টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ভারতে যাওয়া কন্টেইনারে বাংলাদেশি উদ্ধার

tচট্টগ্রাম, ২০ অক্টোবর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস)::ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তম বন্দর থেকে কন্টেইনারে তালাবদ্ধ অবস্থায় একজন মধ্যবয়সী বাংলাদেশিকে অর্ধচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ওই খালি কন্টেনারটি ১০/১২ দিন আগে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে জাহাজে তোলা হয়েছিল।

বেসরকারি ভিজাগ কন্টেইনার টার্মিনাল থেকে গতকাল বুধবার ওই বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা হয় বলে আজ বৃহস্পতিবার রাতের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদপত্র দ্য হিন্দু। ওই যুবকের নাম মুহাম্মদ রুহন হোসেন। তার বাড়ি ঢাকার পার্শ্ববর্তী বিক্রমপুরে। তার বয়স ২৫। বর্তমানে সে কিং জর্জ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো একটি খালি কন্টেইনারে থেকে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। ওই কন্টেইনারটি ছিল বিশাখাপত্তম ভিত্তিক ‘সামসারা শিপিং কোম্পানি’র। এটি জেনেভাভিত্তিক ভূমধ্যসাগরীয় শিপিং কোম্পানির স্থানীয় এজেন্ট।

youth-in-container-the-hindপুলিশ জানিয়েছে, টার্মিনালের কর্মকর্তারা কন্টেইনারটি খোলার পর এর ভেতর থেকে হাড্ডিসার পানিশূন্যতায় কাতর অবস্থায় ওই বাংলাদেশীকে দেখতে পান।

একনম্বর টাউন থানার অফিসার ইনচার্জ বি ভেঙ্কট রাও বলেন, ওই লোকটিকে দেখে শ্রমিক মনে হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে তিনি সংঘবদ্ধ কোনো চক্রের পাচারের শিকার হননি। বরং তিনি ভেতরে থাকা অবস্থায় কন্টেইনারের দরজা আটকে দেয়া হয়েছিল বলে মনে হচ্ছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, সাধারণত পেশাদার পাচারকারীরা মাল বোঝাই কন্টেইনারের ভেতরে খাদ্য ও পানীয় দিয়ে মানবপাচার করে থাকে। কিন্তু এই বাংলাদেশীর ঘটনাকে দুর্ঘটনা বলে মনে হচ্ছে।

তবে পুলিশের কাছে ওই যুবক জানিয়েছে সে চট্টগ্রাম শহরে ভিক্ষা করত। রাস্তার ধারে একটি খালি কন্টেনার দেখে তার ভেতরেই সে ঘুমিয়ে পড়েছিল। তার আর কিছু মনে নেই।

ভেঙ্কট রাও জানিয়েছেন, কাল যখন উদ্ধার করা হয়, তখন সে খুবই কাহিল ছিল, তাই কথাই বলতে পারে নি। তার গায়ে সেরকম কোনও পোষাকও ছিল না। যে অবস্থায় কন্টেনারের ভেতরে এতদিন ছিল সে, তারপরেও যে জীবিত আছে, এটাই বিস্ময়কর।

তিনি আরো জানান, জাহাজে করে ওই খালি কন্টেনারটি বিশাখাপত্তম বন্দরে পৌঁছায় ৪-৫ দিন আগে। সেটিকে ইয়ার্ডে রাখা হয়েছিল। গতকাল কন্টেনারের ভেতর থেকে মানুষের গলা পাওয়া যায়। ভেতর থেকে ওই যুবক কন্টেনারের গায়ে আওয়াজও করছিল। সেই আওয়াজ নিরাপত্তারক্ষীদের কানে যায়। তারপরেই কন্টেনার খুলে কাহিল অবস্থায় ওই যুবককে দেখতে পাওয়া যায়।

হাসপাতালে চিকিৎসার ফলে একদিনেই যুবকটির অবস্থা কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার ওই যুবককে দেশে আনার পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (নিরাপত্তা) আবদুল গাফফার বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমরা শুনেছি। বিষয়টা খুবই রহস্যজনক।কন্টেইনারে করে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে কেন যাবে? সব বিষয়েই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বিশাখাপত্তম বন্দরের সাথেও যোগাযোগ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে রাখা একটি খালি কন্টেইনারে ঢুকে আটকা পড়েন দ্বীন ইসলাম ও আল আমিন নামের দুই বন্দর শ্রমিক। ওই কনন্টেইনার নিয়ে জাহাজটি সিঙ্গাপুর পৌঁছানোর পর আল আমীনের লাশ ও দ্বীন ইসলামকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

ওই বছর অক্টোবরে দেশে ফিরিয়ে আনা হয় দ্বীন ইসলামকে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত