টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ময়লা আবর্জনার ভাগাড়: দূষিত হচ্ছেপরিবেশ, চলাচলে নাভিশ্বাস

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

mirsarai-moila-photoচট্টগ্রাম, ২৩ অক্টোবর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস): দেশের লাইফ লাইন খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের মিরসরাই অংশের বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে সৌর্ন্দয্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি গন্ধে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। ময়লার গন্ধে মহাসড়কে যাতায়াতকারী যাত্রীদের নাভিশ্বাস চরমে। মিরসরাই ও বারইয়ারহাট পৌরসভা ছাড়াও মহাসড়কের পাশে ময়লা ফেলছে স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, চলতি বছরের জুলাই মাসে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৪ লেন প্রকল্প উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনের পর থেকে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় মহাসড়কটি। মহাসড়কের মিরসরাই অংশের ২৮ কিলোমিটার অংশের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভরাট করা হচ্ছে সড়ক ও জনপদের (সওজ) জায়গা। ময়লা-আবর্জনার কারণে মহাসড়কের সৌর্ন্দয্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মহাসড়কের পাশে অবস্থিত বাড়িতে বসবাস করা দূরসাধ্য হয়ে পড়েছে। এছাড়াও মহাসড়কে যাতায়াতকারী যাত্রীবাহী বাসের যাত্রীদের বেশিরভাগই গন্ধের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। মহাসড়কের পাশ্ববর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নাক ধরে প্রতিদিন এ স্থানগুলো পার হতে হয়। মহাসড়কের বড়দারোগারহাট, নিজামপুর, নয়দুয়ার, বড়তাকিয়া, মিরসরাই পৌরসদর, ওচিমিয়ার ব্রিজ, মিঠাছরা বাজার ও বারইয়ারহাট পৌর বাজারের ময়লা প্রতিদিনই মহাসড়কের পাশ্ববর্তী সওজের খালি জায়গায় ফেলা হয়। উপজেলার বড় বাজারগুলোর ময়লা আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান না থাকা ও সওজের পক্ষ থেকে বাধা না দেওয়ার কারণে বেশীর ভাগ স্থানে ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। তাছাড়াও কিছু দুষ্কৃতিকারী ইচ্ছে করে সওজের জায়গায় ময়লা-আবর্জনা ফেলে তা ভরাট করে সেখানে গড়ে তুলছেন দোকানপাট। মিঠাছরা বাজারের পরিচালনা কমিটি মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ও মহামায়া খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভরাট করে ফেলছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের পূর্বপাশ ঘেঁসে বারইয়ারহাট পৌর বাজারের দক্ষিনে দিনের পর দিন ময়লা ফেলে স্তুপ করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। ওই স্থান দিয়ে যাতায়াত করার সময় নাক চেপে ধরতে হয়। এছাড়া পাশে শেফা-ইনসান হাসপাতালে আসা-যাওয়ার পথে চরম অসুবিধা হয় রোগীদের। পৌর কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার বিষয়টি অবহিত করার পরও কোন প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

বারইয়ারহাট কলেজের শিক্ষার্থী নাঈমুল হাসান বলেন, বারইয়ারহাট পৌর কর্তৃপক্ষ সড়কের পাশে ফেলা ময়লা-আবর্জনার গন্ধে যাতায়াত করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। পচাঁ দুরগন্ধের কারণে এ পথ দিয়ে যাওয়ার সময় ভমি ভাব লাগে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছে।

চট্টগ্রাম শহরে নিয়মিত যাতায়াতকারী রেজাউল করিম বলেন, ময়লা আবর্জনা ফেলার সৌন্দর্য্য নষ্ট হচ্ছে দেশের লাইফ লাইন খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের। গন্ধের কারণে মহাসড়কে যাতায়াতকারী যাত্রীরা শ্বাসকষ্ট সহ বিভিন্ন শারিরীক সমস্যায় ভুগছেন। তাই সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উচিত মহাসড়কের পাশ্ববর্তী জায়গাগুলো পরিষ্কার করে রাখা।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়া আহমেদ সুমন জানান, সড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলা মোটেও উচিৎ নয়। এতে করে পরিবেশ দূষন, সড়কের সৌন্দয্য নষ্ট ও সংক্রামক সৃষ্টি হয়। আমি বিষয়টি নিয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের সাথে আলোচনা করবো।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চারলেন প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক জুলফিকুল আলী বলেন, কোনভাবেই মহাসড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলা যাবেনা। ইতমধ্যে বারইয়ারহাট পৌরকর্তৃপক্ষকে সড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনা না ফেলতে ৩ বার চিঠি দিয়েছি। ময়লাগুলো সরিয়ে ফেলতে দ্রæত তাদের নির্দেশ দেয়া হবে।

মতামত