টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সংকটে পার্বত্য বাঙ্গালীরা

করিম শাহ
রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ২৩ অক্টোবর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস): পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধি নিষ্পত্তি কমিশন আইন সংশোধনী নিয়ে পাহাড়ের বাঙালি জনগোষ্ঠি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। সংশোধনীর ফলশ্রুতিতে কী হতে পারে এ নিয়ে সন্দেহ ও ভূমি হারিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার মত ভীতির সঞ্চার হয়েছে এ জনগোষ্ঠির। এমনটাই দাবী পাহাড়ের বসবাসরত বাঙালিদের। এ সংশোধিত আইনের প্রেক্ষিতে বাঙালিদের মধ্যে মারাত্মক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ে বিরাজমান শান্তি সম্প্রীতির বিনষ্ঠ হওয়ার আশংকার পাশাপাশি পাহাড়ি-বাঙালির মাঝে অবিশ্বাসের প্রাচীর নির্মিত হয়েছে। 

তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর সম্পাদিত ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের আলোকে ভূমি সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ২০০১ সালে পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন জাতীয় সংসদের পাশ করে বর্তমান সরকার। আইনে ৫৩নং আইনের কিছু বিষয় চুক্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় দাবী করে চুক্তিস্বাক্ষরকারী পাহাড়ী সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি আইনের ২৩দফা সংশোধনের দাবী জানান। জনসংহতি সমিতির দাবী ও দফাসমূহ দীর্ঘদিন আলোচনা এবং পর্যালোচনার পর সর্বশেষ ২০১২ সালের ৩০ জুলাই তারিখে আন্ত: মন্ত্রণালয়ে ১৩টি সংশোধনী আনা হয়। ১৩টি সংশোধনীর মধ্যে অন্ত:ঃ ৬টি বিষয় দেশের সংহতির সাথে সামঞ্জস্য নয় এবং পার্বত্য এলাকায় বসবাসরত বাঙ্গালী জনগোষ্ঠির জন্য জীবন-মরণ সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়ে পাহাড়ের বাঙালি সংগঠন গুলো সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ করার মাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ জানালেও বাঙালিদের আন্দোলনে সাড়া পড়েনি। তার বিপরীতে কয়েক বৎসর যাবৎ বৈঠকের পর বৈঠকের মাধ্যমে অবশেষে সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রায় সকল দাবী মেনে নেয় এবং জাতীয় সংসদে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভ‚মি বিরোধ নি¯পত্তি কমিশন (সংশোধন) আইন ২০১৬ (২০১৬ সালের ৪৫নং আইন) পাশ হয়।

সন্দেহ ও ভীতি সঞ্চার: পার্বত্য চট্রগ্রাম ভুমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশন আইন,২০০১ এর কোন কোন ধারা ২০১৬ সালের সংশোধনী আইনে সংশোধন করে পরিবর্তন করা হয়েছে এবং এর ফল কী হতে পারে, কেন সন্দেহ বা ভীতির সঞ্চার হয়েছে, তা নিম্মে পর্যালোচনা করা হলো-

০১। আইনের ৬নং ধারায় বর্ণিত কমিশনের কার্যাবলী ও ক্ষমতা এর (ক) উপধারায় ছিল, পুনর্বাসিত শরনার্র্থীদের ভ‚মি সংক্রান্ত বিরোধ পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচলিত আইন ও রীতি অনুযায়ী নি¯পত্তি করা। সংশোধিত আইনে বলা হয়েছে, পুনর্বাসিত শরনার্থীদের ভ‚মি সংক্রান্ত বিরোধ এবং অবৈধ বন্দোবস্ত ও বেদখল হওয়া ভ‚মি সংক্রান্ত বিরোধ পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচলিত আইন,রীতি ও পদ্ধতি অনুযায়ী নি¯পত্তি করা। অন্যদিকে (খ) উপধারায় ছিল, আইন ও রীতি। সংশোধিত আইনে আইন, রীতি ও পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে।
এখানে অবৈধ বন্দোবস্ত ও বেদখল হওয়া ভ‚মি বলতে কী বুঝানো হয়েছে এবং আইন-রীতি ছাড়া কেনই বা পদ্ধতি শব্দটি সন্নিবেশ করা হয়েছে, তাতেই বাংগালীরা তাদের বৈধ কাগজপত্রকে অবৈধ হিসেবে গণ্য করে কী-না তা নিয়ে ভীত সন্ত্রস্ত। পার্বত্য অঞ্চলে উপজাতীয়রা এ অলিখিত রীতি-পদ্ধতির দোহাই দিয়ে বাংগালীদের জায়গার কাগজপত্র থাকলেও জায়গা বেহাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বন্দোবস্তী দেওয়ার বিষয়ে ক্ষমতাবান জেলা প্রশাসক যদিও পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন মোতাবেক এখন উক্ত পরিষদের পুর্বানুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাদকতা রয়েছে। তাহলে জেলা প্রশাসকের নিকট হতে প্রাপ্ত বৈধ কাগজপত্রও কী অবৈধ হবে কী-না তাই এখন ভাবনার বিষয়।

০২। একই ধারার (গ) উপধারায় ছিল, পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রচলিত আইন বহির্ভূতভাবে কোন ভূমি বন্দোবস্ত প্রদান করা হইয়া থাকিলে উহা বাতিলকরণ এবং উক্ত বন্দোবস্তজনিত কারণে কোন বৈধ মালিক ভূমি হইতে বেদখল হইয়া থাকিলে তাহার দখল পুনর্বহালঃ তবে শর্ত থাকে যে, প্রযোজ্য আইনের অধীনে অধিগ্রহণকৃত ভূমি এবং রক্ষিত বনাঞ্চল, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা, বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ এলাকা, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্প কারখানা ও সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নামে রেকর্ডকৃত ভূমির ক্ষেত্রে এই উপ-ধারা প্রযোজ্য হইবে না। সংশোধিত আইনে (গ) উপধারায় বলা হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি বহির্ভূতভাবে জলেভাসা ভ‚মিসহ (ঋৎরহমব খধহফ) কোন ভ‚মি বন্দোবস্ত প্রদান বা বেদখল করা হইয়া থাকিলে উহা বাতিলকরণ এবং বন্দোবস্তজনিত বা বেদখলজনিত কারণে কোন বৈধ মালিক ভ‚মি হইতে বেদখল হইয়া থাকিলে তাহার দখল পুনর্বহাল; তবে শর্ত থাকে যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি অনুযায়ী অধিগ্রহণকৃত ভ‚মি এবং বসতবাড়ীসহ জলেভাসা ভ‚মি, টিলা ও পাহাড় ব্যতীত কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা ও বেতবুনিয়া ভ‚-উপগ্রহ এলাকার ক্ষেত্রে এই উপ-ধারা প্রযোজ্য হইবে না।
এখানে লক্ষনীয় যে, এ উপধারাটি পূর্বে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্প কারখানা ও সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নামে রেকর্ডকৃত ভূমির ক্ষেত্রে এই উপ-ধারা প্রযোজ্য হইবে না মর্মে উল্লেখ ছিল, কিন্তু সংশোধিত আইনে তা বাদ দেয়া হয়েছে। এতে করে উল্লিখিত রেকর্ডকৃত ভূমি বাতিল করা হলে, সরকারী বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সকল স্থাপনাসহ কী সংশ্লিষ্ট অভিযোগকারীর নিকট হস্তান্তর করতে হবে কী-না চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ এধরনের অনেক সরকারী ভবন থাকাও অস¦াভাবিক নয়।

০৩। আইনের ০৭নং ধারায় কমিশনের বৈঠক, কোরাম ও কার্যপদ্ধতি সম্পর্কিত ৫নং উপধারায় বর্ণিত ছিল, চেয়ারম্যান উপস্থিত অন্যান্য সদস্যদের সহিত আলোচনার ভিত্তিতে ধারা ৬(১) এ বর্ণিত বিষয়াদিসহ উহার এখতিয়ারভূক্ত অন্যান্য বিষয়ে সর্বসম্মতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে, তবে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব না হইলে চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তই কমিশনের সিদ্ধান্ত বলিয়া গণ্য হইবে। বর্তমান সংশোধনীতে বলা হয়েছে- চেয়ারম্যানসহ উপস্থিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের গৃহীত সিদ্ধান্তই কমিশনের সিদ্ধান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।

এখানে লক্ষনীয় যে, কমিশনের চেয়ারম্যান ব্যতীত কেউই বিচারপতি নন, বরং সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য উপজাতীয় প্রতিনিধি। একজন বিচারপতির ভোট এবং আইন বিষয়ে অনভিজ্ঞ সাধারণ সদস্যের ভোটাধিকার এক হতে পারেনা। তাই, কমিশনের কার্যক্রম পরিচালনাকালে বিতর্কিত ফলাফলকেই সবার গ্রহণ করতে হবে। এখানে আরও লক্ষ্যনীয় যে, একই আইনের ধারা ১৬ মোতাবেক যেহেতু এ কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোন আদালতে আপীল করা যাবেনা, সেহেতু বর্ণিত বিতর্কিত রায়কে শিরোধার্য হিসেবে মেনে নিয়ে এতদাঞ্চলের সকল বাঙ্গালীকে তাদের দখলাধীন ভূমি হারাতে থাকতে হবে। এতে পাহাড়ী-বাংগালী সংঘাত হওয়ার বিষয়টিও ভাবতে হবে।

০৪। পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন মোতাবেক, ০৫ সদস্যের কমিশনের প্রধান হবেন একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। এ কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন-পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান বা তৎকর্তৃক মনোনীত একজন পরিষদের সদস্য, সংশ্লিষ্ট পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট সার্কেল চীফ বা তৎকর্তৃক মনোনীত প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার বা তৎকর্তৃক মনোনীত অতি: বিভাগীয় কমিশনারের পদমর্যাদার নীচে নহেন একজন প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত। উল্লিখিত সংশোধিত আইনে ৭নং ধারায় ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের চেয়ারম্যানের ক্ষমতা হ্রাস করে এমন এক পর্যায়ে নেয়া হয়েছে যে, ঐ একটি বিষয় দিয়েই বাঙ্গালীদেরকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায়। উক্ত সংশোধনীতে বলা হয়েছে যে, কমিশনের সকল সদস্যের ভোট প্রদানের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। লক্ষনীয় যে, চেয়ারম্যান ছাড়া বাকী ০৪ জন সদস্যের মধ্যে ০৩ জন সদস্যই সরাসরি উপজাতীয় হবেন নিঃসন্দেহে। অধিকন্তু, চেয়ারম্যান বা অপর সদস্য (অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার) বাংগালী হবেন কিংবা উল্লিখিত ০২জন পার্বত্য এলাকা বিষয়ে অভিজ্ঞ হবেন এমন ভাবার কারণ নেই। ফলে এক পক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে সংশ্লিষ্ট বিরোধের রায়, সব সময় এক পক্ষের তথা উপজাতীয়দের পক্ষে যাবে। ফলে বিরোধ নিষ্পত্তিকালে উপজাতীয় সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠের কারণে বাঙ্গালীরা সব সময় ক্ষতিগ্রস্থ হবে। উল্লেখ্য, ভূমি কমিশনটি যেভাবে গঠিত হয়েছে, তা এক পক্ষের বা উপজাতীয়দের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের অনেক ভূমি বিরোধ পাহাড়ী-বাংগালীদের মধ্যে রয়েছে। তাই, এক পক্ষের বক্তব্য শুনে কোনভাবেই বিচার প্রক্রিয়া সু¯ঠু হবে না। তবুও ভরসা ছিল, কমিশনের চেয়ারম্যান যেহেতু একজন বিচারপতি- তিনি বিচার বিশ্লেষণ করতঃ বিচার প্রক্রিয়া পরিচালনা করবেন এবং তাঁর সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত হিসেবে গণ্য হওয়ার বিধান থাকায় বিষয়টি তৎকালীন সময়ে মোটামুটি মেনে নেয়া হয়েছিল। সর্বোপরি পার্বত্য জেলায় ভূমি জরীপ কাজ সম্পন্ন না করে ভূমি বিষয়ক কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সমীচিন নয়।

০৫। আইনে আরও বিভিন্ন সংশোধনী আনা হয়েছে, যা বিভিন্ন প্রশ্নসাপেক্ষ। যেমনঃ ধারা ০৩ এ কমিশন গঠন প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সার্কেল চীফ এর স্থলে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সার্কেল চীফ বা তৎকর্তৃক মনোনীত একজন প্রতিনিধি থাকবেন। মনোনীত প্রতিনিধি কে বা কোন পদমর্যাদার হবেন তা ষ্পষ্ট করা হয়নি। এ পদে বিতর্কিত কাউকে মনোনীত করলেও কিছুই করার নেই। ধারা ০৪ এ কমিশনের কার্যালয় পার্বত্য জেলাসহ যেকোন স্থানে করার বিষয়টি সংশোধন করা হয়েছে, এতে করে সন্দেহ হয়, ঢাকা বা অন্যকোন স্থানে কমিশনের কার্যালয় স্থাপন করে ওখান হতে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া হবে। আইনের ৭(৩)ধারায় কমিশনের সভার কোরামের জন্য চেয়ারম্যান এবং অপর ০২জনের স্থলে ০৩জন হিসেবে সংশোধন করা হয়েছে।এতে উপজাতীয়দের সংখ্যাগরিষ্টতার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ধারা ০৯এ কমিশনে দাখিলকৃত আবেদন পরবর্তীতে সংশোধন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। ১৩(৩)ধারা নামে নতুন উপধারা যোগ করে, কমিশনের সচিব এবং অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদে উপজাতীয়দের অগ্রাধিকার প্রদান করে নিয়োগ করার বিধান করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন উপজাতীয়দের স¦ার্থ রক্ষায় সার্বিকভাবে নিয়োজিত থাকবে, যা সংশোধিত আইনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।

সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা পূর্বক সংশোধিত পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন কার্যকরের পূর্বে বর্তমানে বাংগালীদের প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি বিশ্লেষণ এবং আইন কার্যকরের পরবর্তীতে আরও কী ধরনের প্রতিক্রয়া হওয়ার স¤ভাবনা রয়েছে, সরকারের গভীরভাবে ভেবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বৈকি।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত