টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রাম ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন: হামজা ব্রিগেডের নেটওয়ার্কে ধস, ২ হোতাকে খোঁজছে র‌্যাব

চট্টগ্রাম, ১৬ অক্টোবর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস)::চট্টগ্রাম ভিত্তিক ওই জঙ্গি সংগঠন শহীদ হামজা ব্রিগেডের জঙ্গি নেটওয়ার্ক ইতোমধ্যে ধসে পড়েছে বলে জানান র‌্যাবের কমান্ডিং অফিসার । আরও জানান, সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দুই হোতার খোঁজে তৎপর রয়েছে চট্টগ্রামের র‌্যাব-৭ এর একটি দল।

উল্লিখিত দুই হোতাদের একজন ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিক’ আল্লামা লিবদি। অপরজন ‘বড় ভাই’ বলে পরিচিত এক মালয়েশিয়া প্রবাসী যার প্রকৃত নাম জানা যায়নি এখনও।

তদন্তকারী দলের সদস্যরা বলছেন, উপর্যুপরি অভিযানে মূল হোতাদের কয়েকজনকে গ্রেফতারের মাধ্যমে শহীদ হামজা ব্রিগেড নামে এ দলের নেটওয়ার্ক ইতোমধ্যে ভেঙে দিয়েছে র‌্যাব। বাকি আছে লিবদিসহ এই দু’জন। দু’জনের ব্যাপারে এখনও বেশ কিছু তথ্য সংগ্রহ করা বাকি রয়েছে বলে জানানো হয়।

র‌্যাব সূত্র জানান, ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠিত দলটির সদস্যরা মূলত জামায়াত, এর সহযোগী সংগঠন শিবির ও হেফাজতে ইসলামের সাবেক সদস্য। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দলটির কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে র‌্যাব নতুন এ জঙ্গি সংগঠনের অস্তিত্ব টের পায়। সেবার গ্রেফতার করা হয়েছিল প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী মোজাহের এবং বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ আনোয়ার।

এ যাবত র‌্যাব এ সংগঠনের ৩৩ জন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে, এদের মধ্যে পাঁচজন দলটির অর্থ যোগানদাতা। একইসঙ্গে আটটি একে-২২ সহ বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদও জব্দ করেছে র‌্যাব। র‌্যাব সূত্র আরও জানান, পাঁচ অর্থ যোগানদাতাদের মধ্যে তিনজন আইনজীবী এবং দু’জন তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী। পাঁচজন এ পর্যন্ত ১ কোটি ৩৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা যোগান দিয়েছে।

র‌্যাব আরও জানায়, অর্থ যোগানদাতা ছাড়াও প্রধান তিন সংগঠককে গ্রেফতারে সমর্থ হয়েছে তারা। এরা হলো মনিরুজ্জামান মাসুদ ওরফে ডন, আজিজ ও শামসু। শামসু এর আগে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল।

র‌্যাবের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, গ্রেফতার হওয়া জঙ্গি ও অর্থ যোগানদাতাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে, দুবাই প্রবাসী আল্লামা লিবদি এ যাবত বেশ ক’বার বাংলাদেশে এসে জঙ্গি কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য অর্থের যোগান দিয়ে গেছেন। তবে তার ব্যাপারে বিস্তারিত জানা এখনও বাকি।

তিনি আরও জানান, লিবদির কথা জানার পর অভিবাসন বিভাগে তার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু উল্লেখযোগ্য কিছু জানা যায়নি। কারণ, তার পাসপোর্ট নাম্বারটি এখনও অজানা আমাদের। তবে সংশ্লিষ্ট মহল গুলোয় আমরা ইতোমধ্যেই তার ব্যাপারে এ যাবত সংগৃহিত তথ্যাদি জানিয়ে দিয়েছি।

‘বড় ভাই’ বলে পরিচিত অপর ব্যক্তি সম্পর্কে র‌্যাবের এই কমান্ডার জানান, আলোচিত এই বড় ভাইও সংগঠনটির অর্থ যোগানদাতাদের একজন। তাই শুধু নয়, সে সদস্যদের নির্দেশনাও দিয়ে থাকে। বেশ কয়েকটি ছদ্মনামে সে পরিচিত। নামগুলো হলো আব্দুল্লাহ, জুনায়েদ ও মাহমুদুল্লাহ।

র‌্যাব কর্মকর্তা সূত্র জানান, বছরের শেষাংশে আক্রমণ চালানোর নীল নকশা চূড়ান্ত করে ফেলেছিল পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকাগুলোয় নিজেরদের কার্যক্রম গোপনে চালিয়ে যাওয়া এই জঙ্গি সংগঠন। ইতোমধ্যে দেশি বিদেশি অর্থ-যোগানদাতাদের সাহায্যে প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ জোগাড় করে রীতিমতো সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে সদস্যদের জঙ্গি অভিযানের জন্য প্রশিক্ষিত করে তোলা হচ্ছিল।

র‌্যাব কমান্ডার মিফতাহ বলেন, গ্রেফতার অর্থ যোগানদাতা তিন আইনজীবীর মধ্যে একজন বিএনপির সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে শাকিলা ফারজানা। মনিরুজ্জামান মাসুদ ওরফে ডন তার ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিতে এ তথ্য জানায়। ডন জানায়, শাকিলা ফারজানা তার ব্যাংক অ্যকাউন্টনে বিপুল অংকের টাকা পাঠিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, একের পর এক মোট ১০টি অভিযান চালায় র‌্যাব। এগুলো মধ্যে ২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি হাটহাজারী উপজেলার আল মাদরাসাতুল আবু বকরে অভিযান চালায় র‌্যাব। এটি ছিল শহীদ হামজা ব্রিগেডের তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এর তিনদিন পর ২১ ফেব্রুয়ারি অভিযান চালানো হয় বাঁশখালী উপজেলার লটমনি পাহাড় এলাকার জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে।

উল্লিখিত দুটি স্থানে সফল অভিযান পরিচালনা করার পর নগরীর হালিশহর এলাকার এক ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ জব্দ করে র‌্যাব।

অভিযানের পর হাটহাজারী, বাঁশখালী ও হালিশহর থানায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করে র‌্যাব। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তিন আইনজীবীসহ অবশিষ্ট গ্রেফতারকৃতদের অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্রও আদালতে উপস্থাপন করা হয়। – বাংলা ট্রিবিউন

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত