টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

অবহেলিত রামগড়ের সম্ভাবনাময় পর্যটন খাত

আজ দশ বছরে রামগড়ের পর্যটন লেক

করিম শাহ
রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি

1চট্টগ্রাম, ২১ অক্টোবর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস)::জিরাপ গলার দৈত্যাকার আকৃতি নিয়ে লেকের স্বচ্ছ পানিতে দাড়িয়ে থাকা পাহাড়ের জিরাপ রামগড়ের ঝুলন্ত সেতুটির আজ ২২ অক্টোবর দশ বছর পেরিয়ে আগারতে। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর রামগড় লেকটি এই উপজেলার প্রথম ও প্রধান পর্যটন স্পট এবং ঝুলন্ত সেতুটি জেলার প্রথম ও দৃষ্টিনন্দন সেতু হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করে। কিন্তু লেকটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংশ্লিষ্ট কৃর্তপক্ষের অযত্ন অবহেলায় স্পিড বোর্ড, লাইটিং, বাহারী ফুলের বাগান, বাউন্ডারী ফুল, ঝুলন্ত সেতুর রিং ও খসে পড়েছে রং, লেকের সেতু, সিড়ি ও বাউন্ডারী রিলিং স্টিক, লেকের ভিতরের রাস্তাসহ বহু স্থাপনা যেমন ধ্বংশ হয়েছে তেমনী চুরীও হচ্ছে বর্তমানে দিনেরাতে হরদম চলছে লেকের মাছ চুরী। এমন অযত্ন অবহেলায় কমছে লেকের সৌন্দর্য পরিণত হয়েছে গৌচারণ ভূমিতে আর বখাটে ও মাদক সেবীদের আড্ডাখানায়। এদিকে সংশ্লিষ্ট কৃর্তপক্ষের যথাযথ উদ্যেগের অভাবে অফার সম্ভাবনাময় রামগড়ের পর্যটন খাত চলে যাচ্ছে ধ্বংশের দিকে এতে যেমন দর্শনার্থীদের আগমন কমে যাচ্ছে তেমনী স্থানীয় পর্যটন প্রেমীদের খোবও দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

খাগড়াছড়ির পার্বত্য জেলা সদর হতে ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত রামগড় উপজেলা প্রশাসন কেন্দ্রিক ইংরেজী ডবিøও বর্ণমালার আকৃতিতে ২৫০ মিটার দৈর্ঘ নিয়ে গড়ে তোলা হয় রামগড় লেক। লেকটির সব মিলিয়ে যতটা সৌন্দর্য প্রকাশিত হয়েছে তার পুরোটাই যেন লেকের মাঝখানে দাড়িয়ে থাকা সুবিশাল জিরাপ গলার আকৃতিতে গড়া ঝুলন্ত সেতুটি। আর এ কারণেই পর্যটকদের কাছে লেকটির সৌন্দর্য ও পারিপাশি^ক প্রকৃতি দেশব্যাপি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে প্রতিদিন শতশত দর্শনার্থীর আগমন ঘটতো যা এখন নিতান্তই স্বপ্ন।

2
জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের কয়েক দফা অর্থায়নে লেকটি সম্পন্ন করা হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের তৎকালীন চেয়ারম্যান ও সাবেক খাগড়াছড়ি সাংসদ ওয়াদুদ ভূঁইয়া ২০০৬ সালের ২২ অক্টোবর এটি উদ্বোধন করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে লেকটি কখনো উপজেলা ভূমি আবার কখনো পৌরসভা অধিনস্ত হতে থাকে বর্তমানে এটি উপজেলা ভূমির অধিনস্ত রয়েছে। পর্যটক ও স্থানিয় পর্যটন প্রেমীদের অভিযোগ এমন দোটানায় লেকটি চরমভাবে উন্নয়ন বঞ্চিত হচ্ছে। এদিকে লেকটি প্রতিষ্ঠার অনেক পরে কয়েকটি নতুন স্থাপনা যুক্ত হলেও নতুন পুরনো স্থাপনা রক্ষণা বেক্ষণে যথাযথ উদ্যোগ বা তাগাদা নেই সংশ্লিষ্টদের।

প্রাকৃতিক পরিবেশ বান্ধব এই মনোরম লেকে প্রবেশ দ্বারে ১নং গেইটে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধারে স্মৃতি বিজড়ীত বিজয় ভাস্কার্য এবং ডান পাশে রয়েছে ১৯৫২ ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি বিজড়ীত মহান শহীদ মিনার ও সম্প্রতি নির্মিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নির্ভর ডোরাকাটা ছবি এ তিনটি লেক প্রতিষ্ঠার বহু পরে নির্মান করা হয়। চারপাশে রেলিং ঘেরা লেকের উভয় পাশে রয়েছে যানবাহন চলাচলের রাস্তা। লেকের দুই তীরে আগত দর্শকদের বিশ্রামের জন্য ১২টি শেড ও পিকনিকের জন্য একটি সুদৃশ্য গোলঘর পাশে রয়েছে কয়েকটি থাকার ঘর। লেকের মাঝখানে ঝুলন্ত সেতুটি ছাড়াও লেকের মাঝে রয়েছে জনসাধারণের চলাচলের সেমি পাকা একটি সেতু। লেকের পাশে রয়েছে একটি রেষ্টহাউজ, মহিলা ক্লাব, উপজেলা পরিষদ ভবন, বালিকা বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়, অফিসার্স ক্লাব, উপজেলা প্রশাসনিক ভবন ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাস্থল ।

সংশ্লিষ্ট কৃর্তপক্ষ যথাযথ উদ্যোগ নিলে জিরাফ গলার মতো উঁচু ঝুলন্ত সেতু, দীর্ঘ লেক, গোলঘর, বসার শেঠ, পদচারী সেতু, শহীদ মিনার, মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য, মুক্তিযুদ্ধের ১নং সেক্টেরের স্মৃতি অবয়বসহ উপজেলার অন্য স্থাপনা দৃষ্টিনন্ধন রামগড় পৌরসভা ভবন, স্বাধীনতা স্তম্ব, পার্বত্য জেলার প্রথম শহীদ মিনার, পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, সহেল বাগান, পুরনো ডাক বাংলো, কলসীর মুখ ও রামগড় চা বাগানসহ সব মিলিয়ে উপজেলাটি হতে পারে রামগড় তথা পাবর্ত্য খাগড়াছড়ি জেলার একটি আকর্ষণীয় পর্যটনময় উপজেলা।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত