টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সাইবার সিকিউরিটিতে সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

চট্টগ্রাম, ১৯ অক্টোবর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দেশে ডিজিটালাইজেশনের পাশাপাশি ডিজিটাল হুমকিও সৃষ্টি হচ্ছে। তাই এ খাতে ডিজিটাল নিরাপত্তা বাড়াতে হবে। ডিজিটালাইজেশন যাতে দেশের জনগণের জন্য ক্ষতিকর না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

বুধবার রাজধানীর কুড়িলে বসুন্ধরা কনভেনশন সিটিতে আয়োজিত ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৬’ উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা ডিজিটাল সিকিউরিটি-২০১৬ প্রণয়ন করতে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে উচ্চ পর্যায়ের ডিজিটাল সিকিউরিটি কাউন্সিলও প্রতিষ্ঠা করা হবে।’

আইসিটি বিভাগ, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস এবং এটুআই কর্মসূচি যৌথভাবে এই মেলার আয়োজন করেছে। মেলায় সরকারি আইসিটি সেক্টরের নীতি নির্ধারকরাসহ সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। সাতটি দেশের সাতজন মন্ত্রী আইসিটি সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সম্মেলনে উপস্থিত হন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের লুটপাটের চিন্তা পরিহার করে আমরাই দেশে উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করি। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবানে আমাদের সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে দেশে ১৩ কোটি মোবাইল সিম ব্যবহার হচ্ছে, ৬ কোটি ৪০ লাখ লোক ইন্টারনেট ব্যবহার করছে, ৫ হাজারের বেশি ডিজিটাল সেন্টার থেকে সেবা নিচ্ছেন জনগণ, ৪০টিও বেশি দেশে সফটওয়ার রফতানি করছে বাংলাদেশ, নারীর ক্ষমতায়নের পাশাপাশি তাদের ফিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, রাজধানীর কালিয়াকৈরে হাইটেক পার্ক স্থাপন করা হয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছেলেমেয়েরা যাতে হাতেকলমে ডিজিটাল প্রশিক্ষণ নিতে পারে সে জন্য দেশব্যাপী বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। মানুষকে যাতে হয়রানির শিকার হতে না হয় সে জন্য অনলাইনে ফরম জমা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছ। টেন্ডার বাণিজ্য বন্ধ হয়েছে, এখন সরকারি টেন্ডার অন লাইনে আহ্বান করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বই ডিজিটাল করা হয়েছে। কোরআন শরীফও অর্থসহ ডিজিটাল করা হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করতে সারাদেশে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এছাড়া ২০১৮ সালের মধ্যে আরও ১০ হাজার শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২১ সালের আগে প্রত্যেক ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হবে এবং ২০১৮ সালের মধ্যে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে যানবহন চলবে।’

ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে রূপকল্প

২০২১ ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পথে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরবে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়। এতে সরকারের ই-সার্ভিসের নানা দিক তুলে ধরা হবে। এ বছর ৪০টিরও বেশি স্টলে সরকারের এসব ই-সার্ভিসের বিষয়গুলো সবার সামনে উপস্থাপন করা হবে।

ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের এবারের প্রতিপাদ্য ‘নন স্টপ বাংলাদেশ’

২০১৮ সালে ১০০ কোটি এবং ২০২১ সালে ৫০০ কোটি ডলারের সফটওয়্যার রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এই প্রদর্শনীর আয়োজন। এবারের ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কোথায় ছিল, কোথায় আছে এবং কোথায় যেতে চায়, সে বিষয়গুলো সম্পর্কে দিক নির্দেশনা পাওয়া যাবে।

ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে সফটওয়্যার প্রদর্শনী, ই-গভর্নেন্স এক্সপোজিশন, মোবাইল ইনোভেশন, ই-কমার্স এক্সপো, স্টার্টআপ জোন ছাড়াও আইটি সংশ্লিষ্ট ১২টি সেমিনার, উন্নয়ন সহযোগীদের নিয়ে সম্মেলন ও আইটি শিক্ষা বিষয়ক সম্মেলন হবে। এতে ৪৩ জন বিদেশি তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ প্রদর্শনীর বিভিন্ন পর্বে অংশ নেবেন। ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে ৪০০ সফটওয়্যার কোম্পানি অংশ নিচ্ছে বলে জানা গেছে। গত রবিবার ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘সেমিনারে বিদেশি তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা তাদের মডেল সম্পর্কে আমাদের জানাবেন। আমরা আমাদের মডেল তাদের দেখাব।’

এবারের ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে প্লাটিনাম পার্টনার হিসেবে থাকছে আইএফআইসি ব্যাংক । সহযোগী পার্টনার হয়েছে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস), বাংলাদেশ উইমেন ইন আইটি, সিটিও ফোরাম বাংলাদেশ, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)ও বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ)।

ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড প্রদর্শনীর সেরা আকর্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি আকর্ষণ হিসেবে থাকবে সফটওয়্যার প্রদর্শনী। এটা এমন একটা প্ল্যাটফর্ম যেখানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য এবং সেবা দর্শনার্থীদের সামনে প্রদর্শন করবে। প্রযুক্তি সেবা ও সফটওয়্যার রফতানি করে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ আয় করে ৩০০ মিলিয়ন ডলার। ২০১৮ সালের মধ্যে এক বিলিয়ন ডলার ও ২০২১ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বেসিস সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশি অনেক প্রতিষ্ঠান দেশের ভেতরে ও বাইরে বিশ্বমানের কাজ করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। ভুটান ও নেপাল সরকারকে ডিজিটাল করতে সহায়তার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ১৮টি দেশের টেলিকম অপারেটরদের জন্য সফটওয়্যার তৈরি করছে বাংলাদেশের একাধিক প্রতিষ্ঠান। এরকম অসংখ্য সফল উদাহরণ তুলে ধরা হবে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে।

ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের এবারের চমক মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক । এবার এতে বিশ্বের সাতটি দেশ অংশ নেবে। তিন দিনের প্রযুক্তির এই মহাযজ্ঞে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় অনেক দিক নিয়ে সেমিনারে আলোচনা করা হবে। এই আয়োজনে থাকবে হাইটেক পার্ক জোনের জন্য বিজনেস মডেল, ই-কমার্স গ্রামাঞ্চলে বিস্তৃত করার উপায়, আইসিটির মাধ্যমে ব্যবসার দক্ষতা অর্জন, আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্প, ডিজিটাল টেক কনফারেন্স, ই-হেলথ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা। অনুষ্ঠানের শেষ দিনে থাকছে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য পুরস্কার বিতরণ।

ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে বাংলাদেশের আরও বেশ কিছু বিষয় বিশ্বের সামনে তুলে ধরা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ই-কমার্স, ই-গভার্নেন্স, মোবাইল ইনোভেশন, স্টার্ট-আপ জোন ইত্যাদি।

ই-কমার্স এ বছরের প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ। বিশ্বায়নের ফলে ব্যবসার এই ধরনটি বর্তমানে অনেক জনপ্রিয়। বাংলাদেশও বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ই-কমার্সে প্রবেশ করেছে। ছোট থেকে বড় সব প্রতিষ্ঠানই এখন এই দিকে ঝুঁকছে। প্রদর্শনীতে এ বছর ই-কমার্সের ১১টি স্টল থাকবে। এছাড়া,থাকবে ৭টি মিনি প্যাভিলিয়ন এবং ৪টি প্যাভিলিয়ন।

অন্যদিকে, বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম একটি সম্ভাবনাময় খাত হলো মোবাইল ইনোভেশন। এ খাতে বাংলাদেশের উন্নতি ক্রমেই বাড়ছে। প্রদর্শনীতে মোবাইল ইনোভেশনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে। ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে এবারই প্রথমবারের মতো স্টার্ট-আপ জোনের আয়োজন করা হচ্ছে। এ জোনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো স্টার্ট-আপগুলোর পণ্য এবং সেবা মানুষের সামনে তুলে ধরার সুযোগ করে দেওয়া।

মতামত