাদের সময় মোস্তফা মাইনউদ্দিন মাহরূফ প্রক্টর অফিসের সামনে ঘুরাঘুরি করছিল। তাকে সন্দেহ হলে বলে সহকারী প্রক্টর লিটন মিত্র আটক করেন। পরে তার কাছে একটি সিল ও স্ট্যাপ পাওয়া যায়। তাদের তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

তারা স্বীকার করে মূল হোতা সোহেলের নাম। তাকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে প্রক্টর অফিসে হাজির করা হয়। ঘন্টাখানিক তাকে জিজ্ঞাসা করার পর সোহেল স্বীকার করে সে ভর্তি জালিয়াতির সাথে জড়িত।

এদিকে ওই তিনজন পরীক্ষার্থীর মুঠোফোনে অনেকগুলো এসএমএস পাওয়া যায়। আর সবগুলো এসএমএস ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি সংক্রান্ত। এসব এসএমএস সোহেলের ব্যাক্তিগত নাম্বার ০১৮৮৩৯৩১২৯৫ থেকে সকলের কাছে পাঠানো হয়। এরা বিভিন্ন (ভূয়া নামে) অন্যের পরীক্ষা দিয়ে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে। তাদের সাথে পরীক্ষার্থীদের লাখ লাখ টাকার চুক্তি আছে বলে জানায় তারা। এ সকল পরীকল্পনা ও বিষয়গুলো তদারকি করতো সোহেল।সোহেলের কাছে ভর্তি কোচিং ফোকাসের আইডি কার্ড পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে চবি প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, ‘‘আমরা ভর্তি জালিয়াতির সাথে জড়িত ৪ জনকে পুলিশে সোপর্দ করেছি।’’

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. আবদুল্লাহ আল ফারুক জানান, এসকল কাজ গুরুতর অপরাধ। এরা প্রতারনা চক্র। প্রতারনার দায়ে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।”

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত