টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বাংলাদেশের এক উইকেটের আক্ষেপ

চট্টগ্রাম, ২৯  অক্টোবর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস): ইশ! মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ শেষ বলে নিজের উইকেট ‘আত্মাহুতি’ না দিলে ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিনটি পুরোটাই হতে পারত বাংলাদেশের।

মিডল স্ট্যাম্পের বল টেনে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে যেভাবে উইকেট বিসর্জন দিলেন তাতে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে ক্রিকেটারদের!

মনটা কি মাহমুদউল্লাহ ও টিম বাংলাদেশের ভালো?

৪৭ রানে আউট হয়ে ড্রেসিং রুমে ফেরার পথে বাউন্ডারি রোপে লাথি দিতে গিয়েও দেননি। দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা ফিজিও বায়েজেদুল ইসলাম ‘সাবাশ’ বলে হাত মেলাননি! সাইডবেঞ্চে বসে থাকা শুভাষিস রায় ও মোসাদ্দেক হোসেন উঠে আসেননি! ড্রেসিং রুম থেকে বেরিয়ে আসা সাকিব আল হাসানের মুখ দেখেই ড্রেসিং রুমের চিত্র আরও স্পষ্ট হল। হাসিমাখা মুখ নিয়ে দিন শেষ করার কথা অথচ মাহমুদউল্লাহর এক ভুলে ড্রেসিং রুমে বিষাদের ছায়া!

দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৩ উইকেটে ১৫২। সফরকারীদের থেকে টাইগাররা এগিয়ে ১২৮ রানে। হাতে আছে এখনও ৭ উইকেট। দিনের শেষ বলে উইকেটটা না হারালে জোর গলায় বলা যেত দ্বিতীয় দিনটি পুরোটাই ছিল বাংলাদেশের!

অবশ্য মাহমুদউল্লাহর আগে আরেকটি জায়গায় পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। পুরোটা দিন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখলেও একটি আক্ষেপ দলের থাকার কথা! ১১৯ মিনিটের আক্ষেপ। মধ্যাহ্ন বিরতির পর ১১৯ মিনিট কিছুই করতে পারল না বাংলাদেশ। অথচ ওই সময়টায় ইংলিশদের হয়ে লড়াই করছিল ক্রিস ওকস ও আদীল রশিদ। এমন না যে তারা ব্যাটিং পারেন না, কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের শারীরিকভাষা ছিল ‘গা-ছাড়া’!

অধিনায়ক মুশফিকের ফিল্ডিং সাজানো নিয়েও প্রশ্ন? দুই লেট অর্ডার ব্যাটসম্যানের জন্য আক্রমণাত্মক ফিল্ডিংয়ের পরিবর্তে রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নেন মুশফিক। লং অন, লং অফ, ডিপ মিড উইকেট, থার্ড ম্যান, স্কয়ার লেগ ও ফাইন লেগে ফিল্ডার রেখে পেস ও স্পিন অ্যাটাকে ভরসা করলেন মুশফিক! পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বী, স্পিনার শুভাগত হোম ও সাব্বির রহমানকে দিয়ে বোলিং করানো হলেও তাদের বোলিংয়ে ছিল না কোনো আগ্রাসন, লড়াইয়ের কোনো ছাপ।

দুই ডানহাতি ব্যাটসম্যান অনায়েসে সিঙ্গেল ও ডাবল নিয়ে বাংলাদেশের রান টপকে যান সহজেই। ১৪০ থেকে ৯৯ রান যোগ করে ইংল্যান্ডের রান নিয়ে গেলেন ২৪৩’এ। অবশ্য ইনিংসের শেষ বলে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের বলতে গেলে ‘ইচ্ছাকৃত’ আউট কষ্ট দিয়েছে সবাইকেই।

দিনের শুরু থেকে চা-বিরতি পর্যন্ত মিরাজ যাদু। গতকালের ২ উইকেটের সঙ্গে আজ তুলে নিলেন আরও ৪ উইকেট। দ্বিতীয় দিন ঠিক যেন সেখান থেকেই শুরু। কুক ও ব্যালেন্সের পর দ্বিতীয় দিনের তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলে আউট মঈন আলী। মিরাজের সোজা বলে সু্ইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন মঈন আলী (৯)। ক্রিজে আসা বেন স্টোকস বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। তাইজুলের ঘূর্ণিতে শর্ট লেগে ক্যাচ দেন। লাফিয়ে ক্যাচ নিতে ভুল করেননি মুমিনুল হক।

প্রথম স্পেলে ১১ ওভারে ৩ উইকেট পাওয়া মিরাজ দ্বিতীয় স্পেলের শুরুতেই পান সাফল্য। জনি বেয়ারস্টো ও জো রুটের বিপদজনক হয়ে উঠা জুটি ভাঙেন মিরাজ। জনি বেয়ারস্টো ২৪ রানে মিরাজের এলবিডাব্লিউর শিকার।

৪ ওভার পর অভিষিক্ত জাফর আনসারির উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় পঞ্চম উইকেটের স্বাদ নেন মিরাজ। উইকেটের জন্য শুভাগত হোমকে ধন্যবাদ দিতেই হবে। লেগ স্লিপে দাঁড়িয়ে শূণ্যে লাফিয়ে দারুণ দক্ষতায় বল তালুবন্দি করেন শুভাগত।

স্কোরবোর্ডে ৪ রান যোগ হতেই সাজঘরে ইংলিশদের সবচেয়ে বিপদজনক ব্যাটসম্যান জো রুট। ব্যক্তিগত ১৯ রানে তাইজুলের বলে মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর হাতে জীবন পাওয়া রুট সফরের প্রথম হাফসেঞ্চুরি তুলে ৫৬ রানে তাইজুলের বলে এলবিডাব্লিউর শিকার। রুট যখন আউট হলেন তখন স্কোরবোর্ডে রান ১৪৪। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের থেকে তখনও ৭৬ রানে পিছিয়ে ইংল্যান্ড। কিন্তু নবম উইকেটে সবাইকে চমকে দিয়ে পিছিয়ে থাকা ইংল্যান্ড বাংলাদেশের থেকে এগিয়ে গেলেন!

ক্রিস ওয়কস ও আদীল রশিদ ৯৯ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশের গড়া ২২০ রান টপকে যান। পুরনো বল কোনোভাবেই কাজে লাগাতে পারেনি। নতুন বল পেতেই স্বরূপে বাংলাদেশের স্পিনাররা। নতুন বলের প্রথম ওভারের চতুর্থ বলে (৮০.৪) মিরাজ ক্রিস ওয়কসকে (৪৬) আউট করে ৯৯ রানের জুটি ভাঙেন। পরের ওভারের তৃতীয় বলে তাইজুল ইংলিশ শিবিরের শেষ আঘাত করে সাজঘরে ফেরত পাঠান স্টিভেন ফিনকে (০)।

মিরাজের ৬ উইকেটের সঙ্গে তাইজুল ৩টি ও সাকিব নেন ১ উইকেট।

২৪ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাটিংয়ে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ৬৫ রান তুলে নেন দুই বাঁহাতি তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস। প্রথম ইনিংসের মত তামিম এ ইনিংসেও বড় সংগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। কিন্তু ৪০ রানে থাকে থামান অভিষিক্ত আনসারি। তামিমকে দিয়েই উইকেটের খাতা খুলেন বাঁহাতি এ স্পিনার। প্রথম ইনিংসে দূত্যি ছড়ানো মুমিনুল ক্রিজে এসে বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেননি। স্টোকসের বলে স্লিপে ক্যাচ দেন ১ রানে। এরপর ইমরুল-মাহমুদউল্লাহর ৮৬ রানের জুটি। তাদের জুটিতে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। এ সময়ে ইমরুলের ব্যাট থেকে আসে ৫৯ রান। আর মাহমুদউল্লাহ সতীর্থকে দেখে হাফসেঞ্চুরির স্বাদ নিতে গিয়ে আউট হলেন ৪৭ রানে! এ ৩ রানের আক্ষেপ দীর্ঘদিন থাকবে মাহমুদউল্লাহর!

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত