টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামের বাজারে সবজি ও মাছের দামে ঊর্ধ্বগতি

bazar-sobziচট্টগ্রাম, ২৮ অক্টোবর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):  ইলিশ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞার কারণে নদীতে নামতে পারছে না জেলেরা, যার প্রভাবে চট্টগ্রামের বাজারে বেড়েছে সব ধরণের মাছের দাম।

তবে আগামী সপ্তাহে বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশ্বাস ব্যবসায়ীদের যদিও এতে একেবারেই আস্থাহীন ক্রেতারা।

এদিকে, চট্টগ্রামে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার সব ধরনের সবজির ফলন ভালো হয়েছে। আগাম সবজি উৎপাদনে সুফল পেয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

কিন্তু ফলন ভালো হলেও ক্রেতা পর্যায়ে সবজির দাম অনেক বেশি। পর্যাপ্ত সরবরাহ সত্বেও সব সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী। কেজি ৫০ টাকার কমে বাজারে কোনো সবজি নেই; কোনো কোনো সবজির দাম কেজি প্রতি ১৫০ টাকাও হাঁকাচ্ছেন নগরীর সবজি বিক্রেতারা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলে এবার সবজির ফলন বেশ ভালো।

স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অন্যান্য বিভাগেও সরবরাহ করা যাবে এ অঞ্চলে উৎপাদিত সবজি। তবে বাজার মনিটরিংয়ের অভাবে সব সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

চট্টগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, জেলার চন্দনাইশ, দোহাজারী, সীতাকুণ্ড, নাজিরহাট এলাকায় এবার অনেক বেশি সবজি উৎপাদন হয়েছে। এছাড়া মিরসরাই, রাউজান, পটিয়া এলাকায়ও সবজির ফলন অন্যান্য বারের তুলনায় অনেক ভালো।

চট্টগ্রামে ২০১৩-১৪ শীতকালীন মৌসুমে ১৭ হাজার ১৭৬ হেক্টর জমিতে ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩ লাখ ৬২ হাজার ৮৭৪ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে কমে ১৭ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছিল ৩ লাখ ২০ হাজার ১০১ মেট্রিক টন সবজি। ২০১৪-১৫ মৌসুমে ১৭ হাজার ১৭৬ হেক্টর জমিতে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৯৩২ মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ১৯ হাজার ৫৬০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছিল ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৭৮৮ মেট্রিক টন সবজি। চলতি মৌসুমি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাপিয়ে ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬০ মেট্রিক টন সবজি উৎপাদন হয়েছে। দুই বছরের ব্যবধানে সবজি উৎপাদন বেড়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৮৫৯ মেট্রিক টন। কিন্তু উৎপাদন বাড়লেও কমেনি সবজির দাম। ফলে নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষেরা পড়েছেন বিপাকে।

আজ শুক্রবার চট্টগ্রাম নগরীর কাঁচাবাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, বেগুন, টমেটো, চিচিঙ্গা, করলা, তিতা করলা, ঝিঙ্গা, কাঁকরোল, বরবটিসহ সব ধরনের সবজির দাম কেজি প্রতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা। নতুন আলু, কাঁচা মরিচ ও শিমের দাম হাঁকানো হচ্ছে ১২০ টাকা। ক্ষেত্রবিশেষে ১৫০ টাকাও হাঁকানো হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি বাঁধাকপি ৬০ টাকা এবং ফুলকপি আকার ভেদে ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শুক্রবার আমদানি করা (লাইনের) রুই মাছ ২৮০ টাকা, দেশি রুই আকার ভেদে ৩৫০-৪০০ টাকা, লাইনের কাতলা ৩০০ টাকা, দেশি ৪০০ টাকা, বোয়াল ৫৮০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, আনোয়ারার জীবিত পাবদা ৬০০ টাকা, শিং মাছ ৬০০ টাকা, চকরিয়ার টেংরা ৪০০ টাকা, ছোট চিংড়ি ৩৫০ টাকা, সমুদ্রের লাল কোরাল ৫০০ টাকা, দেশি কোরাল ৪০০ টাকা, গলদা চিংড়ি মাঝারি ৭৫০ টাকা, বড় ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ছোট মাছের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।

মাংস বিক্রেতা মোহাম্মদ রফিক জানান, গরুর রানের মাংস (হাড় ছাড়া) গত সপ্তাহের চেয়ে ২০ টাকা বেড়ে ৫৫০ টাকা, হাড়সহ ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংস ৬০০ টাকা, ছাগির মাংস ৫৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া বয়লার মুরগি ১৩০-১৩৫ টাকা, দেশি মোরগ ৩৩০ টাকা, পাকিস্তানি কক ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

রেয়াজউদ্দিন বাজার আড়তদার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম. সাইফুদ্দিন বলেন, গত সেপ্টেম্বর মাসে অতিবৃষ্টির প্রভাব এখনও বিরাজমান। ওই বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম অঞ্চলের শীতকালীন আগাম মৌসুমের সবজির অনেক ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। ফলে নগরীতে সবজির চাহিদা মেটাতে দেশের উত্তারাঞ্চল মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, রাজশাহী ও বগুড়া থেকে সবজি আনা হচ্ছে। তাই দাম বেশি। তবে আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই সবজির দাম কমে যাবে।

অন্যদিকে ভিন্ন কথা শুনালেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে এবর সবজির ফলন বেশ ভালো। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-পরিচালক আমিনুল হক চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলের সবজি উৎপাদন পর্যাপ্ত। আর আগাম উৎপাদনেও পর্যাপ্ত ফলন হয়েছে। গত বছরের চেয়ে সবজির ফলন ১০ শতাংশ বেশি হবে।

কাজির দেউড়ি কাঁচা বাজারে সবজি কিনতে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সালেহ উদ্দীন বলেন, শুধু রমজানেই বাজার মনিটরিং হয়। অন্য সময় বাজার মনিটরিংয়ের খবর থাকে না। যার ফলে বিক্রেতারা ইচ্ছে মতো দাম বাড়ায়। দাম সর্বোচ্চ পার্যায়ে গেলে এর নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামে প্রশাসন। সবজিসহ সব ভোগ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে মনিটরিং প্রয়োজন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ফোরকান এলাহী অনুপম বলেন, বাজার মনিটরিং হচ্ছে না- তা ঠিক নয়। প্রতিদিনই দুই থেকে তিনটি টিম বাজার মনিটরিং করছে। ভিন্ন কৌশলের কারণে বিক্রেতাদের শাস্তির পরিবর্তে সংশোধনের সুযোগ দিয়ে সচেতন করা হচ্ছে। এতে দীর্ঘমেয়াদী ফল পাওয়া যেতে পারে।

তিনি বলেন, সবজির দামের বিষয়ে পাইকারী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলবো। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সবজির দাম স্বাভাবিক হবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত