টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাঙ্গুনিয়ার ঐতিহ্যবাহী আশুরা মেলা ও জারি গানের আসর

আব্বাস হোসাইন আফতাব
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি 

rangunia-asura-melaচট্টগ্রাম, ১২ অক্টোবর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস): পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়ার ঐতিহ্যবাহী আশুরা মেলা ও জারি গানের আসর বুধবার (১২ অক্টোবর) পূর্ব সৈয়দবাড়ি রাহাতিয়া দরবারের দীঘির পাড় ঘিরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রচন্ড বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার শিশুসহ সব বয়সীরা অংশ নেয় দেড়শত বছরের পুরনো দিনব্যাপী এ মেলাতে। বিলুপ্তির পথে গ্রামীণ জারি গানের আসরও বসে মেলায়। সন্ধ্যায় কারবালার প্রান্তরে হযরত মুহাম্মদ(দ:) এর দৌহিত্র ইমাম হোসাইন(রা:) এর শহীদ ও কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনা বর্ণনা করে জারি গান করেন স্থানীয় গায়করা। বৈরি আবহাওয়ার কারণে এবার লোক সমাগম কম হয়েছে বলে জানান মেলায় আগতরা। শেষ বিকেলে বৃষ্টি কমে যাওয়ায় ক্রেতার ভিড় বেড়ে যায়। দোকানীদের এসময় পন্য বিক্রি করতে হিমশিম খেতে হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

পূর্ব সৈয়দবাড়ি রাহাতিয়া দরবারের সাজ্জাদানশীন সৈয়্যদ মুহাম্মদ ওবাইদুল মোস্তফা নঈমী জানান, আমার দাদা বড় হুজুর কেবলার আমলে এখানে ১০ মহরম কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনা নিয়ে জারি গান হতো। জারি গানে লোকজন সমবেত হলে এখানে ছোট ছোট খাবারের দোকান বসত। পরবর্তীতে এটি মেলাতে রূপ নেয়। তবে এখানে শত বছর শত বছর আগে দরবার এলাকায় শোহাদায়ে কারবালা মাহফিল হতো। ১০ মহরম মাহফিলে শরবত ফাতেহা দরবারের এটি ঐতিহ্য। এটার প্রচলন এখনো রয়েছে।

মেলায় আসায় মরিয়ম নগরের বাসিন্দা করিম উদ্দিন হাছান (৩৮)জানান, ছোটদের জন্য আকর্ষনীয় ঐতিহ্যবাহী আশুরা মেলা । প্রতি বছর ১০ মহরম মেলা বসলে ছোটদের অংশ গ্রহন চোখে পড়ার মতো। এবার প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে মেলায় শিশুদের অংশগ্রহণ কম হয়েছে।

সরফভাটা থেকে মেলায় আসা মো. শিমুল (২৪) জানান, প্রতি বছরের মতো তিনি এবছর মেলায় এসেছেন। আবহাওয়া খারাপ থাকায় তিনি মেলায় এবার একটু দেরিতে এসেছেন। পরিবারের ছোট সদস্যদের চাহিদামতো খেলনা কিনেছেন। বাড়ির সবার জন্য খাবার জিনিসও নিয়েছেন।

তবে মেলায় এবার লোকজন কম হয়েছে বলে জানান তিনি ।

রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৯ ওর্য়াড কাউন্সিল মো. লোকমানুল হক তালুকদার জানান, তার এলাকায় প্রতি বছর মেলা বসে। তিনি র্দীঘদিন এ মেলার আয়োজকদের বিভিন্ন রকম সহায়তা করে আসছেন। এবারও তিনি মেলায় তিনি উপস্থিত থেকে সহায়তা করে আসছেন।

মরিয়ম নগর ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মো. সেলিম জানান, মেলার আইন শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে প্রতি বছর মেলার শেষ পর্যন্ত তদারকি করতে হয়। মেলায় যাতে গন্ডগোল না হয় এবারও তিনি শেষ পর্যন্ত ছিলেন। মেলায় বসা দোকানীদের কাছ থেকে তেমন টাকা পয়সা নেওয়া হয়না জানিয়ে তিনি বলেন স্থানীয় মসজিদের উন্নয়ন কাজের জন্য ১০/২০ টাকা নেওয়া হয়। তবে যারা দিতে চায়না তাদের কাছ থেকে জোর করে নেওয়া হয়না।

মেলায় দায়িত্বরত রাঙ্গুনিয়া থানার এস. আই মো. রাশেদ বলেন, শত শত বছরের পুরনো এ মেলায় নির্বিঘেœ লোকজন যাতায়তে পুলিশ সজাগ ছিল। ঐতিহ্যবাহী এ মেলায় আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক ছিল। প্রচুর বৃষ্টি হলেও লোকজন সমাগমের কমতি ছিলনা।

মতামত