টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

দাম নিয়ন্ত্রণে কড়া ব্যবস্থা’র ঘোষণা দিয়ে নগরীতে বাজার মনিটরিং শুরু

bazar-sobziচট্টগ্রাম, ২১ অক্টোবর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: বাজারে চাল, তেল, চিনি, লবণসহ অন্যান্য নিত্য পণ্যের বাজারও অস্থির। অধিকাংশ সবজির দাম আকাশ ছোঁয়া।

নগরীর চকবাজার, রেয়াজউদ্দিন বাজার, কাজিরদেউরি ও অক্সিজেন কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে একমাত্র আলু ছাড়া বাকি সবজির বাজার অস্থির।বাজারে কোন সবজি ও তরকারির কোন সংকট নেই। সবজি বিক্রেতাদের কাছে পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও দাম আকাশচুম্বী।   বাজারে নিত্য পণ্যের দাম বাড়ায় চরম অস্বস্তিতে আছেন ক্রেতারা।

এর মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে বাজার মনিটরিং সভায় আজ (শুক্রবার) থেকে বাজার নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শুরু করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে দুইটি পৃথক টিম বাজার মনিটরিং এর কাজ করবে।

এদিকে সভায় ব্যবসায়ীরা দাবি করেন সবজি ও চালসহ অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়ছে মূলত অফ সিজনের কারণে। তবে বাজারে সবজিসহ অন্যান্য নিত্য পণ্যের সরবরাহে কোন ঘাটতি নেই বলেও জানান তারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ী, ভোক্তা ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের কথায় উঠে আসে বাজার মনিটরিং এর কথা।

সভায় ক্যাব নেতৃবৃন্দ বলেন, পাইকারী বাজার এবং খুচরা বাজারে দামের পার্থক্য অনেক বেশি। পাইকারী বাজার থেকে পণ্য ক্রয় করে খুচরা বাজারে কত টাকা বিক্রয় করতে পারবে সে বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত। এই মুহূর্তে মনিটরিং এর মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। কারণ ব্যবসায়ীরাই পণ্যের অতি মূল্যায়ন করছেন।

অন্যদিকে খাতুনগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির সিনিয়র সভাপতি আবুল বাশার চৌধুরী দাবি করেন, ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে কথাটি ঠিক না। বাজার হলে চাহিদা ও যোগানের ভারসাম্য। চাইলে কোন একটি পক্ষ বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। সরকার রমজানে আগে চিনির ওপর অতিরিক্ত ১৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে যার কারণে চিনি দাম এফ লাফে ডাবল হয়ে গেছে।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন বলেছেন, সম্প্রতি চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, চিনি, লবণ ও কাঁচা তরিতরকারিসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে নানা অজুহাতে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলছে।

পাইকারি বাজারের সাথে খুচরা বাজারের পণ্যের মূল্যে অনেক পার্থক্য পরিলক্ষিত হচ্ছে।

এসব পণ্যের মূল্য কেন বৃদ্ধি হচ্ছে, কারা এ ধরনের কাজে জড়িত তা খুঁজে বের করা হবে এবং জনগণের কষ্টের বিষয়টি বিবেচনায় এনে নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রেখে ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করা হবে।

(আজ শুক্রবার) থেকে চট্টগ্রাম নগরীর প্রতিটি পাইকারি ও খুচরা বাজারে জেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ক্যাব এবং সংশ্লিষ্ট বাজার কমিটির সদস্যদের নিয়ে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম শুরু করা হবে।

এছাড়া নিত্য প্রয়োজনীয় পাইকারি- খুচরা প্রত্যেক দোকানে মূল্য তালিকা টাঙিয়ে রাখতে হবে এবং পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার থাকতে হবে।

এর ব্যত্যয় ঘটলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, গত পবিত্র রমজান মাসে জেলা প্রশাসনের পর্যাপ্ত সংখ্যক ম্যাজিস্ট্রেট থাকার কারণে নিয়মিত বাজার মনিটরিং কার্যক্রম সন্তোষজনক ছিল। এতে করে ভোক্তাসহ সকলেই উপকৃত হয়েছে। সরকারি প্রশিক্ষণের কারণে বর্তমানে জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট সঙ্কট রয়েছে। ফলে বাজার মনিটরিং সঠিকভাবে না হলেও মোবাইল কোর্ট অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত