টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

পরিশ্রমের পুরস্কার পেয়েছি: ওবায়দুল কাদের

চট্টগ্রাম, ২৪ অক্টোবর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস): আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদকে নিজের পরিশ্রমের পুরস্কার হিসেবে দেখছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি একে তার রাজনৈতিক জীবনের সর্বোচ্চ অর্জন এবং সর্বোচ্চ স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন।

আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় প্রধান পদে এই নির্বাচন নিয়ে সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মধ্যে কোনো রকম হতাশা নেই বলেও জানান ওবায়দুল কাদের। বলেন, আশরাফের সাত বছরের অভিজ্ঞতা তারও কাজে লাগবে।

গত শনি ও বরিবারের জাতীয় সম্মেলন শেষে আগামী তিন বছরের জন্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন দলের সভাপতিম-লীর সদস্য ওবায়দুল কাদের। সম্মেলনের দুই দিন আগে হঠাৎ তার নাম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলোচনায় ওঠে। দলের সম্মেলনে বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নিজে এই নাম প্রস্তাব করার পর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় শীর্ষ পদে নির্বাচিত হন ছাত্রলীগের সাবেক এই সভাপতি।

সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হওয়ার পর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক ব্রিফিং এ এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘আমি আমার পরিশ্রমের পুরষ্কার পেয়েছি। আমি আমার রাজনৈতিক জীবনের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি পেয়েছি।’

আওয়ামী লীগের নতুন সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা, বাঙালির বীর কন্যা, বাঙালির সূর্যকন্যা শেখ হাসিনা, আমার রাজনৈতিক জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি-সর্বোচ্চ স্বীকৃতি তিনি আমাকে দিয়েছেন। আমি আমার নেত্রীর কাছে অভিভাবকের কাছে কৃতজ্ঞ। তাকে কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই।’

শেখ হাসিনার আস্থার প্রতিদান দেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তিনি আমাকে ডাক দিয়েছেন আওয়ামী লীগের মতো একটা ঐহিত্যবাহী পার্টির জন্য। এই পার্টির দায়িত্ব দিতে গিয়ে আমার ওপর যে আস্থা রেখেছেন, আমি আমার সব ঘাম, শ্রম, মেধা দিয়ে, আমি আমার সব কিছু শক্তি, সামর্থ আমি উজাড় করে দেবো আমার নেত্রী প্রদত্ত এই আস্থার পবিত্রতা রক্ষা করতে গিয়ে।’

আমি কোনো আঞ্চলিক নেতা নই

ওবায়দুল কাদেরের জন্মও বেড়ে উঠা নোয়াখালীতে। তার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর এই অঞ্চলের বাসিন্দারা ভীষণভাবে আপ্লুত। ওবায়দুল কাদের সকালে যখন ধানমন্ডি ৩/এ তে ঢুকছিলেন, তখন তারা নোয়াখালীর নাম উল্লেখ করে স্লোগান দেয়।

এসব স্লোগান না দিতে নেতা-কর্মীদেরকে অনুরোধ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি এখানে যখন ঢুকছিলাম, আঞ্চলিক কিছু স্লোগান হচ্ছিল। এসব আমাকে কষ্ট দেয়।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি কোনো অঞ্চলের নই। আমার নেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন সুনামগঞ্জ থেকে সুন্দরগঞ্জ, কুতুবদিয়া থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত বাংলাদেশে। গোটা বাংলাদেশের যে বিশাল দায়িত্ব দিয়েছেন। এটা সুবিশাল দায়িত্ব। এটা কোনো রিজিওনালিজম নাই। আমার কনস্টিটিউয়েন্সি আছে একটা, কিন্তু আমার পার্টি গোটা দেশেই।’

‘এখানে আমি নিরপেক্ষভাবে যদি দায়িত্ব পালন করতে না পারি, তাহলে নেত্রী আমাকে যে আস্থা দিয়েছেন, সেই আস্থার মর্যাদা থাকবে না’- বলেন ওবায়দুল কাদের।

আচরণ পাল্টাতে হবে

আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদেরকে নেতা-কর্মীদেরকে মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের নেতা কর্মীদেরকে জনগণের সঙ্গে আচার আচরণ আরও ভালো করতে হবে। আমরা জানি ১০টা বড় উন্নয়ন ও অর্জনকে দুইটি খারাপ আচরণ ম্লান করে দিতে পারে। এটা মনে রেখে আমাদের আচরণে উন্নয়নে সবচেয়ে সেরা দলে পরিণত হতে হবে।’

সম্মেলনের চমক তাহলে কী?

আওয়ামী লীগের বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম জাতীয় সম্মেলন শুরুর আগে জানিয়েছিলেন চকম থাকছে এই আয়োজনে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বলার মত কোনো চমক আসেনি সম্মেলনের সিদ্ধান্তে। আগে থেকেই অনুমেয় সব সিদ্ধান্ত হয়েছে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদেও যে দুই জনের নাম বলাবলি হচ্ছিল, তারাই নির্বাচিত হয়েছেন।

ওবায়দুল কাদেরের কাছে এই কথিত চমকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আজকে কত কিছু সাংবাদিক ভাইরা লিখেছেন। চমকটা হলো সৈয়দ আশরাফুলই আমার নাম প্রস্তাব করেন। এটাই চমক। এটাই শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ম্যাজিক।’

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত