টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

টেকনাফ-মংডু অভিবাসন ও ট্রানজিট বন্ধ

কক্সবাজার ব্যুরো অফিস
সিটিজি টাইমস ডটকম 

চট্টগ্রাম, ১০ অক্টোবর ২০১৬ (সিটিজি টাইমস):  মিয়ানমারের মংডুতে বর্ডার গার্ড পুলিশের তিনটি পোস্টে হামলার পর টেকনাফ-মংডু অভিবাসন ও ট্রানজিট যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে বাড়ানো হয়েছে বিজিবি টহল। জারী করা হয়েছে অতিরিক্ত সতর্কতা।

অনাকাংখিত ঘটনা এড়াতে টেকনাফের নাফ নদীতে মৎস্য শিকারের উপর মৌখিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বিজিবি।

টেকনাফস্থ বিজিবি ২ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্ণেল আবুজার আল জাহিদ জানান, মংডুস্থ কাউয়ারবিল বিজিপি সদর দফতর থেকে হামলাকারীরা যাতে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারে বিজিবির সহায়তা কামনা করা হয়েছে। তাদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে বিজিবি সীমান্তে টহল বৃদ্ধি করেছে। অনাকাংখিত ঘটনা এড়াতে নাফ নদীতে জেলেদের মৎস্য শিকারে মৌখিক নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়েছে।

টেকনাফ স্থল বন্দরের অভিবাসন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব) আনোয়ার হোসেন জানান, রবিবার থেকে মিয়ানমার হতে কোন অভিবাসন যাত্রী বাংলাদেশে আসেনি এবং বাংলাদেশ হতে মিয়ানমারে কোন যাত্রী গমন করেনি। এছাড়া টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরী পাড়া ট্রানজিট জেটি দিয়ে পারাপার বন্ধ আছে।

টেকনাফ স্থল বন্দর কাস্টমস কর্মকর্তা আব্দুল মন্নান জানান, মিয়ানমারের পন্যবাহী কোন ট্রলার স্থল বন্দরে প্রবেশ করেনি।

টেকনাফে বিজিবির একটি সুত্র জানায়, রোববার ভোররাতে গোলাগুলির শব্দ শোনার পর তারা দোভাষীর মাধ্যমে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন। মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী থেকেও তাদের জানানো হয়েছে যে তাদের কিছু আউটপোস্টে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে এবং সন্ত্রাসীরা যাতে বাংলাদেশে ঢুকতে না পারে সেজন্য ব্যবস্থা নেয়ারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সীমান্তে বিভিন্ন সুত্র জানিয়েছেন, মিয়ানমারের মংডুতে বর্ডার গার্ড পুলিশের তিনটি পোস্টে হামলা অজ্ঞাতনামা গোষ্ঠির হামলার ঘটনায় বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ৯ সদস্য, ৫ জন হামলাকারীসহ ১৪ জন নিহত হয়েছে। হামলার শিকার ক্যাম্প তিনটি হচ্ছে, কাউয়ারবিল তানাইংসুক, নাফফোরা ও রাসিডং। হামলার পর বর্তমানে মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষি বাহিনীর শত শত সদস্য ঘটনাস্থলে পৌছেছে এবং বিভিন্ন বাড়ি ঘরে তল্লাশী অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। রোববার ভোররাতে হামলার পর মংডুসহ আরাকান রাজ্যে সন্ধা ৭টা হতে ভোর ৬টা পর্যন্ত জরুরী অবস্থা জারী করা হয়েছে। সর্বত্র থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। গণতান্ত্রিক সরকারের ক্ষমতার এই সময়ে কারা হামলা চালিয়েছে সেটি এখনও পরিষ্কার নয়।

তবে, ঘটনার সাথে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন রোহিঙ্গ সলিডারিটি অরগানাইজেশন (আরএসও), আরাকান আর্মি (এএ) ও আরাকান লিবারেশন ফোর্স সম্পৃক্ত থাকতে পারে বলে প্রকাশ করেছে।

আবার এই ঘটনা মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও পুলিশের অভ্যন্তরীণ ঘটনা বলেও দাবি করা হয়েছে কোন কোন মাধ্যমে।

সে দেশের অনেকেই দাবী এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে তা মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয় এবং মুসলিমদের উপর অমানবিক নির্যাতন করে তাদের দেশ ত্যাগে বাধ্য করা হয়। আর ওসব ঘরবাড়িতে মিয়ানমারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনেই রাখাইন লোকজন আগুন ধরিয়ে দেয়। গত রোববার সকাল থেকে ঘটনার আশপাশের এলাকার লোকজন (রোহিঙ্গারা) প্রাণ ভয়ে ঘরবাড়ি ও ভিটেমাটি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে শুরু করেছে। অপর একটি সূত্র মতে, মিয়ানমারে ২০১২ সালের জুন মাসে শুরু হওয়া জাতিগত দাঙ্গার পর ‘নাইন-সিক্স’ নামের একটি বুড্ডিস্ট সংগঠন রাখাইন রাজ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছিলো। যাদের সাথে সেনাবাহিনীর সু-সম্পর্কও ছিলো। মিয়ানমারের অংসান সুচি’র দল লীগ ফর ডেমুক্রেসি ক্ষমতায় আসার পর এই ‘নাইন-সিক্স’ গ্রুপের ক্ষমতা খর্ব হতে থাকে। জাতিগত দাঙ্গা বাঁধিয়ে এগ্রুপটি আবোরো ক্ষমতার অপব্যবহার করতে এ হামলা চালিয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

গতকাল সকালে কাউয়ার বিলের একটি পাড়ার রোহিঙ্গা বসতিতেও সরকারি বাহিনী হামলা চালায়। আরাকানের রোহিঙ্গারা জানিয়েছে, ঘটনার পর সেখানকার গ্রামগুলোতে শত শত সেনা টহল দিচ্ছে। কোনো লোকজনকে ঘরের বাইরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, ‘আমরা সবর্তোভাবে সতর্ক রয়েছি। আমাদের সীমান্ত দিয়ে কোনো বিদেশি লোকজন যাতে অনুপ্রবেশ করতে না পারে সে জন্য সবাইকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।’

উেেল্লখ্য, মিয়ানমারের এই রাখাইন রাজ্যে বৌদ্ধ ও মুসলিম রোহিঙ্গাদের মধ্যে জাতিগত সহিংসতায় বহু মানুষ নিহত হয়েছে। এছাড়া বাড়িঘর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা।

মতামত