টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাঙ্গুনিয়ার অপহৃত জেসমিন মৃত নয় জীবিত !

রাঙ্গামাটি থেকে উদ্ধারকৃত লাশ রাঙ্গুনিয়ার জেসমিন নয়

আব্বাস হোসাইন আফতাব
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি 

rangunia-jasmin-newsচট্টগ্রাম, ২৪ অক্টোবর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস): রাঙ্গুনিয়া উপজেলার হোছনাবাদ ইউনিয়নের জেসমিন আকতার (১৭) কে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে তাকে প্রেমিক রাহাতসহ স্থানীয় কয়েকজন যুবক অপহরণ করে ধর্ষণের পর রাঙ্গামাটিতে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে তার পিতা নুর মোহাম্মদ অভিযোগ করেছিল। রোববার রাতে জেসমিন আকতারকে হোছনাবাদ ইউনিয়নের একটি বাড়িতে আত্মগোপন থাকাবস্থায় উদ্ধার করেন তাকে হত্যা করার অভিযোগে দায়ের করা মামলার কয়েকজন আসামী। তবে ঘটনার মূল হোতা প্রতারক প্রেমিক রাহাত এখনো পলাতক রয়েছেন। রাঙ্গামাটিতে উদ্ধার হওয়া একটি গলিত লাশকে নিজের মেয়ের লাশ দাবী করার পর জেসমিনকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। জেসমিনকে প্রেমিক রাহাতসহ বখাটেরা নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা নিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। টনক নড়ে স্থানীয় প্রশাসনের। এদিকে গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে অজ্ঞাতনামধারীরা জেসমিনদের বসত ঘরে আগুন দিয়ে সম্পূর্ণরূপে পুড়িয়ে দিয়েছে বলে তার পিতা নুর মোহাম্মদ জানায়।

অভিযোগে জানা যায় হোছনাবাদ ইউনিয়নের খীলমোগল এলাকার নুর মোহাম্মদের মেয়ে জেসমিন আকতারের সাথে খীলমোগল গ্রামের তাজ মোহাম্মদ পাড়া এলাকার সোলতান আহমদ মাষ্টারের ছেলে এহছানুল নেওয়াজ রাহাতের সাথে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। গত ৭ জুলাই প্রেমিকা জেসমিনকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রাঙ্গামাটি নিয়ে যান রাহাত। সেখানে তারা একটি আবাসিক হোটেলে রাত্রীযাপনকালে রাঙ্গামাটির কোতোয়ালি থানা পুলিশের হাতে আটক হলে পুলিশ দুইজনকেই জেলে পাঠান। এরপর দুজনে বিয়ে করার অঙ্গীকার দিয়ে ১৪দিন পর আদালত থেকে ছাড়া পান। জেল থেকে আসার পর বিয়ে করতে গড়িমসি করতে থাকেন প্রেমিক রাহাত। এরপর গত ১৬ আগস্ট জেসমিনের প্রেমিক রাহাত বন্ধু শাহেদসহ মিলে জেসমিনকে খালার বাড়ি থেকে ফেরার পথে পুনরায় বিয়ের কথা বলে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান। এরপর জেসমিনের আর কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।

জেসমিনের পিতা নুর মোহাম্মদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে মেয়ের কোন সন্ধান না পেয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর রাঙ্গামাটিতে অজ্ঞাত তরুণীর গলিত লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে সেখানে যাই। লাশের পড়নের জামা ও বিভিন্ন আলামত দেখে এটি আমার মেয়ে জেসমিনের লাশ বলে সন্দেহ করলে পুলিশ আমার ও স্ত্রী’র ডিএনএ টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করেন। এঘটনায় গত ১০ অক্টোবর এহেছানুল নেয়াজ রাহাত, তার পিতা সোলতান আহমদ মাষ্টার, তার সহযোগী আবদুল মান্নান, আজিজ, মো. আলম, মো. তৈয়ব, মো. সাইফুদ্দিন ও মো সহিদকে আসামী করে রাঙ্গুনিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করি। অথচ গতকাল জানতে পারি আমার মেয়েকে উদ্ধার করেছেন তারাই। এতদিন মেয়ে কোথায় ছিল তা আমি জানিনা।

গতকাল রাতে থানায় জেসমিন আকতার জানান, ১৬ আগস্ট আমাকে নিয়ে যাবার পর প্রথমে উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের এক আত্মীয়ের বাড়িতে ও পরে চন্দ্রঘোনা বনগ্রাম এলাকার এক ভাড়া বাসায় রেখেছেন রাহাত। সে আমাকে বিয়ে করার কথা বলে স্বামী স্ত্রী হিসেবে একসাথে বসবাস করে আসছে। আমাকে ঘরের বাইরে কারো সাথে কথা বলতে ও যোগাযোগ করতে দিতোনা। যার কারণে আমি মা বাবার সাথে কোন যোগাযোগ করতে পারিনি তাই তারাও মনে করেছিল রাঙ্গামাটিতে উদ্ধার হওয়া লাশ আমার। ভাড়া বাসায় তাকে প্রায় মারধর করা হতো দাবী করে বলেন, ৮/১০ দিন আগেও রাহাত আমার কাছে ছিল। এরপর থেকে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। শুনেছি সে আমার সাথে প্রতারণা করে অন্যত্র বিয়েও করেছেন। রোববার রাতে হোছনাবাদ ইউনিয়নের এক বাড়িতে গেলে কয়েকজন যুবক তাকে উদ্ধার করে ইউনিয়ন পরিসদে নিয়ে যান এর পর থানায় আনেন। গতকাল থানার ওসি মো. হুমায়ুন কবিরের কাছে সে প্রেমিক রাহাত কর্তৃক নিয়মিত ধর্ষিত হবার অভিযোগ করে বলেন, আমি তাকেই স্বামী হিসেবে চাই।

হোছনাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান মির্জা সেকান্দর হোসেন জানান, জেসমিনকে হত্যা করা হয়েছে বলে এলাকায় ধুম্রজাল সৃষ্টি করেছিল তার পিতা। প্রকৃত পক্ষে সে নিহত নয় জীবিত। তার বাবার দায়ের করা মামলার কয়েকজন আসামী রোববার রাতে আত্মগোপনে থাকাবস্থা থেকে তাকে উদ্ধার করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসলে আমি থানায় পাঠায়।

উলে­খ্য গত ২১ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টায় রাঙ্গামাটির ঝগড়াবিল মৌজার ডিয়ার পার্ক এলাকার ধর্মাঙ্কুর বৌদ্ধ বিহারের পাশ থেকে এক অজ্ঞাত তরুণীর লাশ উদ্ধার করে রাঙ্গামাটির কোতোয়ালি থানা পুলিশ। লাশের পরিচয় না পাওয়ায় বেওয়ারিশ লাশ হিসাবে দাফন করা হয়। পরে খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া থেকে নিখোঁজ জেসমিনের পিতা নুর মোহাম্মদ লাশটি তার মেয়ের বলে চিহ্নিত করায় হত্যা মামলা রুজু করেন তিনি।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত