টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

হাটহাজারীতে মডেল টেস্টের নামে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের বাণিজ্য !

আবু তালেব

haচট্টগ্রাম, ২৭ অক্টোবর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষার আগে মডেল টেস্ট পরীক্ষার নাম দিয়ে দেড় মাসের ব্যবধানে লাখ টাকার বাণিজ্যের আশায় দুইটি পরীক্ষার আয়োজন করে হাটহাজারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। এতে পরীক্ষার সাথে সংশ্লিষ্টরা অবৈধ অর্থ উর্পাজন করে লাভবান হলেও পরপর দুইবার মডেল টেস্ট নামে পরীক্ষা নেওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা উপর চাপ সৃষ্টি করায় অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

শিক্ষার্থীদের উপর এ ধরণের পরীক্ষার নামে শারীরিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা বিমুখ হয়ে পড়বে বলে অভিভাবকদের আশঙ্কা। তবে এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির নিরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ভূক্তভোগীরা। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক নেতার যোগসাজসে এ বাণিজ্যে চলছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শিক্ষা অফিসের নিদের্শক্রমে হাটহাজারী উপজেলার ১৪৯ টি প্রথামিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ৬ হাজারেরও অধিক শিক্ষার্থীরা মাত্রাতিরিক্ত ৪০ টাকা ফি দিয়ে গত আগস্ট মাসের ২৮ থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য মডেল টেস্টে পরীক্ষায় অংশ নেয়।

ওই মডেল টেস্ট পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার দেড় মাসের ব্যবধানে উপজেলা শিক্ষা অফিস দ্বিতীয় বারের মত ২৩ অক্টোবর থেকে আয়োজন করে আরেকটি মডেল টেস্ট পরীক্ষার। এতে শিক্ষা অফিসের মনগড়া মাত্রাতিরিক্ত ৪০ নির্ধারণ ফি দিয়ে বাধ্যতামূলকভাবে সকল শিক্ষার্থীদেরকে আবারো পরীক্ষায় অংশ নিতে হচ্ছে।

এতে করে কোমলমতি শিক্ষার্থীরে উপর চাপ বাড়ার কারণে তারা পড়াশুনা বিমুখ হয়ে পড়ছে বলে জানান রঙ্গীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও শিক্ষক নেতা চাঁন মিয়া।

তিনি বলেন, চলতি বছর প্রথম ও দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার ফি নেওয়া হয়েছিল ১২ টাকা। প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চাহিদা অনুয়ায়ী উপজেলা শিক্ষা অফিসকে ১২ টাকা দিলে শিক্ষার্থী জন্য প্রশ্ন ও খাতা সরবরাহ করেছিল। কিন্তু মডেল টেস্ট পরীক্ষায় ৪০ টাকা ফি কেনো নেওয়া হচ্ছে তা আমার বোধগম্য নয়।

এ বাণিজ্যের নেতৃত্বে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সায়দা আলম ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক নেতা আছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

এছাড়া হাটহাজারী পৌর সদরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক প্রধান শিক্ষক জানান, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি বাবদ নেওয়া ৪০ টাকার মধ্যে শিক্ষার্থীদের স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান ১০ টাকা কেটে রাখলেও বাকী ৩০ টাকা নিচ্ছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। অথচ গত বছর ২০১৫ সালে তৎকালীন ইউএনও মোয়াজ্জম হোসাইন এ ধরণের সরকারি নিয়ম বহি:র্ভুত পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছিল। তিনি বদলী হওয়ার পরপর শিক্ষা অফিসের অসাধু কর্তারা লাখ টাকার বানিজ্যের আশায় আবারো এ পরীক্ষার চালু করে।

বিষয়টির সতত্যা জানতে চাইলে হাটহাজারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সায়দা আলম ৪০ টাকার মধ্যে ৩০ টাকা প্রতিটি শিক্ষার্থীর প্রশ্ন ও খাতা বাবদ নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আপনার নিউজ করা কি বেশি জরুরি? যত বেশি পরীক্ষা নেওয়া যায় তত বেশি পরীক্ষার্থীর জন্য ভালো না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাসরিন সুলতানা বলেন, মডেল টেস্ট নামে একটি পরীক্ষা নেওয়া যায়, দুইটিতো প্রশ্নেই আসেনা। আর ৪০ টাকা ফি নেওয়ার বিষয়টি আমি ক্ষতিয়ে দেখছি।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত