টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

পশ্চিমা দূতাবাসে হামলার পরিকল্পনা ছিল নব্য জেএমবির

চট্টগ্রাম, ২১ অক্টোবর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: সাম্প্রতিক জঙ্গি তৎপরতায় আলোচিত সংগঠন নব্য জেএমবির পশ্চিমা দূতাবাসে হামলার পরিকল্পনা ছিল বলে জানিয়েছে র‌্যাব। অতর্কিত হামলা করে দূতাবাসের কর্মীদের হামলার চিন্তা করেছিল তারা। তবে কোন কোন দূতাবাসে এসব হামলার পরিকল্পনা ছিল সেটা জানায়নি বাহিনীটি।

সকালে রাজধানীতে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান র‌্যাব প্রধান বেনজীর আহমেদ।

নব্য জেএমবির সন্দেহভাজন প্রধান কথিত শাইখ আবু ইব্রাহিম আল হানিফের উদ্ধার হওয়া নানা চিঠি, ই মেইল এবং ক্ষুদে বার্তা পর্যালোচনা করে এ পরিকল্পনার কথা জানতে পেরেছে র‌্যাব।

গত ৮ অক্টোবর আশুলিয়ায় একটি বাড়িতে অভিযান চলাচালে পাঁচ তলা থেকে লাফিয়ে মারা যাওয়া আবদুর রহমানই নব্য জেএমবির কথিত প্রধান শাইখ আবু ইব্রাহিম আল হানিফ বলে জানায় র‌্যাব। তবে আবদুর রহমান বা আবু ইব্রাহিম তার প্রকৃত নাম নয়। তার আসল নাম সারোয়ার জাহান। তাদের বাড়ি চাঁপাইনবাগঞ্জ উপজেলার ভোলাহাট উপজেলার থুমরিভুজা গ্রামে।

র‌্যাব জানায়, ২০০৭ সালে জেএমবি প্রধান শায়খ আবদুর রহমান এবং বাংলা ভাই গ্রেপ্তার হওয়ার পর নব্য জেএমবির জন্ম।

র‌্যাবের ভাষ্যমতে ২০১৫ সালের ৩০ আগস্ট ও ৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে দুটি হামলা চালিয়ে এক আওয়ামী লীগ নেতা ও কথিত পীরকে হত্যার মাধ্যমে অপারেশন শুরু করে তারা। এরপর ২০১৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গুলশানে ইতালীয় নাগরিক তাভেল্লা সিজার, ৩ অক্টোবর রংপুরে জাপানি নাগরিক হোশি কুনিওকে হত্যাসহ আলোচিত সব গুপ্তহত্যাও এই সংগঠনের সদস্যরাই ঘটিয়েছে।

তবে নব্য জেএমবির সবচেয়ে বড় অভিযান হয়েছে গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে। ওই হামলায় ১৭ বিদেশি, দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ নিহত হয় মোট ২২ জন। এর পর ৭ জুলাই কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ময়দানে হামলা চেষ্টাও এদেরই কাজ বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ জানান, নব্য জেএমবির কথিত প্রধানের কাছ থেকে তারা যেসব নথিপত্র উদ্ধার করেছেন তাতে বেশ কিছু হামলার পরিকল্পনাও ছিল।

বেনজীর জানান, নব্য জেএমবি বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সহায়তায় বাংলাদেশের মধ্যে একটি সেইফ জোন তৈরির পরিকল্পনা করেছিল।

বেনজীরের ভাষ্যমতে নব্য জেএমবি সবচেয়ে ভয়ঙ্কর যে পরিকল্পনা কষেছিল সেটি কার্যকর হলে পশ্চিমা বিশ্বে বাংলাদেশকে নিয়ে তোলপাড় হয়ে যেতো। তিনি জানান, জঙ্গিরা পশ্চিমা দূতাবাসে অতর্কিত আক্রমণ করে তাদেরকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়েছিল। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি র‌্যাব প্রধান। এই তথ্য পেয়ে দূতাবাসগুলোতে সতর্ক করা হয়েছিল কি না, সেই তথ্যও সংবাদ সম্মেলনে দেননি বেনজীর।

মধ্যপ্রাচ্য ও আফগানিস্তানভিত্তিক বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন এর আগে বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসকে লক্ষ্য করে নানা প্রাণঘাতি হামলা চালিয়েছে। এসব ঘটনায় পশ্চিমা দেশগুলোও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল।

গত ১ জুলাই গুলশানের কূটনীতিক পাড়ায় হলি আর্টজান বেকারিতে হামলার পর কূটনীতিক পাড়া হিসেবে পরিচিত গুলশান ও বারিধারায় সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে। নিয়মিত তল্লাশির পাশাপাশি কড়া নিরাপত্তার আয়োজন রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

র‌্যাব জানায়, নব্য জেএমবির প্রধান লক্ষ্যর একটিই ছিল বিদেশি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিক ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানে হামলা করা। বিশেষ করে গুলশান, বনানী, বারিধারায় বিদেশি নাগরিকদের ওপর আক্রমণের পরিকল্পনা করেই এগিয়েছিল তারা।

১০১৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গুলশানে ইতালীয় নাগরিক তাভেল্লা সিজার হত্যার পর বাংলাদেশ পশ্চিমাদের স্বার্থের ওপর হামলা হতে পারে- এমন সতর্কবার্তা দিয়ে নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করেছিল পশ্চিমা বেশ কিছু দেশ। এদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার নাম ছিল। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয় ক্রিকেট দলের সফরও বাতিল হয়।

পুলিশের অস্ত্র লুট ও বুদ্ধিজীবী হত্যার পরিকল্পনা

বেনজীর আহমেদ জানান র‌্যাব, পুলিশসহ সশস্ত্র বাহিনী এবং ব্লগার ও নাস্তিকদের যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই হত্যার পরিকল্পনা ছিল নব্য জেএমবির।

র‌্যাব জানায়, আলোচিত প্রায় সব গুলো গুপ্তহত্যাই ছিল নব্য জেএমবির কাজ। এ ছাড়া ভবিষ্যত লক্ষ্যবস্তার মধ্যে ছিল পুলিশের ওপর আক্রমণ করে আহত করা, এরপর আহত পুলিশকে কুপিয়ে অস্ত্র লুট করা, পুলিশের পোশাক সংগ্রহ করে লুট করা অস্ত্রের সাহায্যে ডিবি পরিচয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিন্ন মতাবলম্বী শিক্ষকদের উঠিয়ে নিয়ে এসে তাদেরকে হত্যা করা। এ ছাড়া গ্রাম অঞ্চলের থানা লুট করার পরিকল্পনাও ছিল তাদের।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত