টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বিএনপির প্রধান আগ্রহ এড়িয়ে গেলেন জিনপিং

চট্টগ্রাম, ১৫ অক্টোবর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):: বিদেশি রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সব বৈঠকেই বিএনপি নেতারা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তাদের দাবির পক্ষে সহযোগিতা চেয়ে আসছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর সঙ্গে বৈঠকেও খালেদা জিয়া দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা তুলেছিলেন বলে জানিয়েছেন বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা। তবে এ বিষয়ে আলোচনায় আগ্রহ দেখাননি জিনপিং।

রাষ্ট্রীয় প্রটোকলে না থাকলেও বাংলাদেশ সফরে এসে খালেদা জিয়াকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির মতোই সাক্ষাৎ দিয়েছেন চীনা রাষ্ট্রপ্রধান। জন কেরির সঙ্গে বৈঠকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে সহযোগিতা চান বিএনপি নেতারা। বৈঠক শেষে সে কথা গোপনও করেননি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে রাজনীনৈতিক অঙ্গনে বিপাকে পড়া দলটির নেতারা।

চীনা রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকেও খালেদা জিয়া তার ৪০ মিনিটের বৈঠকের এক ফাঁকে গত নির্বাচনের পর দেশ ‘গণতন্ত্রহীন’ অবস্থায় আছে বলে দাবি করেন বলে জানান বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা। পাশাপাশি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিও তুলে ধরেন তিনি।

ওই বৈঠকে থাকা এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকাটাইমকে বলেন, ‘ম্যাডামের এই বক্তব্যের জবাবে চীনা প্রেসিডেন্ট সরাসরি কোনো কথা বলেননি। তিনি কেবল বলেছেন, তার দেশ শান্তিপূর্ণ বিশ্ব ও বাংলাদেশ দেখতে চায়।’

বিএনপির পক্ষ থেকে লিখিত কিছু ছিল না

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়ালসহ প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কূটনৈতিকদের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে বেশ কিছু তথ্য উপাত্ত দেয়া হয়েছে। কখনো দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নেতাকর্মীদের কথিত গুম, খুন, জেল জুলুমের পরিসংখ্যানও দেয়া হতো। কখনো কখনো অতিথিদের বিশেষ কোনো উপহারও দেয়া হতো। তবে জিনপিংএর সঙ্গে এবার এমন কিছু দেয়া হয়নি।

জানতে চাইলে বৈঠকে থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কেবল আলোচনা হয়েছে। কিছু দেয়া হয়নি।’

বৈঠক শেষে চীনের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য দেয়া হয়নি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ বিষয়ে কেবল বলেছেন, ‘চীনের মাননীয় প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ সব সময় আশা করে, চীন তাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সব সময় সহযোগিতা করবে ও পাশে থাকবে।

‘একই সঙ্গে চীনও আশা করে, চীনের যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে চীন যে ভূমিকা পালন করছে, বিশেষ করে উন্নয়ন ক্ষেত্রে, তাতে বাংলাদেশ জোরালো সমর্থন যোগাবে’- বলেন ফখরুল।

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা বৈঠকে উঠে এসেছে এমনটা জানিয়ে তিনি বলেন, চেয়ারপারসন বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের অকৃত্রিম সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। চীন বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অকৃত্রিম বন্ধু।

তবে দুই পক্ষের মধ্যে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে কোনো কথা হয়েছে কি না জানতে চাইলে কোনো জবাব দেননি।

বৈঠকের আর কোনো বিষয়ে কথা হয়েছে কি না জানতে চাইলে সেখানে উপস্থিত দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘যা আলোচনা হয়েছে তা মহাসচিব বিস্তারিত বলেছেন। এতটুকুই।’

আর স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের বাইরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পারস্পরিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’

খালেদাকে সাক্ষাৎ দেয়াতেই খুশি বিএনপি

চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দলের প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার সাক্ষাতকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে বিএনপি। নেতাকর্মীরা মনে করছেন, ক্ষমতার বাইরে থাকলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গণে বিএনপি এখনো আগের অবস্থানেই আছে। ফলে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বাংলাদেশ সফরে এলে বিএনপিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনের পর ৯১ সালের পর থেকে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের বাইরে চলে যান খালেদা জিয়া। এ কারণে গত বছর মে মাসে বাংলাদেশ সফরে আসা চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী লিউ ইয়ানদং খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি। এরপর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনায় পড়তে হয় দলের কূটনৈতিক কোরের সদস্যদের।

তবে সম্প্রতি সফর করে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সঙ্গে বিএনপি-প্রধানের বৈঠকের পর বিএনপিতে কিছুটা স্বস্তি ফেরে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রীর সফরের মতো ঘটনা যাতে দেশটির প্রেসিডেন্টের বেলায় না ঘটে সেজন্য আগেভাগেই সাক্ষাতের চেষ্টা চালায় বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে বেশ কয়েকদিন আগে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশে চীনা দূতাবাসে সাক্ষাতের সুযোগ চেয়ে দলের পক্ষ থেকে চিঠি পৌঁছে দেন।

ওই সময়ই দূতাবাসের পক্ষ থেকে সাক্ষাতের আশ্বাস পায় বিএনপি। যে কারণে এবার সাক্ষাত হবে কি হবে না এ নিয়ে খুব বেশি আলাপ আলোচনা ছিল না।- ঢাকাটাইমস

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত