টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের সুবিধা মার্চেই

চট্টগ্রাম, ২৯  অক্টোবর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):  ইন্টারনেটের গতি বাড়াতে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে সংযুক্তির প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। এই সাবমেরিন ক্যাবলের ল্যান্ডি স্টেশন পটুয়াখালী উপজেলার কলাপাড়া উপজেলায়। ল্যান্ডিং স্টেশনের কাজ শেষের পথে। এই প্রকল্প চালু হলে বাংলাদেশে ১৩ শ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথের মালিকানা অর্জন করবে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন মার্চের মধ্যেই দেশে চালু হবে এই সাবমেরিন কেবল।

উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের গোড়া আমখোলা পাড়া গ্রামে নির্মিত হচ্ছে এই ল্যান্ডিং স্টেশন। যেখানে সংযুক্ত হচ্ছে অপটিক্যাল ফাইবার কেবলের উচ্চগতি ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যান্ডউইডথ। এটি আসছে আন্তর্জাতিক এসএমডব্লুউ-৫ (সাউথইস্ট এশিয়া-মিডলইস্ট-ওয়েস্টার্ণ ইউরোপ) এর আওতায়।

এ স্টেশন থেকে আগামী মার্চ মাসে ক্রমবর্ধমান ব্যান্ডউইডথ বিতরণ শুরু হবে। জাপানের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনইসি বাংলাদেশের সমুদ্র সীমায় গত দুই বছর ধরে শেষ ধাপে কাছ করছে। বর্ষা মৌসুমে বৈরী আবহাওয়ায় কাজ সাময়িক স্থগিত শেষে ফের ল্যান্ডিং স্টেশনে অপটিক্যাল কেবল সংযুক্তির কাজ শুরু হয়েছে।

এক সপ্তাহের মধ্যে ইউরোপ থেকে সিঙ্গাপুর হয়ে সমুদ্র তটে আসা সঞ্চালন লাইন বিচ ম্যানহোল, হ্যানহোল, জয়েন্ট ম্যানহোল হয়ে কুয়াকাটার গোড়াআমখোলা পাড়ায় দ্বিতীয় ল্যাংন্ডিং স্টেশনে সংযুক্তি হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) এর এসএমডব্লিউ-৫ প্রকল্পের ম্যানেজার এস্টেট সুভ্রম কিশোর দাস জানান, দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল স্টেশনটি কার্যক্রম সম্পূর্র্ণ চালু করতে ইতিমধ্যে ছয়শ ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ একর জমির ওপর ল্যান্ডিং স্টেশনের মূল ভবনসহ ফাংশনাল বিল্ডিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বৈদ্যুতিক উপ-কেন্দ্র, জেনারেটর, ট্রান্সফরমার, অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থাসহ সাবমেরিন কেবলের যন্ত্রপাতি স্থাপন ও ডেটা সেন্টারের কাজ শেষ হয়েছে।

সুভ্রম কিশোর দাস বলেন, বিদ্যুৎ লাইন সঞ্চালনের জন্য স্থাপিত ইলেকট্রিক্যাল পোস্টের কাজও শেষ হয়েছে। মূল ভবনের সৌন্দর্য বর্ধনের কাজও শেষ হয়েছে। চলছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন, ডরমেটরি, নিরাপত্তা কর্মীদের ব্যারাক, বিশ্রামাগার, ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ বাকি অবকাঠামোর কাজ চলছে।

এসএমডব্লিউ-৫ প্রকল্প পরিচালক পারভেজ মনন আশরাফ জানিয়েছেন, ১৯টি দেশের টেলিযোগাযোগ সংস্থার সম্মেলনে গঠিত সাউথইস্ট এশিয়া-মিডলইস্ট-ওয়েস্টার্ণ ইউরোপ (এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৫) আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামের অধীনে এই সাবেমেরিন কেবলটিতে ২০ হাজার কিলোমিটার ব্যাপী অত্যাধুনিক ১০০ জি আলোক তরঙ্গের ডিডব্লিউএম প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। জাপানের এনইসি এবং ফ্রান্সের অ্যালকাটেল লুসেন্ট যৌথভাবে সাবমেরিন কেবল প্রতিস্থাপনের কাজ করেছে।

প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, কুয়াকাটা সৈকত থেকে একটি ব্রাঞ্চের মাধ্যমে ল্যান্ডিং স্টেশন হয়ে মূল কেবলে বাংলাদেশ যুক্ত হবে। মিয়ানমারের সঙ্গে ব্রাঞ্চ শেয়ারিংও হবে। এর বাইরে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, শ্রীলংকা, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, জিবুতি, মিশর, তুরস্ক, ইতালি, ফ্রান্সসহ বেশ কিছু দেশ এ কেবলে যুক্ত হচ্ছে। এর জন্য সাগরের নিচ দিয়ে ফ্রান্স থেকে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলংকা ও মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত ২৫ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ কেবল স্থাপন করা হয়েছে।

কুয়াকাটা সৈকত থেকে সাড়ে ৯ কিলোমিটর দূরের সমুদ্র সৈকতে বাংলাদেশ অংশের সাবমেরিন কেবল চলে এসেছে। প্রায় ৬৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রকল্পটিতে বাংলাদেশ সরকার ১৬৬ কোটি টাকা ও বিএসসিসিএল ১৪২ কোটি টাকা ব্যয় করবে।

ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) প্রকল্পের বাকি প্রায় ৩৫২ কোটি টাকার ঋণসহায়তা দেবে। ন্যাশন ওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন) অপারেটর হিসেবে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) কুয়াকাটা থেকে ঢাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে ব্যান্ডউডথ পৌঁছানোর জন্য অপটিক্যাল ফাইবার ব্যাকহোল তৈরির কাজ করছে।

কুয়াকাটা সৈকতে অপটিক্যাল ফাইবার কেবল ল্যান্ডিংয়ের কাজ চলাকালে কথা হয় অপটিক্যাল মেরিন সার্ভিসের প্রধান ক্যাপ্টেন ইজাজ এর সঙ্গে। তিনি বলেন, সাবমেরিন স্টেশনের অভ্যন্তরীণ কেবলের সাথে অপটিক্যাল ফাইবার কেবল সংযোগ দিতে আমরা কাজ শুরু করছি। এ কাজ সম্পন্ন হতে আরও সপ্তাহখানেক লেগে যাবে।

বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘কক্সবাজারে দেশের প্রথম সাবমেরিন কেবল থেকে ২০০ জিবিপিএস ইন্টারনেট পাওয়া যাচ্ছে। এখান থেকে আমরা ভারতে ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করছি। ভারত আরও বাড়াতে চাচ্ছে। নতুন রুট হিসেবে ঢাকা-সিলেট-তামাবিল-শিলং-গৌহাটি-ভূটান পর্যন্ত সংযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে কুয়াকাটায় নির্মিত দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল স্টেশনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে। এটি চালু হয়ে গেলে দেড় হাজার ব্যান্ডউইথ সরবরাহের সক্ষমতা অর্জন করবে। ক্রমবর্ধমান ব্যান্ডউইডথ এর অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানীর মাধ্যমে বাংলাদেশ বড় অংকের অর্থ উপার্জনের সুযোগ পাবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত