টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

অবশেষে ক্যান্সারে নিভে গেল হান্নানের জীবন প্রদীপ

চোখের জলে বাসিয়ে গেল ফটিকছড়িবাসীকে

মীর মাহফুজ আনাম
ফটিকছড়ি থেকে

h-2চট্টগ্রাম, ২০ অক্টোবর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: দীর্ঘ তিন মাস ক্যান্সারের সাথে লড়াই করে অবশেষে হেরে গেল নাজিরহাট কলেজের মেধাবী ছাত্র হান্নান (১৮)। নিভে গেল তার জীবন প্রদীপ। আজ সকালে রাজধানীর একটি হাসপাতালে সে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করে। আজ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভাধীন পূর্ব সুয়াবিল গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।

মায়ের আকুতি, বাবার মিনতি, সহপাঠি, সাংবাদিক কিংবা সমাজকর্মীদের শত প্রচেষ্টাকে বৃথা করে হান্নান চলে গেল না ফেরার দেশে। স্কুল কলেজের দুয়ারে দুয়ারে দাঁড়িয়ে কিংবা রাস্তার মোড়ে মোড়ে হাত পেতে অর্থ সংগ্রহ করে হান্নানের চিকিৎসা তহবিল গঠন করা সে সব নিবেদিত মানুষগুলো কি করে মেনে নেবেন হান্নানের এভাবে অকালে চলে যাওয়া ? দিন রাত পরিশ্রম করে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে অর্থ সংগ্রহ করা মানুষগুলো মনকে বুঝাবে কি করে ? জানিনা প্রবাসে ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের টাকা থেকে অনুদান পাঠানো সেসব প্রবাসীদের মন আজ কতোটা কাঁদবে ?

স্কুল যাওয়ার সময় পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া টাকা টিপিনে নাস্তা না খেয়ে হান্নানের চিকিৎসা তহবিলে দেওয়া শিক্ষার্থীটির মন আজ কতোটা ভাঙ্গবে ? হান্নানের চলে যাওয়াতে আজ শুধু তার পরিবার কাঁদছে না, কাঁদছে পুরো ফটিকছড়িবাসী।

অসহায় হান্নানের চিকিৎসা তহবিল গঠেন মূখ্য ভূমিকা রাখা সাংবাদিক ও সহকর্মী জাহাঙ্গীর উদ্দিন মাহমুদ কান্না ভেজা কণ্ঠে বলেন, তার মৃত্যুর সংবাদ শুনে মনে হচ্ছিল আকাশটা মাথার উপর ভেঙ্গে পড়লো। হান্নানের সাথে শেষবার দেখা হয়েছিল ভারত যাওয়ার দিন। সেদিন যখন সে মাকে ছেড়ে গাড়িতে উঠছে, বার বার ছেয়ে আছে মায়ের মুখের পানে। ‘মা’ শাড়ির আচলে মুখ লুকিয়ে কান্নাকে বার বার লুকাতে চেয়েছিলেন সেদিন। আজ কি করে কান্না লুকাবেন হান্নানের মা ?’

নাজিরহাট কলেজের মেধাবী ছাত্র মো.হান্নান (২০)। বাবা নাজিরহাট পৌরসভাধীন ভাঙ্গা দিঘীর পাড় এলাকার হত দরিদ্র কৃষক আশিকুর রহমান। কৃষক বাবার শেষ সম্ভলটুকু বিক্রি করে শেষ করেছে আদরের ছেলেটাকে বাঁচাতে। ছেলে কলেজে পড়ে তার আত্মসম্মান নষ্ট হবে, বন্ধুদের কাছে ছোট হয়ে যেতে পারে সেই ভয়ে কারো কাছে হাত পাতেননি তিনি।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমসহ নানাভাবে ছড়িয়ে পড়ে হান্নানের এমন দুর্দশার কথা। তাকে সুস্থ করে তুলতে হাত বাড়িয়েছিল বন্ধু, সহপাঠি, প্রবাসীসহ সমাজের নানা স্তরের মানুষ। সবার অনুদানের টাকায় তাকে ভারতের কলকাতা টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে হান্নানের চিকিৎসার জন্য মোটা অংকের টাকার প্রযোজন হয়। যা কোনভাবে সম্ভবপর না হওয়াতে ঢাকায় নিয়ে এসে চিকিৎসা করানো হচ্ছিল তাকে। সেখানেই তার আজ মৃত্যু হলো।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত