টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ওয়াসা আর উড়াল সড়কে ছিন্ন-ভিন্ন বন্দরনগরীর একাধিক সড়ক

এস এম ইব্রাহিম
প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি টাইমস ডটকম

roadচট্টগ্রাম, ২৯ অক্টোবর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি সরবরাহের পাইপলাইন আর চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের(চউক) উড়াল সড়কে নগরীর বেশ কিছু সড়ক ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে গেছে। সড়কে ছোট-বড় গর্তের কারণে প্রতিদিনই হেলে-দুলে চলাচল করছে যানবাহন। সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে মানুষ।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, বন্দর নগরীর মূল সড়কের মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত অংশে চলছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উড়াল সড়ক নির্মাণকাজ। সড়কের অবশিষ্ট অংশও গর্ত ও খানাখন্দে ভরা। সংকুচিত হয়ে পড়া সড়কটিতে প্রতিদিনই দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

বহদ্দারহাট থেকে শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত সড়কটিতেও আছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। ভাঙাচোরা গর্তে বারবার থেমে যায় যানবাহনের চাকা। কর্ণফুলী নদী তীরবর্তী মেরিনার্স সড়কের প্রায় পুরো অংশেই উঠে গেছে কংক্রিট। কোতোয়ালি মোড় থেকে পাথরঘাটা-চামড়া গুদাম হয়ে শাহ আমানত সেতু মোড় পর্যন্ত সড়কে খানাখন্দের কারণে হেলে-দুলে চলাচল করে ছোট ছোট যানবাহন।

একইভাবে বহদ্দারহাট থেকে কালুরঘাট সড়কের কাপ্তাই রাস্তার মাথা পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার সড়কের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। চট্টগ্রাম ওয়াসার মদুনাঘাট পানি সরবরাহ প্রকল্পের পাইপলাইন স্থাপনে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে সড়কের এই অংশে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের ধোপপুল এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। বৃষ্টির কারণে গর্তে পানি জমে যানবাহন চলাচলে চরম ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। এতে নাকাল হচ্ছে যাত্রীরা।

ষোলশহর দুই নম্বর গেট থেকে বায়েজিদ বোস্তাামী সড়কের বিভিন্ন অংশে পিচ ঢালাই উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে গর্ত। বহদ্দারহাট থেকে হাজির পুল পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের পুরোটাই খানাখন্দে ভরা। আতুরার ডিপো থেকে চাইলতাতলী পর্যন্ত সড়কটির অধিকাংশ অংশে ধুয়েমুছে গেছে কার্পেটিং। কাতালগঞ্জের আবদুল্লাহ বাই লেইন সড়কের বিভিন্ন অংশে আছে গর্ত। কাতালগঞ্জ দিয়ে সড়কে প্রবেশ মুখেই আছে বড় গর্ত।

চট্টগ্রাম শহরের ব্যস্ততম সড়কের চিত্র এমনই। তবে ইট আর কংক্রিটের জোড়াতালি দিয়ে এসব সড়কের কিছু কিছু অংশ সংস্কার করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। কিন্তু নিম্মমানের কাঁচামাল দিয়ে সংস্কারের কারণে এসব সড়কের বেশিরভাগই আবার বেহাল হয়ে পড়ছে। এতে বাড়ছে জনদুর্ভোগ। খানাখন্দ আর এবড়োথেবড়ো সড়কে শঙ্কার মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

এছাড়া নগরীর কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকার দুই নম্বর সড়ক, মুন্সীপুকুর পাড় সড়ক ও বহদ্দারহাট উড়াল সড়ক থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত সড়কের পিচ উঠে গেছে। এ ছাড়া চান্দগাঁওয়ের খাজা সড়ক ও পাঠানিয়া গোদা সড়ক, পতেঙ্গার আকমল আলী শাখা সড়কের অবস্থাও খুবই বেহাল। সড়কগুলোর কার্পেটিং উঠে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এছাড়া ওয়াসার পাইপলাইন স্থাপনে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িতে যানজট হচ্ছে নগরীর বহদ্দারহাট, চান্দগাঁও, সিঅ্যান্ডবি, মোহরা, কামাল বাজার, কাজির হাট, কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত। একইভাবে উড়াল সড়ক নির্মাণ কাজের কারনে বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ষোলশহর দুই নম্বর গেট, জিইসির মোড় লালখান বাজার পর্যন্ত তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। চকবাজার-কেবি আমান আলী রোড ও আসকারদীঘির পাড়সহ নগরীর বিভিন্ন সড়কে দুরবস্থার কারণে যানজট হচ্ছে।

চসিক প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, নগরের অন্তত ১৫০ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন অংশে পিচ উঠে বেহাল হয়ে পড়ে আছে। যা রক্ষণাবেক্ষণে হিমশিম খেতে হচ্ছে সিটি করপোরেশনকে।

এ প্রসঙ্গে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ‘প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় একসঙ্গে সংস্কার কাজ করা যাচ্ছে না। তবুও নিজস্ব অর্থায়নে সড়ক সংস্কারের কাজ চলছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পেতে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।’ তবে নগরীর প্রায় ৯০০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে কী পরিমাণ সড়কের ক্ষতি হয়েছে, এ ব্যাপারে চসিকের প্রকৌশল বিভাগের কাছে এখনও সঠিক তথ্য নেই।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের চট্টগ্রাম অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদুল আলম এ প্রসঙ্গে সিটিজি টাইমস ডটকমকে বলেন, মদুনাঘাট পানি সরবরাহ প্রকল্পের পাইপলাইন বসাতে রাস্তা কাটতে সওজের অনুমতি নেয়া হয়নি। অনুমতি ছাড়াই সড়কে কাজ করছে ওয়াসা।

তবে সওজ চট্টগ্রাম অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদুল আলম এর বক্তব্যের সাথে একমত নন চট্টগ্রাম ওয়াসার মদুনাঘাট পানি সরবরাহ প্রকল্পের ডেপুটি প্রজেক্ট ডাইরেক্টর প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্পের পাইপলাইন বসাতে সওজের সাথে ওয়াসার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। তারই প্রেক্ষিতে সড়কে পাইপলাইন বসাচ্ছে ওয়াসা। চুক্তি অনুযায়ী সড়কে পাইপলাইনের কাজ শেষে কাপ্তাই সড়কসহ নগরীর যেসব সড়ক পাইপলাইন বসানোর কাটা হয়েছে সবগুলো স্থায়ী সংস্কার করা হবে। বর্তমানে পাইপলাইন বসাতে গিয়ে অস্থায়ীভাবে সড়ক সংস্কার কাজ করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম এ প্রসঙ্গে বলেন, উড়াল সড়কের কাজের প্রকল্প এলাকার সড়ক ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে। তবে উড়াল সড়কের সাথে যত দ্রæত সম্ভব সড়কগুলোও সংস্কার করা হবে। এ জন্য নগরীর মানুষের সহযোগীতা কামনা করেন তিনি।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত