টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ছাত্রলীগ সভাপতি থেকে আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক

চট্টগ্রাম, ২৩ অক্টোবর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জন্ম আওয়ামী লীগের এক বছর আগে। সেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রাক্তন সভাপতি ওবায়দুল কাদের এবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হলেন।

রোববার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে তিনি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় অধিবেশনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা কমিটির বিলুপ্তি ঘোষণার পর নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের অধিবেশন শুরু হয়। এতে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী সভাপতি পদে শেখ হাসিনার নাম প্রস্তাব করে এবং তা সমর্থন করেন সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। আর সদ্য প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদেরের নাম প্রস্তাব করেন এবং তা সমর্থন করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক।

এর আগে ১৯৬৬-১৯৬৭ ও ১৯৬৭-১৯৬৮ সালে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা আব্দুর রাজ্জাক পরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। তিনি ১৯৭৯ ও ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান।

ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জন্ম ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি। তৎকালীন তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংগঠনটি অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তৎকালীন অবিভক্ত পাকিস্তানের প্রথম ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। জন্মের পর থেকে সব আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের কাতারে ছিল সংগঠনটি। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬-এর ৬ দফা, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ছিল ছাত্রলীগ।

ছাত্রলীগের প্রাক্তন সভাপতি ওবায়দুল কাদের দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি ২০০২ সালের সম্মেলনে দলের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০৯ ও ২০১২ সালে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হন। নোয়াখালী অঞ্চল থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য বর্তমানে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন।

ছাত্রলীগের তারকা নেতাদের মধ্যে সংগঠনটির সভাপতি ও ডাকসুর ভিপি ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। তিনি পরে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। তিনি এখন দলটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য। পূর্ব পাকিস্তানের সর্বশেষ এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রথম সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন নূরে আলম সিদ্দিকী। তিনি এখন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে নেই। তার কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শাজাহান সিরাজ। পরে তাকে বহিষ্কার করা হয়। ইসমত কাদির গামা হন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। তিনিও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সুবিধা করতে পারেননি। ১৯৭২-৭৩ সালে সাধারণ সম্পাদকদের দায়িত্ব পালনকারী এম এ রশিদ এখন প্রাক্তন ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশন নিয়ে আছেন। ১৯৭৭-৮১ সালে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বাহালুল মজনুন চুন্নু। তিনি এখন দলে নেই। ১৯৮১-১৯৮৩ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন আগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন।

পরবর্তী সময়ে তাকে আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক করা হলেও এখন দলে কোনো পদ-পদবি নেই। তার সময়ের সাধারণ সম্পাদক আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন পরে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৩-৮৫ সাল পর্যন্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন আবদুল মান্নান ও জাহাঙ্গীর কবির নানক। নানক আওয়ামী লীগের আগের কমিটি ও বর্তমান কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

১৯৮৬-৮৮ সালে ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তার সময়কার সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান এবার আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন। এর আগে তিনি কেন্দ্রীয় সদস্য ছিলেন। হাবিবুর রহমান হাবিব সভাপতির দায়িত্ব পালনকালেই দলবদল করলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয় শাহে আলমকে। শাহে আলম আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক। তার কমিটির সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার উকিলের গত কমিটির উপ-প্রচার সম্পাদক। ১৯৯২-৯৪ সাল পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরী রাজনীতি থেকে যোজন যোজন দূরে। তার সাধারণ সম্পাদক ইকবালু রহীম সংসদের সদস্য ও হুইপ। বর্তমানে তিনি কোনো দলীয় দায়িত্বে নেই।

১৯৯৪-৯৮ সালে দায়িত্ব পালনকারী সভাপতি এনামুল হক শামীম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। তার কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না। তিনি তেমন কোনো পদে নেই। ১৯৯৮-২০০২ সালে সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী বাহাদুর বেপারী ও সাধারণ সম্পাদক অজয় কর খোকনের অবস্থানও একই। ২০০২-০৬ সাল পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী লিয়াকত শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে আসার প্রহর গুনছেন। একই অবস্থা ২০০৬-১১ সালে সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী মাহমুদ হাসান রিপন ও মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন এবং প্রাক্তন সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ ও সিদ্দিকী নাজমুল আলমেরও।

১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন ওবায়দুল কাদের। ১৯৬৯-১৯৭০ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আ স ম আবদুর রব, ১৯৭২-১৯৭৩ সালে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক শেখ সহিদুল ইসলাম ও এম এ রশিদ। তারা বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেই নেই। ১৯৭৩-১৯৭৪ সালে সভাপতি হন মনিরুল হক চৌধুরী। এ সময়কার সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম প্রধানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হন মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। পঁচাত্তরের পট-পরিবর্তনের পর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ছিলেন এম এ আউয়াল। তিনিও কোনো দলীয় পদে নেই।

ওবায়দুল কাদেরের জন্ম ১৯৫২ সালে নোয়াখালীতে। তিনি বসুরহাট সরকারি এএইচসি হাইস্কুল থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি মেধাতালিকায় স্থান পান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। কাদেরের স্ত্রী ইসরাতুন্নেসা আইনজীবী। একসময় সাংবাদিকতাও করতেন ওবায়দুল কাদের। দীর্ঘদিন তিনি দৈনিক বাংলার বাণীর সহকারী সম্পাদক ছিলেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত