টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছবে সম্পর্ক

চট্টগ্রাম, ১৬ অক্টোবর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: দারিদ্র্য জয়ের স্বীকৃতির পর বহুমুখি দাতা সংস্থা বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম বাংলাদেশ সফরে এসেছেন। তিনদিনের এ সফরের মাধ্যমে পূর্বের সব তিক্ততা ভুলে সহযোগিতামূলক সম্পর্কে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, দেশের অবকাঠামোসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে এখনো অনেক অর্থ বিনিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। এক্ষেত্রে বিশ্ব ব্যাংক দেশের উন্নয়নে সবচেয়ে বড় অংশীদার। এ অবস্থায় জিম ইয়ং কিমের এই সফর মধ্য আয়ের দেশের জন্য আশির্বাদ হতে পারে ।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিশ্ব ব্যাংক বরাবরই বাংলাদেশের বড় সহযোগী সংস্থা। মাঝে পদ্মা সেতুসহ অন্যান্য কিছু বিষয় নিয়ে একটু মনোমালিন্য হয়েছে বলে বলা হলেও সহায়তা কিন্তু হ্রাস পায়নি। তার মানে যে যাই বলুক সম্পর্কে কোন ভাটা পড়েছিল বলে আমার মনে হয় না।

তিনি বলেন, কিমের এই সফর অত্যন্ত ইতিবাচক। দারিদ্র্য বিমোচনসহ মধ্য আয়ের দেশ গড়ার সরকারের যে প্রতিশ্রুতি তা পূরণে অবকাঠামোসহ অন্যান্য দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন বিশাল পরিমাণ বিনিয়োগ। আর বৈদেশিক অর্থায়নের জন্য বিশ্ব ব্যাংক এখনো বড় মাধ্যম। কিমের এই সফর মাধ্যমকে কাজে লাগানোর পথ আরো প্রশস্ত করবে।

উল্লেখ, দারিদ্র্য বিমোচনে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশ অনেক ভালো করছে। দেশে দারিদ্র্যের হার ১২ শতাংশে নেমে এসেছে, আগামীতে তা আর কমে আসবে। সংস্থাটির সম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই স্বীকৃতি দিয়েছে। এর পরপরই বাংলাদেশের দারিদ্র্যের সাফল্য দেখতে এই সফরে এলেন কিম। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের কোন প্রেসিডেন্টের ১০ বছর পর বাংলাদেশ সফরে আসা।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস জানায়, তিনদিনের সফরের কর্মসূচির মধ্যে আজ সোমবার ‘বিশ্ব দারিদ্র্য বিমোচন দিবস’-এ দারিদ্র্য বিমোচন নিয়ে একটি ‘পাবলিক লেকচার’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট।

এছাড়া অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদরা বক্তব্য দেবেন।

ঢাকায় অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন কিম। পাশাপাশি বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে বরিশালের কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পও ঘুরে দেখবেন তিনি। ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্ব থেকে অতিদারিদ্র্য শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনতে চান সংস্থাটি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ রোল মডেল হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ব ব্যাংকও বিষয়টি ইতিবাচক নিয়ে দেশের উন্নয়নে আরো বেশি সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিতে পারেন। এ প্রসঙ্গে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, পদ্মা সেতু থেকে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন প্রত্যাহার করার পর সংস্থাটির প্রেসিডেন্টের এই সফর প্রমাণ করে বাংলাদেশ এখন আর আগের অবস্থানে নেই। সংস্থাটির কাছে বাংলাদেশের যে কদর বেড়েছে সে সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে উন্নয়নে বিশ্ব ব্যাংকের সম্পৃক্ততা আরো বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উন্নয়নে বাংলাদেশে নিজেদের বিনিয়োগ আরো বাড়াতে চায় সংস্থাটি। এক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষমতা বাড়ানোর উপর জোর দিচ্ছে তারা।

এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচনের পদক্ষেপগুলো বিশ্বব্যাপী তুলে ধরতেই ঢাকায় এসেছেন বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট। দুই দশকে বাংলাদেশে শুধু আয়ের প্রবৃদ্ধিই বাড়েনি, অন্যান্য ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে।

তবে এতে আত্মতৃপ্তির সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আরো অনেক পথ এগোতে হবে। কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধির জন্য টেকশই উন্নয়ন জরুরি। টেকশই উন্নয়ন না হলে এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হবে না। এ অবস্থায় নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর উপর জোর দেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, দুই দশকে বাংলাদেশে শুধু আয়ের প্রবৃদ্ধিই বাড়েনি, অন্যান্য ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে। দারিদ্র্য বিমোচনে ব্যাপক উন্নতি করেছে। আমরা অতিদারিদ্র্য শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে চাই। এক্ষেত্রে উন্নয়ন সহযোগিদের সহায়তা জরুরি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক সব সময় ভালো ছিল। বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্টের সফর এই সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত