টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

৩৩ রান করতে পারবে বাংলাদেশ?

চট্টগ্রাম, ২৪ অক্টোবর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: ইংল্যান্ডের দেয়া ২৮৬ রানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ রোববার চতুর্থ দিন শেষ করেছে ৮ উইকেটে ২৫৩ রানে।জিততে শেষ দিনে বাংলাদেশের চাই আরো ৩৩ রান। আর ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ২ উইকেট।৫৯ রানে অপরাজিত থেকে বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছেন সাব্বির রহমান। তার সঙ্গে ১১ রান নিয়ে দিন শুরু করবেন তাইজুল ইসলাম।

জিততে শেষ দিনে বাংলাদেশের চাই আরো ৩৩ রান। আর ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ২ উইকেট। ৫৯ রানে অপরাজিত থেকে বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছেন সাব্বির রহমান। তার সঙ্গে ১১ রান নিয়ে দিন শুরু করবেন তাইজুল ইসলাম।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ২৮৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেন তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস। ৯ ওভারে দুজন স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ৩৪ রান।

ইনিংসের দশম ওভারে মঈন আলীর বলে শর্ট লেগে ব্যালান্সের হাতে ধরা পড়েন তামিম। আগের বলে ক্যাচের আবেদনে রিভিউ নিয়েও তামিমকে ফেরাতে পারেনি ইংল্যান্ড। আউট হওয়ার আগে এই বাঁহাতি ৩৩ বল মোকাবেলা করে ৯ রান করেন। দলীয় ৩৫ রানের মাথায় টাইগারদের প্রথম উইকেটের পতন ঘটে।

মুমিনুলকে সঙ্গে নিয়ে বেশ ভালোই জবাব দিচ্ছিলেন ইমরুল কায়েস। তবে, মধ্যাহ্ন বিরতির কিছু আগে জো রুটের তালুবন্দি হতে হয় ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাট চালানো ইমরুলকে। আদিল রশিদের বলে ক্যাচ তুলে দেয়ার আগে ইমরুল ৬১ বল মোকাবেলা করে ৪৩ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল ৬টি চারের মার। মুমিনুলকে নিয়ে ৪৬ রানের জুটি গড়েন ইমরুল। দলীয় ৮১ রানের মাথায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটে। মধ্যাহ্ন বিরতির আগে স্বাগতিকদের সংগ্রহ দাঁড়ায় দুই উইকেট হারিয়ে ৮৬ রান। জয় থেকে ২০০ রান দূরে থাকতে বিরতিতে যায় টাইগাররা।

ইনিংসের ২৮তম ওভারে বিদায় নেন মুমিনুল হক। গ্যারেথ ব্যাটির বল সুইপ করতে গিয়ে প্যাডে লাগে এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের। প্রথমে ক্যাচের আবেদন করলে আম্পায়ার তা নাকচ করে দেন। তবে, রিভিউয়ে দেখা যায় মুমিনুলের স্টাম্পে বলটি আঘাত করতো। ফলে, এলবির ফাঁদে পড়ে বিদায় নিতে হয় তাকে। আউট হওয়ার আগে ৪৭ বলে চারটি বাউন্ডারিতে ২৭ রান করেন মুমিনুল। মাহমুদুল্লাহ-মুমিনুল জুটিটি ২২ রানের। এক ওভার বিরতির পরই ফিরে যান মাহমুদুল্লাহ। ব্যাটির বলে এলবির ফাঁদে পড়েন ব্যক্তি ১৭ রান করা এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। তবে, রিভিউ চেয়েও বাঁচতে পারেননি ৩৬ বল খেলা মাহমুদুল্লাহ। দলীয় ১০৮ রানের মাথায় বাংলাদেশের চতুর্থ উইকেটের পতন ঘটে।

মুমিনুল হক ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের উইকেট হারানোর ধাক্কা সামলে উঠছিল বাংলাদেশ। জুটি গড়ে জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম। কিন্তু সাকিবও আউট হলে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ৪১তম ওভারে মঈন আলীর বলে জনি বেয়ারস্টোর গ্লাভসে ধরা পড়েন সাকিব (২৪)। এর মধ্য দিয়ে মুশফিকের সঙ্গে ৩২ রানের জুটি ভাঙে।

এরপর জুটি গড়েন টাইগার দলপতি মুশফিক আর অভিষিক্ত সাব্বির। ১০৭ রানের লক্ষ্য নিয়ে চা বিরতিতে বাংলাদেশ। চতুর্থ দিনের চা বিরতিতে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেট হারিয়ে ১৭৯ রান।

সাব্বির-মুশফিক জুটিতে আসে আরো ৮৭ রান। ইনিংসের ৬৮তম ওভারে গ্যারেথ ব্যাটির বলে ব্যক্তিগত ৩৯ রান করে ব্যালান্সের হাতে ক্যাচ দেন মুশফিক। তার ১২৪ বলের আত্মবিশ্বাসী ইনিংসে ছিল ৩টি চারের মার। মুশফিকের বিদায়ে সাব্বিরের সঙ্গে জুটি গড়তে আসেন মেহেদি হাসান মিরাজ। তবে, প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাট হাতে ভালো কিছু করতে পারেননি মিরাজ। স্টুয়ার্ট ব্রডের বলে এলবির ফাঁদে পড়েন ১ রান করা মিরাজ। দলীয় ২৩৪ রানের মাথায় বাংলাদেশের সপ্তম উইকেটের পতন ঘটে। এরপর জুটি গড়তে পারেননি অভিষিক্ত সাব্বির-রাব্বি। স্টুয়ার্ট ব্রডের বলে গ্যারি ব্যালান্সের হাতে ধরা পড়েন রাব্বি (০)। ২৩৮ রানের মাথায় স্বাগতিকদের অষ্টম উইকেটের পতন ঘটে।

এর আগে স্পিনবান্ধব উইকেট কাজে লাগিয়ে সফল হন বাংলাদেশের স্পিনাররা। চট্টগ্রাম টেস্টের আগে প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট নেয়ার যে সামর্থ্যের প্রশ্ন উঠেছিল সেটি বাতাসে মিলে যায়। ইংল্যান্ডের ২০ উইকেটই তুলে নিয়েছে টাইগাররা। যার ১৮ উইকেটই স্পিনারদের। একটি পেয়েছেন পেসার রাব্বি। এছাড়া, দুই ইনিংস মিলিয়ে সাকিব ৭টি, মেহেদি হাসান মিরাজ ৭টি আর বাকি ৪টি উইকেট তাইজুল ইসলামের দখলে যায়। স্টুয়ার্ট ব্রড শুধু রান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন।

নিজেদের প্রথম ইনিংসে সফরকারীরা ২৯৩ রান তুলে অলআউট হয়। জবাবে, ব্যাটিংয়ে নেমে লিডের আশা জাগিয়েও শেষ দিকের ছন্দপতনে বাংলাদেশ তোলে ২৪৮ রান। ৪৫ রানে এগিয়ে থেকে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামে ইংলিশরা। ২৪০ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা।

সফরকারীদের হয়ে প্রথম ইনিংসে সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন মঈন আলী। এছাড়া, জনি বেয়ারস্টোর করেন ৫২ রান। ৪০ রান আসে জো রুটের ব্যাট থেকে। ক্রিস ওকস করেন ৩৬ রান। আর অ্যালিস্টার কুক ৪, বেন ডাকেট ১৪, গ্যারি ব্যালান্স ১, বেন স্টোকস ১৮, আদিল রশিদ ২৬, স্টুয়ার্ট ব্রড ১৩ রান করেন।

টেস্ট অভিষেকের প্রথম ইনিংসে টাইগার অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান মিরাজ তুলে নেন সর্বোচ্চ ৬টি উইকেট। এছাড়া, সাকিব ও তাইজুল নেন দুটি করে উইকেট।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত