টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

লাখো ভক্তের উপস্থিতিতে চট্টগ্রামে প্রতিমা বিসর্জন

ছবি সিটিজি টাইমস

ছবি সিটিজি টাইমস

চট্টগ্রাম, ১১ অক্টোবর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস): বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিসর্জন শুরি হয়। দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাতে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে ভিড় করেছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লাখো ভক্ত অনুরাগীরা।

মহাদশমীতে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হচ্ছে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গাপূজা। এদিকে দুর্গার বিদায় উপলক্ষ্যে সকাল থেকে বিদায়ের সুর বেজে উঠে বিভিন্ন ম-পে।

প্রতিমা বিসর্জনের জন্য সকাল ১১টা থেকে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন পূজা ম-প থেকে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে বিজয়া শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে ট্রাক ও পিকআপে করে প্রতিমা নিয়ে পতেঙ্গা সৈকত ও কর্ণফুলী নদীর ঘাটে নিয়ে আসতে থাকেন পূজারী ও ভক্তরা। এরপর শুরু হয় সাগরে একে একে প্রতিমা বিসর্জনের পালা।

শঙ্খ উলুধ্বন্নির পাশাপাশি বাদ্যের ঘণ্টা বাজিয়ে একের পর এক প্রতিমা ভাসিয়ে দেওয়া হয় সাগরে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত কয়েকশ প্রতিমা ভাসিয়ে দেয়া হয় সাগরে।

প্রতিমা নিরঞ্জন উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের তত্ত্বাবধানে এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়।

বিকেল ৩টার দিকে চসিক মেয়র আ জ ম নাছির প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন। এসময় তিনি সবাইকে শারদীয় শুভেচ্ছার পাশাপাশি শান্তির্পূর্ণভাবে প্রতিমা বিসর্জন দেয়ায় সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

এদিকে প্রতিমা ভাসানোকে ঘিরে লাখো ভক্তের নিরাপত্তা এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কয়েকশ র‌্যাব-পুলিশ মেতায়েনের মাধ্যমে কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরী করা হয়েছে পতেঙ্গা এলাকায়।

পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর মাহমুদ জানান, শান্তিপূর্ণভাবে সাগরে প্রতিমা বিসর্জন দিচ্ছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। নির্বিঘেœ প্রতিমা বিসর্জনের জন্য সৈকত ও আশপাশ এলাকায় অতিরিক্ত র‌্যাবপুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পতেঙ্গ সমুদ্র সৈকত ছাড়াও আনোয়ার পার্কি সমুদ্র সৈকত, দক্ষিণ কাট্টলীর রানি রাসমনি বারুনী স্নান ঘাট, কর্ণফুলী নদীর পাথরঘাটা গঙ্গাবাড়ি সীতাকু- সদরের দীঘি, হাটহাজারীর চৌধুরী হাট, রাউজান প্রসন্ন প্রাইমারি স্কুল, তেওয়ারী পুকুর, ফৌজদার হাট সমুদ্র সৈকত, চন্দনাইশের শঙ্খ নদ, লোহাগাড়ার ডলু নদ, বান্দরবানের সাঙ্গু নদ, চকরিয়ার মাতামুহুরী নদ, রামুর বাকখালী নদী এবং অন্য পূজাম-পের পার্শ্ববর্তী দীঘি ও পুকুরগুলোতে প্রতিমা নিরঞ্জন দেয়া হয়।

এদিকে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি শ্যামল পালিত বলেন, এবার শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘেœ এবংশান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, সপ্তমীর দিন থেকে ভক্তের দল বিভিন্ন পূজাম-পে গিয়ে দেবী দর্শন করে।

প্রতিমা নিরঞ্জন অনুষ্ঠানে জেলা নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রতিমা নিরঞ্জন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। দক্ষিণ রাউজান পূজা উদ্যাপন পরিষদের প্রতিমা নিরঞ্জন অনুষ্ঠান গশ্চি গঙ্গা মন্দির প্রাঙ্গণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী শ্যামল কুমার পালিত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি নিরূপম দাশ গুপ্ত। প্রকাশ শীলের সভাপতিত্বে নিরঞ্জন অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন দক্ষিণ রাউজান পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মেলকম চক্রবর্ত্তী।

জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অসিম কুমার দেব ও সাংগঠনিক সম্পাদক কল্লোল সেন, আহ্বায়ক দোলন মজুমদার আনোয়ারা উপজেলায় প্রতিমা নিরঞ্জন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সীতাকুন্ড প্রতিমা নিরঞ্জন র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেন জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সদস্য ও সীতাকুন্ড উপজেলার সভাপতি অধ্যাপক রঞ্জিত সাহা ও সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার বনিক।

মীরসরাই উপজেলায় প্রতিমা নিরঞ্জন অনুষ্ঠান পর্যবেক্ষণ করেন বিপুল কান্তি দত্ত, উত্তম শর্মা, ফটিকছড়িতে রতন চৌধুরী, বিজয় গোপাল বৈষ্ণব, ভুজপুরে বাবুল দে, লিংকন চক্রবর্ত্তী, বোয়ালখালীতে অজিত বিশ্বাস, লিটন শীল ও সুনিল ঘোষ, সাতকানিয়াতে রাজীব দাশ, কাঞ্চন ভট্টাচার্য ও সাগর নন্দী, পটিয়ায় রনধীর চক্রবর্ত্তী, রূপক শীল ও দীলিপ ঘোষ, লোহাগাড়ায় মাস্টার প্রদীপ দাশ, নিবাস দাশ সাগর, চন্দনাইশে উৎপল রক্ষিত, বলরাম চক্রবর্ত্তী, বিষ্ণুযশা চক্রবর্ত্তী, বাঁশখালীতে প্রদীপ গুপ্ত ও রাখেশ দাশগুপ্ত, রাঙ্গুনিয়ায় এড. পঙ্কজ চৌধুরী ও শৈবাল চক্রবর্ত্তী, রাউজানে প্রিয়তোষ চৌধুরী ও সুমন দে, হাটহাজারীতে মাস্টার পরিমল দে, অলক মহাজন, রিমন মহুরী, সন্দ্বীপে গোপাল চন্দ্র দাশ ও চন্দন মজুমদার প্রমুুখ।

এ বছর চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২৩১টি পূজাম-পে দুর্গাপূজা হয়েছে। নগরীর বাইরে এবার চট্টগ্রাম জেলার ১৪ উপজেলা ও দুটি থানায় ১৪৩৯টি মন্ডপে প্রতিমা পূজা ও পারিবারিকভাবে ২৫০টি ঘটপূজা হয়েছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত